বাংলাদেশ, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬
২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ | সময়:
admin
১৩ এপ্রিল ২০২৩, ২:৩২ অপরাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ

গাভার ঘরে ঘরে ব্যস্ততা: রমজানে বাড়ে হাতে ভাজা মুড়ির কদর

শহীদুজ্জামান শিমুল: মুড়ির চাহিদা সারা বছর থাকলেও রোজার সময়ে হাতে ভাজা মুড়ির উৎপাদন ও চাহিদা বেড়ে যায় বহুগুণ। এ সময়ে হাতে ভাজা মুড়ি তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ফিংড়ি ইউনিয়নের উত্তর গাভা গ্রামের ৭০টি পরিবার।

এ গ্রামের মানুষের আয়ের উৎস প্রধান মুড়ি উৎপাদন। এ কারণে গ্রামটি মুড়ি গ্রাম নামে পরিচিতি লাভ করেছে।

গ্রামের প্রতিটি বাড়িতেই ভোর ৪টা থেকে শুরু হয় মুড়ি ভাজার কাজ। চলতে থাকে বেলা ১২টা পর্যন্ত। মুড়ি ভাজার কাজে নারীদের সহযোগিতা করেন বাড়ির পুরুষেরা।

প্রথমে চুলায় আগুন জ্বালিয়ে মাটির পাত্রে বালি গরম করা হয়। মুড়ি তৈরিতে ব্যবহৃত চাউলের সাথে লবণ পানির মিশ্রণ ঘটিয়ে গরম করে বালির পাত্রে ঢেলে নাড়াচাড়া করলেই কয়েক সেকেন্ডের ভেতরে তৈরি হয়ে যায় মুড়ি।

এ সব মুড়ি প্যাকেট করে সাতক্ষীরা শহরের সুলতানপুর বড় বাজার, আশাশুনি, বড়দল, পাইথলি, বদরতলা, পরুলিয়া, নলতা, কলিগঞ্জসহ আশেপাশের এলাকায় পাইকারি বিক্রি করতে নিয়ে যায় পুরুষরা। স্বাদে অনন্য হওয়ায় দিন দিন বাড়ছে হাতে ভাজা মুড়ির কদর।

উত্তর গাভা গ্রামের রঘুনাথ দাশ বলেন, এটা আমাদের বাপ দাদার পেশা। সেখান থেকেই আমরা এই পেশায় জড়িয়ে পড়েছি। এই পেশার উপরে নির্ভর করে পরিবার চলে। রোজার মাসে দৈনিক ৫০-৬০ কেজি চাউলের মুড়ি ভেজে বিক্রি করি। অন্য সময়ে অর্ধেকে নেমে আসে। চাউলের দাম বেশি হওয়াতে লাভ কম হচ্ছে। পূর্বে এক বস্তা মুড়িতে ৫০০-৬০০শ টাকা লাভ হতো। কিন্তু চাউল, জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় বর্তমানে ২০০-৩০০ শত টাকা থাকে। এতে করে দুজন মানুষের শ্রমের দাম ওঠে না।

চারু দাশ বলেন, বর্তমানে মুড়ি বিক্রি করে ছেলে মেয়ের লেখাপড়াসহ সংসার চালানো বেশ কষ্টসাধ্য হয়ে যাচ্ছে। পরিবারের খরচ বাড়ছেই। তবে সেই তুলনায় মুড়ির দাম বাড়েনি।

ভারতী রানী দাশ বলেন, প্রতিদিন আমরা স্বামীর সাথে মুড়ি তৈরির কাজে সহযোগিতা করি। হাতে তৈরি মুড়ি খেতে সুস্বাদু। বর্তমানে আমাদের হাতে তৈরি মুড়ির বেশ সুনাম রয়েছে। কিন্তু মেশিনে তৈরি ইউরিয়া মিশ্রিত মুড়ি অসাধু ব্যবয়াসীরা সাধারণ মানুষের কাছে হাতে ভাজা গাভার মুড়ি বলে বাজারে বিক্রি করে। এটা প্রতারণা। এটা রোধ করা দরকার।

নিরান দাস বলেন, ছোট বেলা থেকে মুড়ি তৈরি ছাড়া অন্য কোনো কাজ শিখিনি। বর্তমানে বাজার ভালো না। তারপরও যতদিন বাঁচবো এই কাজ করে যেতে হবে।

বিসিক সাতক্ষীরার উপব্যবস্থাপক গোলাম সাকলাইন জানান, সাতক্ষীরা সদর উপজেলা গাভা গ্রামে ঐতিহ্যবাহী এই পেশাটি চলছে সেই পাকিস্তান আমল থেকে। এখানকার সবাই হাতে ভাজা মুড়ি তৈরিতে লিপ্ত। তবে বর্তমানে এই শিল্পটি নষ্ট হতে বসেছে। মুড়ি তৈরির কাজে যে চাউল ব্যবহার করা হয় সেটির দাম বৃদ্ধিতে তারা সংকটে পড়েছে।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

এইচএসসির ফল ২৫ থেকে ২৯ অক্টোবরের মধ্যে

১

কালিগঞ্জে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম নিয়ে প্রেস কনফারেন্স

২

দেবহাটায় আব্দুল মজিদের সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকীতে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প

৩

দেবহাটায় ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম অবহিতকরণে প্রেস কনফারেন্স

৪

দেবহাটায় জাতীয় কন্যা শিশু দিবস পালিত

৫

পাইকগাছায় ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহে ট্যাব বিতরণ

৬

জি এম কাদেরের বাসায় হামলার ঘটনায় সাতক্ষীরা জেলা জাতীয় পার্টির উদ্বেগ

৭

কালিগঞ্জে কন্যাশিশু দিবস পালিত

৮

শ্যামনগরে ১২ বছরের মাদ্রাসাছাত্রী ৮ মাসের অন্তঃসত্ত্বা, শিক্ষকসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা

৯

কালিগঞ্জে দুর্গাপূজা উদযাপনে প্রস্তুতি সভা

১০

বিদায়ের দিনে হৃদয় নিংড়ানো ভালোবাসায় সিক্ত হলেন সেলিনা ইয়াসমিন

১১

গাবুরায় সুন্দরবন সেবা কল্যাণ ফাউন্ডেশনের ইউনিট উদ্বোধন

১২

কয়রায় বাস্তুতন্ত্র পুনরুদ্ধারে প্রশিক্ষণ

১৩

ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহের বিষয়ে অবহিতকরণে প্রেস কনফারেন্স

১৪

ড.ইউনূসের গ্রামীণ কল্যাণের ৬৬৬ কোটি টাকা পরিশোধের রায় প্রকাশ

১৫

পাগলা মসজিদের দানবাক্সে ১ হাজার ৪৪ ভরি সোনা, ১ হাজার ৮৮ ভরি রুপা

১৬

এইচএসসি থেকেই চালু অন্তর্বর্তী পরীক্ষা, সুযোগ পাবে অনুত্তীর্ণরা

১৭

২২ বছর পুরনো রেকর্ডে ভাগ বসালেন লিটন

১৮

সারা দেশে দুই দিন এলপিজি বিক্রি বন্ধের ঘোষণা

১৯

জি এম কাদেরের উত্তরার বাসায় ভাঙচুর

২০