বাংলাদেশ, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬
২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ | সময়:
admin
২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ৯:৪০ অপরাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ

বৈষম্যের নিরসন চান আইসিটি শিক্ষক‌রা || এম লিয়ন রহমান

লিখছি ডিজিটাল প্রযুক্তি শিক্ষা ও এই শিক্ষাকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া আইসিটি শিক্ষকদের নিয়ে। বর্তমানে আইসিটি শিক্ষকরা যে সুখকর সময় পার করছেন, একটা সময় তাদের মুদ্রার উল্টো পিঠও দেখতে হয়েছে।

২০১১ সালের ১৩ নভেম্বর এক পরিপত্রে সেই সময়ের পরে নিয়োগকৃত অতিরিক্ত শ্রেণীশাখা ও বিভাগের বিপরীতে নিয়োগকৃত শিক্ষকদের বেতন ভাতা সরকার বহন করবে না মর্মে নির্দেশ জারি করে।

সেই সময়ের কম্পিউটার শিক্ষকরা শুধুমাত্র ৯ম ও ১০ম শ্রেণীতে অতিরিক্ত বিষয় বা চতুর্থ বিষয়ের শিক্ষক ছিলেন। এ কারণে এই পরিপত্রের আওতায় নতুন নিয়োগকৃত শিক্ষকদের বেতন-ভাতা আটকে যায়। ওই পরিপত্রে প্রতিষ্ঠান থেকে সম্পূর্ণ বেতন ভাতা দেয়ার নির্দেশ থাকলেও মাঠ পর্যায়ে কোনো তদারকি না থাকায় শিক্ষকদের বেশিরভাগই বেতন ভাতা না পেয়ে ঋণগ্রস্ত ও মানবেতর জীবনযাপন করতে থাকেন।

যা ২০১০ সালের জাতীয় শিক্ষানীতির সাথে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক। কেননা ২০১০ সালের জাতীয় শিক্ষানীতিতে এই সাবজেক্টকে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি নামে সংশোধন করে আবশ্যিক বা বাধ্যতামূলক করা হয় এবং জনবল কাঠামোতে সহকারী শিক্ষক (কম্পিউটার) পদটি প্যাটার্নভুক্ত করা হয়। সেই হিসেবে কম্পিউটার শিক্ষকরা প্যাটার্নভুক্ত আবশ্যিক বিষয়ের শিক্ষক হন|

২০১২ সালের জাতীয় শিক্ষাক্রমে আইসিটিকে আবশ্যিক বিষয় হিসেবে ৬ষ্ঠ শ্রেণী থেকে পাঠদান শুরুর নির্দেশ জারি করা হয়।

২০১৩ সাল থেকে একাদশ শ্রেণীতেও তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়কে বাধ্যতামূলক করা হয়।

কিন্তু ২০১১ সালের পরিপত্রের বলে ২০১৮ সাল পর্যন্ত এই শিক্ষকদের বেতন ভাতা, অভিজ্ঞতাসহ সকল সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত রাখা হয়।

যেহেতু ২০১২ সাল থেকে আবশ্যিক বিষয়ের শিক্ষক হিসেবে এই শিক্ষকরা দায়িত্ব পালন করে আসছেন ,সেই হিসেবে তখন থেকেই এই শিক্ষকদের উপর ২০১১ সালের পরিপত্রটি অকার্যকর হওয়ার কথা। কারণ, ২০১১ সালের পরিপত্রে কোথাও কিন্তু আবশ্যিক বিষয়ের শিক্ষকদের বেতন ভাতা বন্ধ করার কথা বলেনি, তাহলে যে সুযোগ সুবিধা সরকার ২০১৮ সাল থেকে দিচ্ছে, সেই একই সুযোগ সুবিধা আবশ্যিকের শুরু থেকে দেয়া যৌক্তিক কেন নয়? এই বৈষম্যের কারণে ভুক্তভোগী শিক্ষকরা অভিজ্ঞতাটুকুও পাচ্ছে না।

এ কারণে উচ্চতর স্কেল, প্রশাসনিক পদ, ইনক্রিমেন্টসহ সকল স্থানে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা পিছিয়ে আছেন। সময় পরিবর্তন হয়েছে, সকল বৈষম্য মুক্তির পথও সুগম হয়েছে।

তাই বর্তমান বৈষম্যবিরোধী সরকার বিষয়টি পুনঃবিবেচনা করবেন এমন প্রত্যাশায় নতুন করে আশার আলো দেখছেন আইসিটি শিক্ষকরা।

লেখক: সাধারণ সম্পাদক বাংলাদেশ আইসিটি শিক্ষক সংগঠন, সহকারী শিক্ষক পাতাখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

নেই জৌলুস, হারাচ্ছে ঐতিহ্য; পেশা বদলাচ্ছেন বাদ্যযন্ত্রের কারিগররা

১

অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের মাঝে রোটারী ক্লাবের শিক্ষা উপকরণ বিতরণ

২

সাতক্ষীরা ৯৩’র উদ্যোগে কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা

৩

অ্যাড. নিরোদ কুমার মজুমদারের স্মরণসভা

৪

হাম ও উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ জনের মৃত্যু

৫

জামিন মেলেনি এমপি গাজী নজরুলের

৬

অণুর ‘আয়না-ছবি’ রহস্য সমাধান, রসায়নে নোবেল দুই বিজ্ঞানীর

৭

আয় কমলেও সেপ্টেম্বরে বেড়েছে মূল্যস্ফীতি, বিপাকে নিম্ন আয়ের মানুষ

৮

একদিনে ডেঙ্গুতে ৮ জন, হাম ও উপসর্গে ৬ জনের মৃত্যু

৯

তালা সদর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে প্রার্থী নির্ধারণ করলো বিএনপি

১০

দেবহাটায় শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপনে প্রস্তুতি সভা

১১

শ্যামনগরে বস‌ছে ২৫০ কিলোওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন সৌর প্যানেল, নবায়ন‌যোগ্য বিদ্যুতে নতুন সম্ভাবনা

১২

প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক পাচ্ছেন জবির ১৬ শিক্ষার্থী

১৩

সাতক্ষীরায় তায়কোয়ানডোয় স্বর্ণ ও রৌপ্য পদকজয়ীদের সংবর্ধনা

১৪

সাতক্ষীরা কমিউনিটির নির্বাহী সদস্যদের মাঝে আইডি কার্ড বিতরণ

১৫

কমেছে বৈশ্বিক সহায়তা, সংকটে ২ হাজার ২০০ এনজিও

১৬

তর্কে হেরে গিয়ে জীবনে জেতার আনন্দ || তারিক ইসলাম

১৭

‘রূপে আছে নেশা, চোখে ছলনা’

১৮

পাকিস্তানে ক্ষমতার নতুন লড়াই, প্রদেশ ভাঙার উদ্যোগ সেনাপ্রধানের

১৯

হামের উপসর্গে আরও ৬ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১ হাজার ৩৯৩

২০