বাংলাদেশ, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬
২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ | সময়:
admin
২৭ নভেম্বর ২০২৩, ৫:৫৬ অপরাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ

নীলডুমুর-গাবুরা খেয়াঘাটে যাত্রী ছাউনি না থাকায় দুর্ভোগে যাত্রীরা

বিলাল হোসেন: দ্বীপ ইউনিয়ন গাবুরা ও পার্শ্ববর্তী খুলনা জেলার কয়রা উপজেলার অধিকাংশ মানুষকে শ্যামনগর ও সাতক্ষীরা শহরে যাওয়ার জন্য নীলডুমুর খেয়াঘাট পার হতে হয়। তবে নীলডুমুর খেয়াঘাটে যাত্রী ছাউনি না থাকায় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে যাত্রীদের। খেয়াঘাটের টোল আদায় করার জন্য একটি ছোট গোলপাতার ছাউনি থাকলেও সেটার অবস্থাও খুব খারাপ।

জানা গেছে, প্রতিদিন নীলডুমুর খেয়াঘাট দিয়ে ২-৩ হাজার মানুষ পার হয়। এজন্য নীলডুমুর খেয়াঘাটে নৌকা বা ট্রলারের অপেক্ষায় দাড়িয়ে থাকে যাত্রীরা। এসময় রোদে পুড়ে বৃষ্টিতে ভিজে অপেক্ষা করতে হয় তাদের। এসময় বেশি সমস্যার মধ্যে পড়ে বৃদ্ধ, মহিলা, শিশু, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও গর্ভবতী নারীরা।

সূত্র মতে, জেলা পরিষদ ১ লক্ষ ৬৮ হাজার ২৬৬ টাকায় খেয়াঘাটটি ইজারা দিয়েছে। ইজারাদাররা মাথাপিছু ৫ টাকা ও মালামালের জন্য ১০ টাকা হারে টোল আদায় করে থাকে।

তবে, কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণে সেখানে যাত্রী ছাউনি নির্মাণ করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ যাত্রীদের।

বুড়িগোয়ালিনী ফরেস্ট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী রহিমা খাতুন জানায়, গাবুরা ইউনিয়নে ২টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় থাকলেও সেটা বাড়ি থেকে অনেক দূরে। তাই বুড়িগোয়ালিনী হাইস্কুলে আসি। কিন্তু ডুমুরিয়া খেয়াঘাটে এসে পারাপারের জন্য দীর্ঘ সময় দাড়িয়ে থাকতে হয়। এখানে বসার কোনো ব্যবস্থা নেই। রোদ বৃষ্টি হলে যাত্রী ছাউনি না থাকায় পার্শ্ববর্তী দোকানে আশ্রয় নিতে গেলে অনেক সময় নৌকা ছেড়ে দেয়। তখন অনেক বেশি সমস্যায় পড়তে হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পৌঁছাতে পারি না।

হাফিজুল ইসলাম বুলবুল বলেন, খেয়াঘাটে যাত্রী ছাউনি না থাকায় পারাপারে ভোগান্তি পোহাতে হয়। এখানে একটা যাত্রী ছাউনি থাকলে রোদে পুড়ে ও বৃষ্টিতে ভিজতে হতো না।

খেয়াঘাটের টোল আদায়কারী মোহর আলী মোল্ল্যা বলেন, যাত্রী ছাউনির জন্য জনপ্রতিনিধিদের জানানো হয়েছে। কিন্তু তারা এখনো পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা করেনি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আমি আবেদন জানাই যেন দ্রুত নীলডুমুর খেয়াঘাটে একটি যাত্রী ছাউনির ব্যবস্থা করেন।

গাবুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জি এম মাসুদুল আলমের বলেন, ডুমুরিয়া খেয়াঘাটে যদি যাত্রী ছাউনি করার মত পর্যাপ্ত জায়গা থাকে তাহলে আমি ওখানে যাত্রী ছাউনি করে দেবো।

এই বিষয়ে শ্যামনগর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান সাঈদ উজ জামান জানান, জেলা পরিষদ এটার ইজারা দেয়। যারা রাজস্ব নেয় তাদের অবশ্যই এ বিষয়টি দেখা উচিত। যাত্রীদের সুবিধার্থে গাবুরা ও বুড়িগোয়ালিনী খেয়াঘাটের যাত্রী ছাউনি নির্মাণ করা খুব দরকার।

জেলা পরিষদ সদস্য গোলাম মোস্তফা (বাংলা) বলেন, এগুলোর জন্য মন্ত্রণালয় স্পেশাল বরাদ্দ দেয়। জেলা পরিষদ বরাদ্দ দিতে পারে না। আমরা অতি দ্রুত নীলডুমুর খেয়াঘাটে একটি ঘাট করবো। ঘাটের দুইপাশে দোকান থাকার কারণে যাত্রী ছাউনি করা সম্ভব হচ্ছে না। তারপরেও ঘাট করার পরে চিন্তাভাবনা করে দেখবো গাবুরা অথবা নীলডুমুরে যাত্রী ছাউনি করা যায় কি না।

শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: আক্তার হোসেন বলেন, নীলডুমুর খেয়াঘাটটি জেলা পরিষদের আওতাভুক্ত। এই বিষয়ে আমি জেলা পরিষদের মাসিক সভায় উপস্থাপন করবো।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

শ্যামনগরের মোস্ট ওয়ান্টেড মেহেদী ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার

১

শ্যামনগরে দায়ের কোপে আহত মোজাম মিস্ত্রির মৃত্যু

২

পাইকগাছায় দৈনিক রানার’র ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

৩

শ্যামনগরে যুবদের জলবায়ু পরিবর্তন, অভিযোজন ও প্রশমন বিষয়ক প্রশিক্ষণ

৪

দেবহাটায় আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত

৫

দেবহাটায় নজরুল বর্ষের সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ

৬

বয়েজ স্কুলের খেলার মাঠের বেহাল দশা, দ্রুত সংস্কারের দাবি

৭

সাতক্ষীরা জেলা জাপার সভাপতি আজহার হোসেনের সুস্থতায় দোয়া কামনা

৮

শ্যামনগরে দৈনিক রানারের ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্‌যাপন

৯

মুক্তি পেল নিলয়ের মিউজিক ভিডিও ‘পুজো পুজো অনুভব’

১০

দেবহাটায় পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে পুলিশ সুপার আশরাফুল আলম

১১

পাইকগাছায় আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত

১২

স্কুলে ভর্তির নীতিমালা প্রকাশ, ১ম শ্রেণিতে লটারি, ২য় থেকে ৯ম পর্যন্ত পরীক্ষা

১৩

রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে কালি লেপনের প্রতিবাদে সাতক্ষীরায় সমাবেশ

১৪

কালিগঞ্জে দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত

১৫

মোহাম্মদ আলী সুজন ও সুজয়ের মায়ের ইন্তেকাল, সাতক্ষীরা সাংবাদিক কেন্দ্রের শোক

১৬

তালায় দৈনিক রানার’র প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

১৭

কয়রায় আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত

১৮

শ্যামনগরে জেলের স্বপ্ন পুড়িয়ে দিল দুর্বৃত্তরা

১৯

কপ৩১-কে সামনে রেখে সাতক্ষীরায় জলবায়ু পদযাত্রা: ন্যায্য ক্ষতিপূরণ নিশ্চিতের দাবি

২০