
স্বাধীন মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ, যশোর: যশোরে আন্দোলনে নেমেছে আটো রিকসা চালকরা। বৃহস্পতিবার অবরোধ ও গণমিছিল করেন তারা। শহরের বিভিন্ন স্পটে প্রতিবাদমুখর অবস্থান নিয়ে ইঞ্জিন চালিত রিকশা চালকরা তাদের দাবি দাওয়া তুলে ধরেন। তারা দড়াটানার ভৈরব চত্বরে বিক্ষোভ করেন। তাদের আন্দোলনে শহরজুড়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়, ভোগান্তিতে পড়ে সাধারণ জনগণ। এ সময় শহরের বিভিন্ন প্রবেশ মুখে অবস্থান নেওয়া প্রতিবাদকারী রিকশা চালকরা যাতায়াতকারী যাত্রীদের গাড়ি থেকে নামিয়ে দেন। ফলে পায়ে হেটে গন্তব্য যেতে হয় স্কুল কলেজগামী ছাত্র-ছাত্রী, কর্মজীবীদের।
বিক্ষোভের এক পর্যায়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বেলাল হোসাইন চালকদের ৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দলের সাথে আলোচনা করেন। এ সময় বেজপাড়া তালতলা এলাকার রিকসা চালক কামারুজ্জামান, ক্যান্টনমেন্ট এলাকার রফিকুল ইসলাম, খড়কি এলাকার খাইরুল ইসলাম, সাইফুর রহমান বাবু, রেলগেট এলাকার আজাদ হোসেন পুলিশ প্রতিনিধিদের সাথে আলোচনা করেন।
আলোচনা শেষে রিকসা চালকদের প্রতিনিধি সাইফুল ইসলাম বাবু জানান, তাদের দাবি মেনে নিয়ে দড়াটানা এলাকা বাদে সব রাস্তায় রিকসা চালানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তারা রাস্তায় আন্দোলন না করে গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে পড়বেন।
তবে আন্দোলনরত একাধিক রিকসা চালক বলেন, বিআরটিএ কর্তৃক লাইসেন্স প্রদান করে রোডে ব্যাটারি চালিত যানবাহন চলার অনুমতি দিতে হবে। যশোর ট্রাফিক পুলিশ ও পৌরসভা কর্তৃক ব্যাটারি চালিত রিকশা থেকে বেআইনিভাবে মোটর ও ব্যাটারি খুলে নেয়া বন্ধ করতে হবে। অবিলম্বে এসব রিকশা চালকদের ক্ষতিপূরণ ও সড়কে চলার অনুমতি দেয়ার দাবি করেন তারা।
রিকশা চালকরা আরও বলেন, অনেক ঋণ করে রিকসা তৈরি করতে হয়েছে। হঠাৎ সিদ্ধান্ত নিয়ে ৮-১০ হাজার পরিবারকে রাস্তায় নামিয়ে দেয়া হয়েছে। মটর চালিত রিকসা চালাতে না দিলে বিকল্প কাজ দিতে হবে, অথবা চাল ডালসহ নিত্য প্রয়োজনীয় খাবারের যোগান দিতে হবে।
এদিকে রিকসা চালকরা রাস্তায় নেমে আন্দোলন করাতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। যশোর মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী ফারজানা বলেন, রিকসা নিয়ে সকালে কলেজে যাওয়ার উদ্দেশ্য বের হই। কিন্তু আপন মোড় এলাকায় এসে গাড়ি আটকে দেয় আন্দোলনরত রিকসা চালকরা। পরে পায়ে হেটে কলেজে যাই।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) বেলাল হোসাইন জানান, আন্দোলনকারীদের সাথে আলোচনা চলছে। দ্রুত সকল সমস্যার সমাধান করা হবে। শহরে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে আছে।
মন্তব্য করুন