বাংলাদেশ, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬
২১ আশ্বিন ১৪৩৩ | সময়:
admin
২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ১০:৩৩ পূর্বাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ

সাতক্ষীরার কণ্ঠে’র অডিশন রাউন্ডে ইয়েস কার্ড পেলেন দৃষ্টি শক্তিহীন লিটন

মৃত্যুঞ্জয় রায় অপূর্ব: হাজারো প্রতিবন্ধকতা উপেক্ষা করে নিজের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে এগিয়ে যাচ্ছে দৃষ্টি শক্তিহীন লিটন দাশ।

অন্ধত্ব তাকে হার মানাতে পারেনি। চোখের দৃষ্টি না থাকলেও অন্তরের জ্ঞানের আলো দিয়ে গানকে নিজের মতো করে অর্জন করে ছড়িয়ে দিচ্ছেন সবার মাঝে। দৃষ্টিজয়ী লিটন দাশ সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসন আয়োজিত ‘সাতক্ষীরার কণ্ঠে’ অংশগ্রহণ করে রাখতে চলেছেন তার প্রতিভার স্বাক্ষর। অডিশন রাউন্ডে পেয়েছেন ইয়েস কার্ড।

তার স্বপ্ন গানের প্রতিভার বিকাশ ঘটিয়ে ভালো শিল্পী হওয়া। কিন্তু তার এই স্বপ্ন পূরণে আছে হাজারো প্রতিবন্ধকতা।

লিটন দাশের বাড়ি সাতক্ষীরা জেলার তালা উপজেলার খানপুর গ্রামে। দিনমজুর পরিমল দাশ-পূর্ণিমা দম্পতির সন্তান লিটন দাশ। দরিদ্র এই পরিবারে ৪ ভাই-বোনের মধ্যে সবার বড় তিনি।

তার তা এক ভাই জানান, বাবা বয়সের ভারে এখন আর আগের মতো কাজ করতে পারেন না। সংসারে উপার্জনক্ষম ব্যক্তি বেকার হয়ে পড়ায় খেয়ে না খেয়ে দিন কাটছে পরিবারের বাকি সদস্যের। এ কারণে বর্তমানে লিটন দাশ হাট বাজারে গান গেয়ে টাকা উপার্জন করে সংসার চালাচ্ছে।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, অদম্য কণ্ঠের অধিকারী লিটন জন্মান্ধ না। জন্মের সময় দুই চোখ ভরা আলো ছিলো তার। এখান থেকে ৬ বছর আগে তার বড় ধরনের অসুখ হয়। পরে ভুল চিকিৎসার কারণে তাকে দুচোখ হারাতে হয়। দু’চোখে ইনফেকশন হয়ে অন্ধ হয়ে যায় লিটন। কিন্তু বাবা দিনমজুর হওয়ায় দরিদ্র এই পরিবারের চিকিৎসা করানোর সামর্থ নেই।

অদম্য কণ্ঠের অধিকারী লিটন দাশের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আমার ছোট থেকে ইচ্ছা আমি জীবনে গান গেয়ে বড় কিছু করবো। কিন্তু দারিদ্র্যের কারণে আমি আমার প্রতিভার বিকাশ ঘটাতে পারি নি। আমি আমার প্রতিভার বিকাশ ঘটানোর জন্য গ্রামেগঞ্জে হাট বাজারে গান গেয়ে মানুষের মন জয় করি।

তিনি আরো বলেন, গানই আমার জীবন। আমি বড় হতে চাই। আমি আমার এ দু-চোখ ভরে আবারো সুন্দর পৃথিবীটা দেখতে চাই। ধন্যবাদ জানাই জেলা প্রশাসক স্যারকে আমাকে সাতক্ষীরার কণ্ঠে সুযোগ দেওয়ার জন্য।

লিটন দাশের পিতা পরিমল দাশ বলেন, ভিটে টুকু ছাড়া আমার কিছু নেই। আমি কাজ করতে পারি না। অন্ধ ছেলে গান গেয়ে যে টাকা উপার্জন করে তাই দিয়ে আমাদের সংসার চলে। দ্রব্যমূল্যের এই বাজারে ছেলের প্রতিবন্ধী ভাতা দিয়ে কোন মতে খেয়ে না খেয়ে দিন পার করতে হচ্ছে। চিকিৎসকদের ভুল চিকিৎসার কারণে আজ আমার ছেলের দুচোখ নষ্ট হয়ে গেলো। যেখানে নুন আনতে পানতা ফুরায় সেখানে কিভাবে ছেলের চিকিৎসার স্বপ্ন দেখি?

তার মা পূর্ণিমা দাশ কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, সবাই আমার লিটনের জন্য আশীর্বাদ করবেন।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

সাতক্ষীরা কমিউনিটির নির্বাহী সদস্যদের মাঝে আইডি কার্ড বিতরণ

১

কমেছে বৈশ্বিক সহায়তা, সংকটে ২ হাজার ২০০ এনজিও

২

তর্কে হেরে গিয়ে জীবনে জেতার আনন্দ || তারিক ইসলাম

৩

‘রূপে আছে নেশা, চোখে ছলনা’

৪

পাকিস্তানে ক্ষমতার নতুন লড়াই, প্রদেশ ভাঙার উদ্যোগ সেনাপ্রধানের

৫

হামের উপসর্গে আরও ৬ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১ হাজার ৩৯৩

৬

‘জাস্টিস ফর জাকারিয়া’র কমিটি গঠন

৭

‘সকালবেলা নায়িকা, বিকেলবেলা ভিলেন’, দলবদল নিয়ে কোয়েলকে কটাক্ষ

৮

আগামীকাল আর্জেন্টিনার জার্সিতে মেসির শেষ ম্যাচ, যেভাবে দেখবেন

৯

দক্ষিণ কাটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে ইউনিফর্ম ও খাতা বিতরণ

১০

সৌদির দুই বিমানবন্দরে হামলা

১১

জাতীয় কন্যা শিশু দিবস উদযাপনে স্বদেশ’র র‌্যালি ও সমাবেশ

১২

কয়রার ২০ বিদ্যালয়ে ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষার ক্লাস নিয়ে বিড়ম্বনা!

১৩

পাইকগাছায় অবৈধ বন্দোবস্ত বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন

১৪

ইচ্ছে পূরণ হয়নি, যে আক্ষেপ পরীমণির

১৫

বুড়িয়া মণ্ডপে ৩৫ হাজার মুক্তায় সেজেছে ‌‘দুর্গা প্রতিমা’, দর্শনার্থীদের ভিড়

১৬

আবরার হত্যার ৭ বছর: চূড়ান্ত নিষ্পত্তিতে যে উদ্যোগ নিচ্ছে রাষ্ট্র

১৭

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্‌যাপনে কেন্দ্রীয় কমিটির সভা

১৮

একদিনে ডেঙ্গুতে ১০ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১৯৯৬

১৯

দিল্লিতে নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে দীনেশ ত্রিবেদীর বৈঠক

২০