বাংলাদেশ, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
১৪ কার্তিক ১৪৩৩ | সময়:
admin
২০ জুন ২০২৪, ১:০২ অপরাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ

স্মৃতি সততই সুখের

খগেন্দ্র নাথ দাশ

শতবর্ষী একটি বিদ্যালয়, যে বিদ্যালয় শিক্ষাকে সূতিকাগৃহে মাতৃস্তন্য পান করিয়ে কৈশোর জয়টিকা দিয়ে যৌবনের তীর্থপথে পাঠিয়েছে। আমার শিক্ষকতা জীবনে সেই বিদ্যালয়ের সভাপতি হিসেবে পেলাম স. ম আলাউদ্দীন ভাইকে ১৯৯১ সাল থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত। যদিও ইতঃপূর্বে ১৯৭২ থেকে ১৯৭৪ সাল পর্যন্ত তিনি কুমিরা বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সভাপতির পদ অলংকৃত করেছিলেন। ১৯৮০ সালে এই বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগদান করা তরুণ শিক্ষক আমি। একজন বহুমাত্রিক, বিদ্বান, দানশীল, বিচক্ষণ, বিদ্যোৎসাহী ও মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী যোগ্য রাজনীবিদ ব্যক্তিই হলেন বিদ্যালয়ের সভাপতি।

একটু পেছনের দিকে তাকাই। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ চলছে। টাকী (পশ্চিমবঙ্গ, ভারত) মুক্তিযোদ্ধা ক্যাম্পে আমার শ্রদ্ধেয় শিক্ষাগুরু প্রয়াত ক্যাপ্টেন শাহজাহান মাস্টারের সাথে আমি থাকতাম। সেখানে আমি দু’একবার স. ম আলাউদ্দীন ভাইকে দেখেছি। ঝাঁকড়া-বাবরি দোলানো চুল, টগবগে এক মানুষ, একজন সম্মোহনকারী বক্তা। কিন্তু তখন কথা বলার সুযোগ হয়নি। ১৯৭২ পরবর্তী সময়ে অনেকবার তাঁর বাড়িতে যাওয়া এবং কথা বলার সুযোগ পেয়েছি। খুবই স্নেহভাজন ছিলাম ওনার।

ওনাকে অনেকদিন ধরে কাছ থেকে দেখার বা কথা বলার সুযোগ পেয়েছি। যখন উনি আমার শিক্ষকতা সময়ে বিদ্যালয়ের সভাপতি ছিলেন (১৯৯১-১৯৯৫) ওনার দেয়া দায়িত্ব নিষ্ঠার সাথে পালন করার চেষ্টা করেছি। উনি ছিলেন আমাদের বন্ধু-অভিভাবক। সৎ ও যোগ্য নেতৃত্বের গুণে তিনি বিদ্যালয়টিকে অনেক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন।

আমাদের চারপাশের মানুষ যখন নিজেদের ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থে ব্যস্ত, পরশ্রীকাতরতায় উদ্গ্রীব, বাড়ছিল প্রতিহিংসা, ঘটছিলো হানাহানি, কাটাকাটি-এই শূন্যতা ও প্রতিহিংসা কিছুটা হলেও পূরণ করার ক্ষমতা তাঁর ছিল, তিনি ছিলেন দিক নির্দেশনার অগ্রদূত। আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ী সেই মানুষটি অকস্মাৎ ১৯ জুন, ১৯৯৬ আততায়ীর গুলিতে নিস্তব্ধ-নিষ্প্রাণ হয়ে গেলেন। সুখস্বপ্ন অন্তর্হিত হলো। সমাজ, দেশ ও জাতির ক্রান্তিলগ্নে যাঁর প্রয়োজন ছিলো অনস্বীকার্য, তাঁকে আমরা হারালাম। কিন্তু কীর্তিমানের মৃত্যু নেই। তিনি আমাদের মাঝে অমর হয়ে আছেন, জ্বলজ্বল করছেন। নয়ন সম্মুখে তিনি না থাকলেও নয়নের মাঝখানে ঠাঁই করে নিয়েছেন।

আজকে সুযোগ পেয়ে এই মহান মানুষটি- যিনি রূপোর চেয়ে রূপ, রূপের চেয়ে রুচি এবং রুচির চেয়ে ঋদ্ধিকে ভালোবেসেছিলেন- তাঁকে বিনম্র প্রণতি জানাই। তাঁর কর্মময় জীবনের সুখস্মৃতি ও আদর্শকে ধারণ করার প্রত্যয় জানিয়ে শেষ করছি।

লেখক : শিক্ষক

(তানজির কচি সম্পাদিত ও ম্যানগ্রোভ প্রকাশিত স্মারকগ্রন্থ দীপ্ত আলাউদ্দীন থেকে উদ্ধৃত)

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

কালিগঞ্জে বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস পালিত

১

দেবহাটায় যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

২

প্রাইভেট হসপিটাল ও ডায়াগনস্টিক অ্যাসোসিয়েশনের বিভাগীয় কমিটি ঘোষণা

৩

পাইকগাছায় ফোনে চাঁদা দাবি ও প্রাণনাশের হুমকি, ২৪ ঘণ্টায় আটক ৩

৪

তালায় জেলা পরিষদের বাইসাইকেল উপহার পেল ৮০ মেধাবী শিক্ষার্থী

৫

শ্যামনগরে জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ

৬

শ্যামনগরে স্থানীয় অভিযোজন কৌশলবিষয়ক প্রশিক্ষণ

৭

খেজুরবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান, আতংকে থাকে শিক্ষার্থীরা

৮

২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৯ জনের মৃত্যু

৯

স্পেনে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬৪

১০

এবার গ্যাসের দাম ৩০০ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব অপারেটরদের

১১

ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের আঘাতে ৫ জনের মৃত্যু

১২

সাতক্ষীরায় জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস পালিত

১৩

সুন্দরবনকে বনদস্যু মুক্ত করার দাবিতে মানববন্ধন

১৪

ভারতের উপকূলে আঘাত হেনেছে ঘূর্ণিঝড় অর্ণব

১৫

ঘূর্ণিঝ‌ড়ের সতর্কবার্তার ম‌ধ্যে আশাশুনিতে খোল‌পেটুয়া নদীর বাঁ‌ধে ভয়াবহ ভাঙন, এলাকায় আতংক

১৬

ডিবি গার্লস হাইস্কুলে লালন সাঁইজির তিরোধান দিবস পালিত

১৭

‎সবুজের সান্নিধ্যে মন ও প্রাণের নিরাময় || ‎তারিক ইসলাম

১৮

এবি পার্টি সাতক্ষীরা সদর উপজেলা শাখার আহবায়ক কমিটির অনুমোদন

১৯

কয়রা উপজেলা প্রেসক্লাবের নিন্দা

২০