বাংলাদেশ, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
১৩ কার্তিক ১৪৩৩ | সময়:
admin
৮ মে ২০২৩, ৮:০৫ অপরাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ

প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক সমরেশ মজুমদার আর নেই

ডেস্ক রিপোর্ট: প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক সমরেশ মজুমদার আর নেইপ্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক সমরেশ মজুমদার কলকাতা: বাংলা সাহিত্যের নক্ষত্রপতন। চলে গেলেন অনিমেষ, মাধবীলতার স্রষ্টা।

না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন প্রবাদপ্রতিম কথাসাহিত্যিক সমরেশ মজুমদার।
গত বেশ কিছু দিন ধরেই সিওপিডির সমস্যায় ভুগছিলেন তিনি। সোমবার (৮ মে) কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ৪৫ নাগাদ শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করলেন তিনি। তার বয়স হয়েছিল ৭৯ বছর।

বেশ কিছুদিন ধরে ফুসফুস ও শ্বাসনালির সংক্রমণের কারণে তাকে কলকাতার অ্যাপোলো হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। তার রক্তে কার্বন ডাই অক্সাইডের মাত্রাও বেড়ে গিয়েছিল বলে জানা গিয়েছিল হাসপাতালের সূত্র। তিনি ভর্তি ছিলেন হাসপাতালের আইসিইউতেও।

‘সাতকাহন’ থেকে ‘গর্ভধারিনী’, ‘উত্তরাধিকার’, ‘কালবেলা’, ‘কালপুরুষ’, অর্জুন, মেজরের অ্যাডভেঞ্চারসহ বাংলা সাহিত্যের একের পর এক ক্লাসিক সৃষ্টির রূপকার তিনি।

জন্ম ১৯৪৪ সালের মার্চ মাসে। তখনও পুরোদমে চলছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ। যার ছাপ খানিক পড়েছিল উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন পাহাড়ি অঞ্চলেও। এই উত্তরবঙ্গের ডুয়ার্সেই কেটেছে সমরেশ মজুমদারের ছাত্রজীবন। তার গল্পে, উপন্যাসে বারবার ঘুরেফিরে এসেছে উত্তরবঙ্গের অনন্য সৌন্দর্য। জলপাইগুড়ি জেলা স্কুলে পড়েছেন। তারপর চলে আসেন কলকাতায়। ভর্তি হন স্কটিশচার্চ কলেজে। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের ছাত্র ছিলেন তিনি। পরে স্নাতকোত্তরে পড়েন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে।

লেখালেখির জগতেও প্রবেশ বাংলার একটি বিখ্যাত পত্রিকার হাত ধরে। প্রথম লেখা প্রকাশ ওখানেই। পরে কর্মসূত্রেও জড়িয়ে ছিলেন বাংলার একটি প্রথমসারির পত্রিকা গোষ্ঠীর সঙ্গে। তবে সমরেশ মজুমদারকে একধাক্কায় খ্যাতির আলোয় নিয়ে আসে তার বিখ্যাত ‘ট্রিলজি’। ‘উত্তরাধিকার’ যার প্রথম খণ্ড। পরের খণ্ড ‘কালবেলা’ আজও বাংলা সাহিত্যের অন্যতম আধুনিক ক্লাসিক বলে স্বীকৃত। কলকাতার উত্তাল নকশাল আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে লেখা স্লোগান, বিপ্লব, রক্ত, বোমা ও প্রেমের এক তোলপাড় ফেলা কাহিনীর জন্য ১৯৮৪ সালে সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কারে সম্মানিত করা হয় তাকে।

বিপ্লব, সংগ্রাম ও জীবনকে অন্যভাবে যাপনের কাহিনী কখনও তিনি ছেড়ে যাননি। তার ‘গর্ভধারিনী’ উপন্যাস কার্যত বৈপ্লবিক। সমাজতন্ত্র, সমাজ পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে হিমালয়ের কোলে, সান্দাকফু পেরিয়ে এক বরফঢাকা গ্রামে নিয়ে গিয়েছিলেন তাঁর উপন্যাসের তরুণ চরিত্রদের। গোয়েন্দা-গল্পেও তিনি ছিলেন সিদ্ধহস্ত।

তার লেখা অর্জুনের গল্পে বিভোর থেকেছে পাঠকরা। বাংলা সাহিত্যে গোয়েন্দা কম নেই। ফেলুদা, ব্যোমকেশ সবাই সক্রিয়ভাবে বিরাজ করছেন আজও। কিন্তু, সবাই কলকাতায় থাকেন। রহস্য ধরতে হিল্লি-দিল্লি যান। সেখানে সমরেশের গল্পের গোয়েন্দা, তথা, সত্যসন্ধানী অর্জুন জলপাইগুড়ির ছেলে। কলকাতাতেও কেস সলভ করতে আসেন। কিন্তু তার আসল জায়গা জলপাইগুড়ি।

