বাংলাদেশ, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
২৩ ভাদ্র ১৪৩৩ | সময়:
admin
২০ জুলাই ২০২৩, ৭:৩৭ অপরাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ

জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে লক্ষ্মীখোলা কমিউনিটি ক্লিনিকের ভবন, ঝুঁকি নিয়ে চলছে চিকিৎসা!

ডেস্ক রিপোর্ট: আশাশুনি উপজেলার বড়দল ইউনিয়নের লক্ষ্মীখোলা কমিউনিটি ক্লিনিকের ভবন মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। তাই আতংক নিয়েই যেমন সেবা দিচ্ছেন স্বাস্থ্য কর্মীরা, তেমনি সেবাগ্রহীতারাও পাচ্ছেন ভয়।

ক্লিনিকটির অবস্থা এতটাই শোচনীয় যে, বৃষ্টি হলেই ছাঁদ চুইয়ে পানি পড়ে, বিদ্যুৎ সংযোগ নেই। নেই সুপেয় পানি ও শৌচাগারের ব্যবস্থাও। প্রাণের ঝুঁকি থাকায় বারান্দায় বসে সেবা দেন সিএইচসিপি সেলিনা আক্তার।

সরজমিনে দেখা গেছে, ভবনের বাইরের অংশের প্লাস্টার খসে পড়ছে। মরিচা পড়ে নষ্ট হয়ে যাওয়া গ্রীল থেকে জানালার একাংশ খুলে রাখা হয়েছে। জানালার উপরের লোহার বীম নষ্ট হয়ে যাওয়ায় প্লাস্টার খসে পড়ছে। সাপের আনাগোনা থাকায় বাতাসে উড়তে দেখা যায় সাপের খোলসও।

সিএইচসিপি সেলিনা আক্তার জানান, ২০০১ সালে নির্মাণের পর থেকেই আমি এখানে কর্মরত আছি। ভবনের ছাঁদ চুইয়ে পানি পড়ে। প্লাস্টার খসে খসে পড়ায় একা একা এখানে থাকতে ভয় লাগে। বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় গরমে সেবা নিতে আসা রোগীদের সাথে আমাকেও কষ্টের মধ্যে থাকতে হয়। বাথরুমটি অকেজো হয়ে পড়ায় জরুরী প্রয়োজনে পাশের বাড়িতে যেতে হয়। সুপেয় পানির কোনো ব্যবস্থা না থাকায় জরুরী ঔষধ সেবন করা যায় না। ক্লিনিকে ১০০ ওয়াটের ৬টি সোলার প্যানেল ছিল। ২০১১ সালে এর মধ্যে ২ টি চুরি হয়ে যায়। বিষয়টি উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে জানিয়ে বাকি ৪টি সোলার প্যানেলের একটি ক্লিনিকে, একটি আমাদের তৎকালিন স্টাফ তাপস সরদার, গোপাল কুমার ও একটি আমার হেফাজতে রেখেছি। বৃষ্টি হলেই পাশের গোসাই সানার ঘেরের বেড়িবাঁধ ছাপিয়ে ক্লিনিক চত্বরের সামনের অংশ পানিতে ডুবে যায়। ক্লিনিকের আওতাভুক্ত সুরেরাবাদ, গাতীরমহল, বাইনতলা, মুরারীকাটি, হেতাইলবুনিয়া, বামনডাঙ্গা ও জেলপাতুয়া গ্রামে পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব বেশি। তাই আমাশয়, চর্মরোগ, ডায়রিয়া ও বাচ্চাদের সর্দিকাশির ঔষধ যা বরাদ্দ পাওয়া যায় তা সংকুলান হয় না।

ক্লিনিকে সেবা নিতে আসা পঞ্চানন সরদার, দেলোয়ার হোসেন, গোসাই সানাসহ স্থানীয়রা জানান, ক্লিনিকের যে অবস্থা তা দেখে ঢুকতে ভয় করে। এখানে পানি নেই, বিদ্যুৎ নেই, বাথরুম নেই, ছাদ দিয়ে পানি পড়ে, দরজা জানালায় মরিচা ধরে অনিরাপদ হয়ে পড়েছে। ঘরের পাশে পানি থাকায় ঘরের ভেতরে বিষাক্ত সাপ এসে ওঠে। কেমন একটা বেহাল অবস্থা। ভবনটির যে অবস্থা তাতে সংস্কার না করে পরিত্যক্ত ঘোষণা করে নতুন ভবন নির্মাণ করা জরুরী।

বড়দল ইউপি চেয়ারম্যান জানান, ক্লিনিকটা আমাদের জন্য অতিব জরুরী। কিন্তু এর অবকাঠামো একেবারে ভেঙে পড়েছে। আমি বিষয়টি উপজেলা পরিষদের মিটিংয়ে বলেছি। পানি ও মাটি ভরাটের সমস্যাটি আমি অতিদ্রুত সমাধানের চেষ্টা করব।

উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. মিজানুল হক জানান, ভবনটির বেহাল অবস্থার কথা শোনার পর থেকে নতুন ভবনের জন্য সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. আ ফ ম রুহুল হক এমপি স্যারকে অবহিত করেছি। তিনি খুব আগ্রহের সাথে বিষয়টি দেখছেন। আশাকরি খুব দ্রুত সমাধান হবে।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

হাম উপসর্গে আরও ৩ জনের মৃ/ত্যু

কালিগঞ্জে মৎস্যজীবী দলের প্রস্তুতি সভা

নির্বাচনের সংবাদ সংগ্রহের জন্য অনলাইনে কার্ড দেবে ইসি

২৭০ রানের ইনিংসে রেকর্ডবুক ভেঙে চুরমার করে দিলেন ঈশান

বুয়েটের ভর্তি পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা

অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল জব্বার ভুঞার পদত্যাগ

ফ্রিজে লুকানো ছিল মাথা, বিয়ের কয়েক মাসের মাথায় স্ত্রীকে হ/ত্যা

একই দলে খেলবেন মেসি ও রোনালদো

পাকিস্তান ক্রিকেটে আবারও ফিক্সিংয়ের কালো ছায়া, সন্দেহে দুই ক্রিকেটার!

উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা পরিচয়ে প্রেম, ধর্ষণ, অতঃপর….

১০

মেসির ছেলের নেতৃত্বে শিরোপা জিতল ইন্টার মায়ামি

১১

ডেঙ্গুতে আরও ৪ জনের মৃ*ত্যু, হাসপাতালে ১৩১৪

১২

আবারও বাংলাদেশ-ভারত ট্রেন চালুর উদ্যোগ, বৈঠক আগামীকাল

১৩

৫৪ বছরের আক্ষেপ: পাইকগাছায় জরাজীর্ণ ভবনে ঝুঁকি নিয়ে পাঠদান

১৪

কয়রায় পুকুরে ডুবে ১৮ মাসের শিশুর মৃত্যু

১৫

ভুয়া তথ্যে ইমাম-পুরোহিতের সম্মানি নিলে যাবজ্জীবন, ফেরত দিতে হবে টাকা

১৬

নারী থেকে পুরুষ হতে গিয়ে তরুণীর মৃত্যু!

১৭

উপজেলা নির্বাচনের আচরণবিধি জারি, মিছিল-পোস্টার নিষিদ্ধ

১৮

প্রাথমিকের শিক্ষক বদলি স্থগিত

১৯

এ মাসেই তফসিল, নভেম্বরে ইউপি নির্বাচন শুরুর পরিকল্পনা ইসির

২০
error: Content is protected !!