

কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি: খুলনার কয়রায় তিনদিনের টানা বর্ষণে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। স্থবির হয়ে পড়েছে সকল কার্যক্রম। নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ।
অবিরাম বৃষ্টিতে ভেসে গেছে শত শত মৎস্য ঘের। তলিয়ে গেছে আমনের বীজতলা ও ফসলের ক্ষেতে।
এ যেন প্রাকৃতিক দুর্যােগ কবলিত কয়রার মানুষের উপরে মরার উপর খাড়ার ঘাঁ।
টানা বৃষ্টিপাতের ফলে উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চলের পুকুর, রাস্তাঘাট ও বাড়ির আঙিনা তলিয়ে গেছে।
জানা গেছে, টানা বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ নিয়ে আতংকে রয়েছেন নদী পাড়ের মানুষ। সবচেয়ে দুর্ভোগে পড়েছে খেটে খাওয়া মানুষ। ঘরের বাইরে না যেতে পারায় তাদের সংসারে চলছে চরম দুর্ভোগ। শুধু তাই নয় যানবাহনের চালকরা পড়েছে বিপাকে। দু’চারটি যানবাহন বের হলেও বেড়েছে ভাড়ার পরিমাণ, ফলে দ্বিগুণ ভাড়া গুনতে হচ্ছে যাত্রীদের। দোকানদারদের মিলছে না ক্রেতা। অলস সময় পার করছেন ইজিবাইক, ভ্যান ও অটো চালকরা।
উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য মতে, চলতি মৌসুমে ১৬ হাজার ২শ হেক্টর জমিতে আমনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে । তবে ভারি বর্ষণে অধিকাংশ কৃষকের বীজতলা পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে আমনের বীজতলা নষ্ট হওয়ার আশংকা করছেন স্থানীয় কৃষকেরা।
আমন চাষে নতুন করে বীজতলা তৈরির সময়ও নেই, এতে বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে আমন আবাদ।
৫নং কয়রা গ্রামের কৃষক আব্দুল্ল্যাহ আল মামুন বলেন, আমন চাষের জন্য ১০ কাঠা জমিতে বীজতলা তৈরি করেছি। কিন্তু টানা তিন দিনের বৃষ্টিতে সব পানিতে তলিয়ে রয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যো পানি নিষ্কাশন না হলে সব নষ্ট হয়ে যাবে।
উপ-সহকারী কৃষি অফিসার মাহমুুদুল হাসান বলেন, অতি বর্ষণে কয়রার কৃষকদের বীজতলা ডুবে গেছে। তবে তা টিকিয়ে রাখতে কৃষকদের বিভিন্ন পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
কয়রা সদর ইউনিয়নের ৮নং ওর্য়াডের ইউপি সদস্য সরদার নাজমুল ছাদাত বলেন, কয়রার অধিকাংশ স্লুইস গেট অকেজো হয়ে পড়েছে। স্লুুইস গেটগুলো সংস্কার করা দরকার। এ দিকে টানা বৃষ্টিতে খেটে খাওয়া নিম্ন আয়ের মানুষ কাজে যেতে না পারায় পরিবার পরিজন নিয়ে দুচিন্তায় দিন কাটাচ্ছে।
উপজেলা মৎস্য অফিসার (অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত) সৈকত মল্লিক বলেন, কয়রায় কয়েক দিনের টানা বর্ষণে প্রায় ৭শ মৎস্য ঘের তলিয়ে গেছে। মাছ আটকে রাখতে বিভিন্ন পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।

মন্তব্য করুন