মফঃস্বল শহর, তার মানুষ, জলপাইগুড়ির আশেপাশে তিস্তা, তোর্সা ইত্যাদি নদী ছাড়িয়ে জলদাপাড়া, মাদারিহাট, বীরপাড়া, মালবাজার, রাজাভাতখাওয়া, হলং, গরুমারা ইত্যাদি ডুয়ার্সের বিস্তীর্ণ পাহাড় জঙ্গলে আর চা বাগানে ঘেরা এক প্রাকৃতিক পরিবেশে গজিয়ে ওঠে নানা ভয়ানক রহস্য।

‘খুঁটিমারি রেঞ্জ’, ‘খুনখারাপি’, ‘কালিম্পং-এ সীতাহরণ’ ইত্যাদি গল্পে দুরন্ত রহস্য সমাধান করে অর্জুন। তার লাল মোটরবাইক কার্যত এক ‘আইকনিক’ অংশ হয়ে ওঠে গল্পের। লেখক অর্জুনকে শুধু বাংলাতেই আটকে রাখেননি। নিয়ে গিয়েছিলেন আমেরিকাতে, অর্জুন কেস ধরেছে একেবারে নিউ ইয়র্ক সিটিতে।

উত্তরবঙ্গের সমস্ত সৌন্দর্য, আবেগ, রহস্য ধরা দিত তার কলমে। কলকাতাবাসী বহু পাঠক তাঁর লেখাতেই চিনেছিল জলপাইগুড়ি শহরের কদমতলা, রূপমায়া সিনেমা, হাকিমপাড়া, শিল্পসমিতিপাড়া, রায়কতপাড়া।

দীর্ঘদিনের অসুস্থতার কাছে হার মানল সেই সমরেশ।

বাংলা সাহিত্যের নক্ষত্রপতন। চলে গেলেন অনিমেষ, মাধবীলতার স্রষ্টা।

না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন প্রবাদপ্রতিম কথাসাহিত্যিক সমরেশ মজুমদার।
গত বেশ কিছু দিন ধরেই সিওপিডির সমস্যায় ভুগছিলেন তিনি। সোমবার (৮ মে) কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ৪৫ নাগাদ শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করলেন তিনি। তার বয়স হয়েছিল ৭৯ বছর।

বেশ কিছুদিন ধরে ফুসফুস ও শ্বাসনালির সংক্রমণের কারণে তাকে কলকাতার অ্যাপোলো হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। তার রক্তে কার্বন ডাই অক্সাইডের মাত্রাও বেড়ে গিয়েছিল বলে জানা গিয়েছিল হাসপাতালের সূত্র। তিনি ভর্তি ছিলেন হাসপাতালের আইসিইউতেও।

‘সাতকাহন’ থেকে ‘গর্ভধারিনী’, ‘উত্তরাধিকার’, ‘কালবেলা’, ‘কালপুরুষ’, অর্জুন, মেজরের অ্যাডভেঞ্চারসহ বাংলা সাহিত্যের একের পর এক ক্লাসিক সৃষ্টির রূপকার তিনি।

জন্ম ১৯৪৪ সালের মার্চ মাসে। তখনও পুরোদমে চলছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ। যার ছাপ খানিক পড়েছিল উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন পাহাড়ি অঞ্চলেও। এই উত্তরবঙ্গের ডুয়ার্সেই কেটেছে সমরেশ মজুমদারের ছাত্রজীবন। তার গল্পে, উপন্যাসে বারবার ঘুরেফিরে এসেছে উত্তরবঙ্গের অনন্য সৌন্দর্য। জলপাইগুড়ি জেলা স্কুলে পড়েছেন। তারপর চলে আসেন কলকাতায়। ভর্তি হন স্কটিশচার্চ কলেজে। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের ছাত্র ছিলেন তিনি। পরে স্নাতকোত্তরে পড়েন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে।

লেখালেখির জগতেও প্রবেশ বাংলার একটি বিখ্যাত পত্রিকার হাত ধরে। প্রথম লেখা প্রকাশ ওখানেই। পরে কর্মসূত্রেও জড়িয়ে ছিলেন বাংলার একটি প্রথমসারির পত্রিকা গোষ্ঠীর সঙ্গে। তবে সমরেশ মজুমদারকে একধাক্কায় খ্যাতির আলোয় নিয়ে আসে তার বিখ্যাত ‘ট্রিলজি’। ‘উত্তরাধিকার’ যার প্রথম খণ্ড। পরের খণ্ড ‘কালবেলা’ আজও বাংলা সাহিত্যের অন্যতম আধুনিক ক্লাসিক বলে স্বীকৃত। কলকাতার উত্তাল নকশাল আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে লেখা স্লোগান, বিপ্লব, রক্ত, বোমা ও প্রেমের এক তোলপাড় ফেলা কাহিনীর জন্য ১৯৮৪ সালে সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কারে সম্মানিত করা হয় তাকে।

বিপ্লব, সংগ্রাম ও জীবনকে অন্যভাবে যাপনের কাহিনী কখনও তিনি ছেড়ে যাননি। তার ‘গর্ভধারিনী’ উপন্যাস কার্যত বৈপ্লবিক। সমাজতন্ত্র, সমাজ পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে হিমালয়ের কোলে, সান্দাকফু পেরিয়ে এক বরফঢাকা গ্রামে নিয়ে গিয়েছিলেন তাঁর উপন্যাসের তরুণ চরিত্রদের। গোয়েন্দা-গল্পেও তিনি ছিলেন সিদ্ধহস্ত।

