এম জুবায়ের মাহমুদ: তীব্র শৈত্যপ্রবাহে জনজীবন যখন স্থবির, তখনো পেটের দায়ে খোলপেটুয়া নদীর হিমশীতল পানিতে নেমে চিংড়ির রেণু আহরণে ব্যস্ত সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপকূলের আটুলিয়া ইউনিয়নের বিড়ালাক্ষী গ্রামের শাহানারা বেগম (৫৫)।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সূর্য তখন পশ্চিম আকাশে অস্ত যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে, ঠিক তখন বিড়ালাক্ষীর গাজী পাড়া ওয়াপদার বেড়িবাঁধ থেকে প্রায় একশ গজ দূরে নদীতে তিনকোনা জাল টানতে দেখা যায় শাহানারাকে।
জীবিকার তাগিদে তাকে অনেকটা নিঃসাড় মনে হলো! তীব্র শীত উপেক্ষা করে শাহানারার টিকে থাকার এই সংগ্রাম একদিনের নয়।
শীতের জন্য সাধারণ পোশাকের ওপর একটি অতিরিক্ত উড়না গায়ে আরেকটি গলায় জড়িয়ে নিজ কাজে ব্যস্ত ছিলেন তিনি।
কথা হলে শাহানারা জানান, তার পরিবারে তিনজন সদস্য। সবাই পুরোপুরি তার আয়ের ওপরই নির্ভরশীল। তিন মেয়ে সন্তানের জননী শাহানারার এই সংগ্রাম শুরু বেশ আগে।
তিনি জানান, মেয়েরা ছোট থাকতেই স্বামী তাকে ছেড়ে অন্যত্র বিয়ে করে। এরপর থেকে দিনমজুরি ও নদীতে পোনা আহরণ করে অনেক কষ্টে বড় করেছেন মেয়েদের, বিয়েও দিয়েছেন।
তবে বড় মেয়ে সুমাইয়া খাতুনের জীবনেও নেমে এসেছে মায়ের মতো দুঃখ। স্বামী তাকে একটি কন্যা সন্তানসহ ফেলে রেখে চলে গেছে। বর্তমানে তার অবস্থান মায়ের বাড়িতেই।
শাহানারার ১০ বছর বয়সী নাতনি ফারজানা আটুলিয়া ইউনিয়নের কাছারিব্রিজ হাফেজিয়া মাদ্রাসায় হাফেজি পড়ছে। তার পড়াশোনার জন্য প্রতি মাসে দুই হাজার টাকা ব্যয় করতে হয় তাকে, যা জোগাড় করতে গিয়ে প্রায়ই ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েন শাহানারা।
নিজের শারীরিক অসুস্থতাও রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে হাঁটুর ব্যথা ও হাঁপানির সমস্যায় ভুগলেও পরিবারের দায়ভার তাকে থামতে দেয় না, ওষুধ খেয়েই প্রতিদিন নামতে হয় নদীতে।
মঙ্গলবার দুই ঘণ্টা জাল টেনে তিনি সংগ্রহ করেন ২৫১টি চিংড়ি রেণু (পোনা)। বাজারে যার মূল্য প্রতিপিস ৯০ পয়সা । এই হিসেবে তার আয় ২২২ টাকা। এই টাকাতেই চলে তার সংসার।
শুধু শাহানারাই নয়, উপকূলে এমন অনেকেই আছেন, স্বামীর বহুবিবাহ যাদের জীবনে কাল হয়ে দাড়িয়েছে। জীবনকে করে তুলেছে কষ্টসাধ্য, অনিশ্চিত!











