
ডা. সুশান্ত ঘোষ
আলাউদ্দীন ভাইয়ের সাথে আমার পরিচয় ১৯৯০ সাল থেকে যখন আমি সাতক্ষীরাতে মেডিকেল সার্ভিসে প্রাকটিস শুরু করি। আমি ১৯৬৭ সালের পর লেখাপড়া করার জন্য সাতক্ষীরার বাইরে চলে যাই। ১৯৭১ সাল পর্যন্ত খুলনার দৌলতপুর বিএল কলেজে লেখাপড়া করি। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর রাজশাহী মেডিকেল কলেজে ভর্তি হই। ১৯৮০ সালে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চাকুরি নিয়ে যোগ দেই। এরপর বাগেরহাট হাসপাতাল হয়ে বিদেশে চাকুরি নিয়ে চলে যাই ১৯৮৪ সালে। সেখান থেকে ১৯৯০ সালে সাতক্ষীরা ফিরে এসে মেডিকেল প্রাকটিস শুরু করি।
আলাউদ্দীন ভাই আমার চেম্বারে এসে আলাপ করলেন। তাঁকে আমি আগে থেকে নামে চিনতাম। ঐদিন সাক্ষাত ও কথা হলো। তাঁর ভাই খুব অসুস্থ ছিলেন, তাঁকে দেখবার জন্য আমাকে অনুরোধ করলে আমি ঐদিন সন্ধ্যায় তাঁর সঙ্গে তার নিজ বাড়ি মিঠাবাড়িতে গেলাম। তাঁর ভাইকে দেখে পরামর্শ ও চিকিৎসা দিলাম। ইতোমধ্যে নিজের জীবনের অনেক ঘটনা তিনি আমাকে জানালেন। সেগুলো সব স্মরণে নেই, তবে তাঁর পরিকল্পনা ছিল ভোমরায় বন্দরের কার্যক্রম চালু করা, সাতক্ষীরার উন্নয়ন করা, কারিগরি শিক্ষার প্রতি তাঁর খুব ঝোক ছিল। বঙ্গবন্ধু পেশাভিত্তিক স্কুল ও কলেজ স্থাপন করে সেখানকার ছাত্রদের বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত করে স্বাবলম্বী করে তোলা-এই স্কুল ও কলেজের উদ্দেশ্য ছিল। তিনি সেটা অনেকদূর এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন। তিনি অক্লান্ত পরিশ্রমী ছিলেন। চিন্তা ও চেতনায় ছিল দৃঢ়তা। তিনি সৎ ও সাবলীল জীবনযাপন করতেন। অন্যায়কে প্রশ্রয় দিতেন না। ছিলেন সদালাপী। মেধা ও বুদ্ধিতে ছিলেন বিচক্ষণ।
বীর মুক্তিযোদ্ধা স. ম আলাউদ্দীন পত্রদূত পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন। তাঁর সাথে আমার মাঝে মাঝে আলাপ হতো। তিনি স্বচ্ছ ও সাদা মনের মানুষ ছিলেন।
আমি ১৯৯৬ সালে পোস্ট গ্রাজুয়েট ট্রেনিং ও এমসিপিএস পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য ঢাকায় যাই। জুলাই মাসে আমার পরীক্ষা। তাই খুব ব্যস্ত ছিলাম পড়াশোনা নিয়ে। হঠাৎ একদিন শুনলাম আলাউদ্দীন ভাইকে দুর্বৃত্তরা গুলি করে হত্যা করেছে। এ খবর শুনে আমার বাকরুদ্ধ হয়ে গেল। উনার মতো মানুষকে কে গুলি করলো, কেন তাকে মারল? এ নৃশংসতা কেন?
আলাউদ্দীন ভাইকে যখন স্মরণ করি, তাঁকে গভীরভাবে অনুভব করি। তিনি বেঁচে থাকলে সাতক্ষীরা অনেক এগিয়ে যেত, সাতক্ষীরা নেতৃত্ব শূন্য হতো না। আমি তাঁর আত্মার শান্তি কামনা করি।
লেখক : সভাপতি, সিনিয়র সিটিজেন ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন, সাতক্ষীরা
(তানজির কচি সম্পাদিত ও ম্যানগ্রোভ প্রকাশিত স্মারকগ্রন্থ দীপ্ত আলাউদ্দীন থেকে উদ্ধৃত)
মন্তব্য করুন