তার লেখা অর্জুনের গল্পে বিভোর থেকেছে পাঠকরা। বাংলা সাহিত্যে গোয়েন্দা কম নেই। ফেলুদা, ব্যোমকেশ সবাই সক্রিয়ভাবে বিরাজ করছেন আজও। কিন্তু, সবাই কলকাতায় থাকেন। রহস্য ধরতে হিল্লি-দিল্লি যান। সেখানে সমরেশের গল্পের গোয়েন্দা, তথা, সত্যসন্ধানী অর্জুন জলপাইগুড়ির ছেলে। কলকাতাতেও কেস সলভ করতে আসেন। কিন্তু তার আসল জায়গা জলপাইগুড়ি।

মফঃস্বল শহর, তার মানুষ, জলপাইগুড়ির আশেপাশে তিস্তা, তোর্সা ইত্যাদি নদী ছাড়িয়ে জলদাপাড়া, মাদারিহাট, বীরপাড়া, মালবাজার, রাজাভাতখাওয়া, হলং, গরুমারা ইত্যাদি ডুয়ার্সের বিস্তীর্ণ পাহাড় জঙ্গলে আর চা বাগানে ঘেরা এক প্রাকৃতিক পরিবেশে গজিয়ে ওঠে নানা ভয়ানক রহস্য।

‘খুঁটিমারি রেঞ্জ’, ‘খুনখারাপি’, ‘কালিম্পং-এ সীতাহরণ’ ইত্যাদি গল্পে দুরন্ত রহস্য সমাধান করে অর্জুন। তার লাল মোটরবাইক কার্যত এক ‘আইকনিক’ অংশ হয়ে ওঠে গল্পের। লেখক অর্জুনকে শুধু বাংলাতেই আটকে রাখেননি। নিয়ে গিয়েছিলেন আমেরিকাতে, অর্জুন কেস ধরেছে একেবারে নিউ ইয়র্ক সিটিতে।

উত্তরবঙ্গের সমস্ত সৌন্দর্য, আবেগ, রহস্য ধরা দিত তার কলমে। কলকাতাবাসী বহু পাঠক তাঁর লেখাতেই চিনেছিল জলপাইগুড়ি শহরের কদমতলা, রূপমায়া সিনেমা, হাকিমপাড়া, শিল্পসমিতিপাড়া, রায়কতপাড়া।

দীর্ঘদিনের অসুস্থতার কাছে হার মানল সেই সমরেশ।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ঘূর্ণিঝ‌ড়ের সতর্কবার্তার ম‌ধ্যে আশাশুনিতে খোল‌পেটুয়া নদীর বাঁ‌ধে ভয়াবহ ভাঙন, এলাকায় আতংক

১

ডিবি গার্লস হাইস্কুলে লালন সাঁইজির তিরোধান দিবস পালিত

২

‎সবুজের সান্নিধ্যে মন ও প্রাণের নিরাময় || ‎তারিক ইসলাম

৩

এবি পার্টি সাতক্ষীরা সদর উপজেলা শাখার আহবায়ক কমিটির অনুমোদন

৪

কয়রা উপজেলা প্রেসক্লাবের নিন্দা

৫

আশাশুনিতে জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগ প্রস্তুতি মেলা

৬

আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে পাঠ্যপুস্তকে ‘খেলাধুলা’ বই বাধ্যতামূলক হচ্ছে

৭

কয়রায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে গণতান্ত্রিক সংলাপ

৮

পাইকগাছার চাঁদখালীতে পল্লী বিদ্যুতের সাবস্টেশন নির্মাণে স্থান নির্ধারণ

৯

সাতক্ষীরা সীমান্তে মাদকসহ সাড়ে ৭ লাখ টাকার পণ্য জব্দ

১০

বাংলাদেশিদের জোরপূর্বক যুদ্ধে পাঠিয়েছে রাশিয়া, প্রমাণ পেয়েছে জাতিসংঘ

১১

সাতক্ষীরা জেলা নাগরিক অধিকার ও উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির নতুন সভাপতি ডা. আবুল কালাম বাবলা

১২

মারা গেলেন ‘সিআইডি’ খ্যাত জনপ্রিয় অভিনেতা

১৩

ব্যালন ডি’অরে কে কোন পুরস্কার জিতলেন

১৪

দেবহাটায় বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদুল ইসলামকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন

১৫

পাইকগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে ফোনে প্রাণনাশের হুমকি, থানায় অভিযোগ

১৬

তারেক রহমানকে নিয়ে স্ট্যাটাসে যা বললেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী

১৭

আমন ক্ষেত ফেটে চৌচির, ফলন বিপর্যয়ের শংকা

১৮

গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ শিক্ষার্থী কল্যাণ পরিষদের কমিটি গঠন

১৯

পরিবেশবান্ধব কৃষি চর্চায় মাঠ পর্যায়ে বারসিকের যুব প্রশিক্ষণ

২০