বাংলাদেশ, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ | সময়:
admin
২৫ মার্চ ২০২৫, ১:৫০ অপরাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ

রাজনৈতিক প্রকল্পে যেভাবে লুট হয়!

কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি: যশোরের কেশবপুরে ২০২৩-২৪ অর্থ বছরে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন ও সংস্কারে গৃহীত সাড়ে ৪০০ প্রকল্পের অনুকূলে বরাদ্দকৃত প্রায় ৩ কোটি টাকার সিংহ ভাগ কাজ না করেই পকেটস্থ করেছেন যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও কেশবপুরের সাবেক সংসদ শহীন চাকলাদার।

অভিযোগ, এসব প্রকল্পের কাজ কাগজে কলমে সম্পন্ন দেখিয়ে সমুদয় টাকা হাতিয়ে নেয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট অফিস ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, ২০২৩-২৪ অর্থ বছরে কেশবপুর উপজেলার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন ও সংস্কারের জন্য টিআর, কাবিখা ও কাবিটা প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় ৪৫০টি প্রকল্পে প্রায় ৩ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। এরমধ্যে প্রত্যেকটি টিআর প্রকল্পের জন্য ৫২ হাজার টাকা এবং কাবিখা ও কাবিটা প্রকল্পে ১ লাখ টাকা থেকে ৪/৫ লাখ টাকা করে বরাদ্দ দেয়া হয়।

এসময় আ.লীগ নেতা, কেশবপুরের তৎকালীন সাংসদ শাহীন চাকলাদার ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে তার পকেটের লোক দিয়ে প্রত্যেকটি প্রকল্প কমিটি গঠন করেন। এসব প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের ওবাইদুর মাস্টারের বাড়ি থেকে বাওড় হয়ে ইয়াছিনের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তায় মাটি ভরাট ও সংস্কার।

স্থানীয়রা জানান, এই রাস্তায় কোন রকম মাটি ফেলে ও রাস্তা চেঁচে প্রকল্পের টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। তবে এই প্রকল্পে কতটাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে তা ওই প্রকল্প কমিটির সভাপতি জানেন না বলে জানান।

সূত্র জানায়, এসময় কয়েকটি প্রকল্পে নামে মাত্র কাজ করে এসব প্রকল্পের সিংহ ভাগ অর্থই আ.লীগ নেতা শাহীন চাকলাদার হাতিয়ে নিয়েছেন।

এদিকে টিআর প্রকল্পে মসজিদ মন্দিরসহ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে ৫২ হাজার টাকা করে বরাদ্দ দেয়া হলেও ওইসব প্রকল্প কমিটিকে ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা করে দিয়ে ক্ষমতার অপ-ব্যবহারের মাধ্যমে জোর করে প্রকল্প বাস্তবায়ন পত্রে স্বাক্ষর করিয়ে নেয়া হয়েছে বলে একাধিক প্রকল্প কমিটির সভাপতি জানিয়েছেন।

এছাড়া কাবিখা ও কাবিটা প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে গ্রামীণ সড়কে ইটের সোলিং নির্মাণ ও রাস্তায় মাটি ভরাটের কাজসহ বিভিন্ন প্রকল্প। উপজেলা পিআইও অফিসে গিয়ে ওইসব প্রকল্পের তথ্য চাইলে কর্মকর্তারা তথ্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। সংশ্লিষ্ট অফিসের কর্মকর্তারা এসব প্রকল্পের তালিকাসহ তথ্য জানতে চাইলে তারা তথ্যদিতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

তারা জানান, গত ৪ আগস্ট উপজেলা পরিষদে অগ্নি সংযোগের ফলে অফিসের সকল ফাইল পত্র পুড়ে গেছে, তাই পূর্বের কোন তথ্য তাদের কাছে নেই।

২০২৩-২৪ অর্থ বছরে উপজেলাব্যাপী আ.লীগ নেতাদের পকেট ভারি করতে কাগজে কলমে কোন কোন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে তার সঠিক তথ্য জানা সম্ভব হয়নি। এ সকল প্রকল্পে দুর্নীতিতে সহযোগিতা করেছেন কেশবপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা এবং ওই অফিসে কর্মরত প্রকৌশলী জয়ন্ত ঠাকুর।

এদিকে, বিভিন্ন সূত্রে খবর পেয়ে বাস্তবায়ন করা কয়েকটি প্রকল্পে গিয়ে দেখা যায়, এসব প্রকল্পের কোন অস্তিত্ব নেই। নামেমাত্র কাগজে কলমে প্রকল্পের কাজ সমপন্ন দেখানো হয়েছে। এলাকাবাসী তদন্ত পূর্বক এসব প্রকল্পের স্থানগুলো চিহ্নিত করে এরসাথে জড়িত সকল দুর্নীতিবাজের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন।

সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের কারিকরপাড়া হয়ে ওবাইদুল মাস্টারের বাড়ির পাশ দিয়ে বাওড়ের বালিঘাট পর্যন্ত প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি ও ইউনিয়ন আ.লীগের যুগ্ম আহবায়ক আব্দুর রশিদ বলেন, তার প্রকল্পে ২২০০ মিটার কাঁচারাস্তায় মাটি ভরাট ও সংস্কারের জন্য কত টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়, তা তিনি জানেন না। তবে ওই প্রকল্পে ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা খরচ করে তিনি পেয়েছেন মাত্র ১ লাখ ২০ হাজার টাকা এবং ওই টাকা তাকে দিয়েছেন যশোরের কাশিমপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান, শাহীন চাকলাদারের ডানহস্ত হিসেবে পরিচিত সাগর। এসময় তার কাছ থেকে প্রকল্প বাস্তবায়ন ফর্মে তিনি জোর করে স্বাক্ষরও করিয়ে নেন।

প্রকল্প কমিটির একাধিক সভাপতি ও সম্পাদক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সাবেক এমপি শাহীন চাকলাদার ও সাবেক পৌর মেয়র দুর্নীতিবাজ রফিক মোড়ল তাদের নামে অধিকাংশ প্রকল্পের কাজ না করে তাদেরকে ভয় দেখিয়ে তারা প্রকল্প বাস্তবায়ন ফর্মে তাদের কাছ থেকে স্বাক্ষর করে নিয়েছেন।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের প্রকৌশলী জয়ন্ত ঠাকুর বলেন, তিনি গত ১০ বছর ধরে কেশবপুরে একই অফিসে কর্মরত আছেন। এরমধ্যে ২০২৩-২৪ অর্থ বছরে সাড়ে ৪শ’ প্রকল্পে প্রায় ৩ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। এসব প্রকল্প তিনি দেখভাল করেছেন। এসব প্রকল্পের মধ্যে প্রায় সকল প্রকল্প সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হয়েছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মুশফিকুর রহমান বলেন, ২০২৩-২৪ অর্থ বছরে শাহীন চাকলাদার এমপি থাকাকালে তিনি পিআইও অফিসে আংশিক দায়িত্বে ছিলেন। এসময় সরকারের নেয়া সকল প্রকল্প সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হয়েছে এবং উপজেলা পরিষদে অগ্নিসংযোগের ফলে অফিসের সকল নথিপত্র পুড়ে যাওয়ায় প্রকল্পের সঠিক তথ্য তার কাছে নেই।

 

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

তালায় ক্রয়কৃত জমিতে দোকানঘর নির্মাণে বাধা, প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিতে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই: প্রতিমন্ত্রী

আ.লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের বৈধতা নিয়ে রিট খারিজ

অভিনেত্রী মিমির বিয়ের গুঞ্জন, পাত্র কে?

তারকা ফুটবলারদের অবসর-নিষেধাজ্ঞা, স্কালোনির স্কোয়াডে থাকছে চমক

পাটকেলঘাটায় সৌদিয়া পরিবহনের ধাক্কায় বাইসাইকেল আরোহী নিহত

এমবাপ্পের ঝলক, বার্সার ঘাড়ে নিঃশ্বাস রিয়ালের

বিয়ের অনুষ্ঠান থেকে ফেরার পথে দুর্ঘটনা, নিহত বেড়ে ৪

পানিবন্দি ৩ হাজার পরিবারের মাঝে ট্রি অফ লাইফ’র খাদ্য সামগ্রী বিতরণ

আইনমন্ত্রীর সাথে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দের সৌজন্য সাক্ষাৎ

১০

পদ্মপুকুরে জামায়াতের গণসংযোগ

১১

জিএম নূর ইসলাম স্মরণে নাগরিক শোক সভা

১২

জবি শিক্ষকদের গবেষণা : সাশ্রয় হবে ২২% নাইট্রোজেন সারের ব্যবহার

১৩

নয়ন ভট্টাচার্যের সুস্থতা কামনা রবীন্দ্রসঙ্গীত সম্মিলন পরিষদের

১৪

আলীম ভাই: বিভেদের সময়ে একজন ভালো মানুষের চলে যাওয়া || মোজাফ্ফর রহমান

১৫

সমুদ্রতীরে দীঘি, শাড়িতে ছড়ালেন রূপের দ্যুতি

১৬

রিশাদ-আলিসের ঘূর্ণিতে সিরিজ জয় বাংলাদেশের

১৭

স্কুলে ভর্তিতে পরীক্ষা হবে তিন বিষয়ে, জানা গেল নতুন নিয়ম

১৮

হামের উপসর্গে একদিনে ৭ জনের মৃত্যু

১৯

যৌথ ঘোষণায় চূড়ান্ত ঐকমত্য: ‘সব ধরনের আগ্রাসনের’ নিন্দা ব্রিকসের

২০
error: Content is protected !!