বাংলাদেশ, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
১২ কার্তিক ১৪৩৩ | সময়:
admin
২০ জুন ২০২৪, ১:২৪ অপরাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ

স্মৃতিতে স. ম আলাউদ্দীন

ডা. সুশান্ত ঘোষ

আলাউদ্দীন ভাইয়ের সাথে আমার পরিচয় ১৯৯০ সাল থেকে যখন আমি সাতক্ষীরাতে মেডিকেল সার্ভিসে প্রাকটিস শুরু করি। আমি ১৯৬৭ সালের পর লেখাপড়া করার জন্য সাতক্ষীরার বাইরে চলে যাই। ১৯৭১ সাল পর্যন্ত খুলনার দৌলতপুর বিএল কলেজে লেখাপড়া করি। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর রাজশাহী মেডিকেল কলেজে ভর্তি হই। ১৯৮০ সালে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চাকুরি নিয়ে যোগ দেই। এরপর বাগেরহাট হাসপাতাল হয়ে বিদেশে চাকুরি নিয়ে চলে যাই ১৯৮৪ সালে। সেখান থেকে ১৯৯০ সালে সাতক্ষীরা ফিরে এসে মেডিকেল প্রাকটিস শুরু করি।

আলাউদ্দীন ভাই আমার চেম্বারে এসে আলাপ করলেন। তাঁকে আমি আগে থেকে নামে চিনতাম। ঐদিন সাক্ষাত ও কথা হলো। তাঁর ভাই খুব অসুস্থ ছিলেন, তাঁকে দেখবার জন্য আমাকে অনুরোধ করলে আমি ঐদিন সন্ধ্যায় তাঁর সঙ্গে তার নিজ বাড়ি মিঠাবাড়িতে গেলাম। তাঁর ভাইকে দেখে পরামর্শ ও চিকিৎসা দিলাম। ইতোমধ্যে নিজের জীবনের অনেক ঘটনা তিনি আমাকে জানালেন। সেগুলো সব স্মরণে নেই, তবে তাঁর পরিকল্পনা ছিল ভোমরায় বন্দরের কার্যক্রম চালু করা, সাতক্ষীরার উন্নয়ন করা, কারিগরি শিক্ষার প্রতি তাঁর খুব ঝোক ছিল। বঙ্গবন্ধু পেশাভিত্তিক স্কুল ও কলেজ স্থাপন করে সেখানকার ছাত্রদের বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত করে স্বাবলম্বী করে তোলা-এই স্কুল ও কলেজের উদ্দেশ্য ছিল। তিনি সেটা অনেকদূর এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন। তিনি অক্লান্ত পরিশ্রমী ছিলেন। চিন্তা ও চেতনায় ছিল দৃঢ়তা। তিনি সৎ ও সাবলীল জীবনযাপন করতেন। অন্যায়কে প্রশ্রয় দিতেন না। ছিলেন সদালাপী। মেধা ও বুদ্ধিতে ছিলেন বিচক্ষণ।

বীর মুক্তিযোদ্ধা স. ম আলাউদ্দীন পত্রদূত পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন। তাঁর সাথে আমার মাঝে মাঝে আলাপ হতো। তিনি স্বচ্ছ ও সাদা মনের মানুষ ছিলেন।

আমি ১৯৯৬ সালে পোস্ট গ্রাজুয়েট ট্রেনিং ও এমসিপিএস পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য ঢাকায় যাই। জুলাই মাসে আমার পরীক্ষা। তাই খুব ব্যস্ত ছিলাম পড়াশোনা নিয়ে। হঠাৎ একদিন শুনলাম আলাউদ্দীন ভাইকে দুর্বৃত্তরা গুলি করে হত্যা করেছে। এ খবর শুনে আমার বাকরুদ্ধ হয়ে গেল। উনার মতো মানুষকে কে গুলি করলো, কেন তাকে মারল? এ নৃশংসতা কেন?

আলাউদ্দীন ভাইকে যখন স্মরণ করি, তাঁকে গভীরভাবে অনুভব করি। তিনি বেঁচে থাকলে সাতক্ষীরা অনেক এগিয়ে যেত, সাতক্ষীরা নেতৃত্ব শূন্য হতো না। আমি তাঁর আত্মার শান্তি কামনা করি।

লেখক : সভাপতি, সিনিয়র সিটিজেন ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন, সাতক্ষীরা

(তানজির কচি সম্পাদিত ও ম্যানগ্রোভ প্রকাশিত স্মারকগ্রন্থ দীপ্ত আলাউদ্দীন থেকে উদ্ধৃত)

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ডিবি গার্লস হাইস্কুলে লালন সাঁইজির তিরোধান দিবস পালিত

১

‎সবুজের সান্নিধ্যে মন ও প্রাণের নিরাময় || ‎তারিক ইসলাম

২

এবি পার্টি সাতক্ষীরা সদর উপজেলা শাখার আহবায়ক কমিটির অনুমোদন

৩

কয়রা উপজেলা প্রেসক্লাবের নিন্দা

৪

আশাশুনিতে জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগ প্রস্তুতি মেলা

৫

আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে পাঠ্যপুস্তকে ‘খেলাধুলা’ বই বাধ্যতামূলক হচ্ছে

৬

কয়রায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে গণতান্ত্রিক সংলাপ

৭

পাইকগাছার চাঁদখালীতে পল্লী বিদ্যুতের সাবস্টেশন নির্মাণে স্থান নির্ধারণ

৮

সাতক্ষীরা সীমান্তে মাদকসহ সাড়ে ৭ লাখ টাকার পণ্য জব্দ

৯

বাংলাদেশিদের জোরপূর্বক যুদ্ধে পাঠিয়েছে রাশিয়া, প্রমাণ পেয়েছে জাতিসংঘ

১০

সাতক্ষীরা জেলা নাগরিক অধিকার ও উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির নতুন সভাপতি ডা. আবুল কালাম বাবলা

১১

মারা গেলেন ‘সিআইডি’ খ্যাত জনপ্রিয় অভিনেতা

১২

ব্যালন ডি’অরে কে কোন পুরস্কার জিতলেন

১৩

দেবহাটায় বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদুল ইসলামকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন

১৪

পাইকগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে ফোনে প্রাণনাশের হুমকি, থানায় অভিযোগ

১৫

তারেক রহমানকে নিয়ে স্ট্যাটাসে যা বললেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী

১৬

আমন ক্ষেত ফেটে চৌচির, ফলন বিপর্যয়ের শংকা

১৭

গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ শিক্ষার্থী কল্যাণ পরিষদের কমিটি গঠন

১৮

পরিবেশবান্ধব কৃষি চর্চায় মাঠ পর্যায়ে বারসিকের যুব প্রশিক্ষণ

১৯

সাতক্ষীরায় যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

২০