বাংলাদেশ, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৯ আশ্বিন ১৪৩৩ | সময়:
admin
২ জানুয়ারি ২০২৪, ৮:২৫ অপরাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ

একটি দৃশ্য, কয়েকটি কথা || পলটু বাসার

কতকগুলো পরিচ্ছেদ নিয়ে একটি অধ্যায় হয়। আবার কতগুলো অধ্যায়ের সমষ্টি একটি গ্রন্থ বা সময়কাল। কাল পরিক্রমায় সবকিছু পরিবর্তন হয়। ক্ষয়ে-গড়ে নিঃশেষ হয় কিম্বা ভাস্বর হয়। কাল বা যুগকে গড়ে যায়, ন’ড়ে যায় কিছু মানুষ। তাদের কাজের মধ্য দিয়ে। কেউ ভালো কাজ, কেউ খারাপ কাজ। কেউ সুখ্যাতি অর্জন করে কেউ কুখ্যাতি। কুখ্যাতি অনাকাঙ্ক্ষিত। আকাঙ্ক্ষিত মানুষের মনুষ্যত্ব, মানবতা, সৃজনশীলতা, দায়বোধ, নিজকে বিলিয়ে দেয়ার মধ্য দিয়ে পথচলা প্রভৃতি। নানা ভাবে একাজ হয়ে থাকে। নানা মাত্রায় তার উপস্থাপন আমরা দেখতে পাই।
দাতা হাতেমতাই এর কথা আমরা জানি। রাজা তার ভা-ার বিলিয়ে দিয়েও নিঃস্ব, রিক্ত হাতেমের মতো মানুষ প্রিয়তা পায়নি। শেষে হাতেমকে খুন করতে প্রচেষ্টা চালিয়েও ব্যর্থ হয় এবং সবশেষে হাতেমের কাছে পরাজয় শিকার করে তাকে বন্ধু করে নেয়।
এক একজনের অবদান এক এক রকমের। কেউ বাপুতে বা শ্বশুরালয় প্রাপ্ত সম্পদ সাধারণ মানুষের জন্য বিলিয়ে দিয়ে, কেউ নিজ উপার্জিত অর্থ অন্যের জন্যে বিলিয়ে দিয়ে, কেউ তাঁর মেধা মনন দিয়ে, কেউ দেশের জন্যে জীবন বিলিয়ে দিয়ে, কেউবা আবিষ্কার, সদুপদেশ দিয়ে, কেউ নীতি কথা দিয়ে। এ রকম অসংখ্য পথাবম্বন করে সমাজকে দান করে যান। শ্রমজীবী, কবি, সাহিত্যিক, দার্শনিক, বুদ্ধিজীবীরাও তাঁদের শ্রম, প্রজ্ঞা, দর্শন দিয়ে সমাজকে সামনের দিকে এগিয়ে নেন। মানুষকে আলোকিত হতে সহযোগিতা করেন। তাই এঁরা সহজে মৃত্যুবরণ করেন না। দৈহিক মৃত্যু ঘটলেও বেঁচে থাকেন শত-সহস্র বছর।
উদাহরণ অনেক আছে। হাজী মোঃ মহসিন থেকে শুরু করে রামমোহন-বিদ্যাসাগর। সক্রেটিস থেকে গ্যালিলিও। ইবনেসিনা, আলবিরুনী, এডিসন। জগদীশচন্দ্র বসু, কুদরত ই খোদা।
বাঙালি জাতির নিজস্ব ভূখ-ের জন্য সহস্র বছর ধরে যাঁরা জীবন দিয়েছেন। এ সমাজ গঠনে যাঁরা অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন। সাম্য সত্যের জন্য যারা জীবন দিয়েছেন। সবই সমাজের জন্য। দেশ ও সমাজ গঠনে চিন্তা, মনন, শ্রম, সময় দিয়েছেন। দুনিয়াতে এমন অসংখ্য নিদর্শন রয়েছে।
যতদূর মনে পড়ে, ছোট একটি মিছিল। অল্প কিছু মানুষ। যাদের পরিধানের বস্ত্র ময়লা, গায়ে কালি, শরীর শুষ্ক, তেজদীপ্ত পদক্ষেপ। চলেছে বর্তমান সিটি ব্যাংকের সামনের রাস্তা দিয়ে। একটা ব্যানার ধরে আছেন সামনের কয়েকজন। মাঝখানে সুঠামদেহী, সুদর্শন, পরিপাটি পোষাকে একজন। জামার হাতা কনুই অব্দি গোটানো। মুখে লেগে আছে স্মিত হাসি, বুকটা সামনে হেলানো। তাঁরই সাথে গলা মিলিয়ে মিছিলের সবাই গাইছে ‘আমরা করবো জয় একদিন, …মনের গভীরে আমরা জেনেছি, সত্যের জয় হবে একদিন, সাম্যের জয় হবে একদিন, সত্যের ভোর আসবে একদিন।’ মনে হচ্ছিল যেন ৩০ জন নয় ৩ শত মানুষের ভার নিয়ে চলেছেন তাঁরা। আমি রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে অবাক বিস্ময়ে দেখছিলাম। সম্ভবত গানটি ঐ প্রথম শুনেছিলাম এমন আবেদনময় ভাবে। মিছিলের নেতৃত্বদানকারী মানুষটি ছিলেন মোঃ আনিসুর রহিম। একটি উচ্চ শিক্ষিত সংস্কৃতিবান পরিবারের সদস্য হয়েও তাঁর চেতনায় ছিল জনগণের মুক্তির তীব্র আকাক্সক্ষা। তিনি রাজনৈতিকভাবে তখন সিপিবি করতেন। মৃত্যুর আগমুহূর্ত পর্যন্ত তাঁর বিশ্বাস থেকে এক চুল সরে যাননি। যখন দেশে চলছে সুবিধাবাদের বেলেল্লা রংবদল। তখনও নিজের বিশ্বাসকে বিলিয়েছেন নির্বিঘ্নে , নিরন্তর। আন্তর্জাতিক রাজনীতির পালা বদল হয়েছে। সমাজতান্ত্রিক বিশ্ব দ্বিধাবিভক্ত হয়েছে, দেশে তার প্রভাব প্রকট হয়েছে। নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছেন অযাচিত তর্ক থেকে। পানি যেমন গড়াতে গিয়ে নিজের পথ খুঁজে নেয়, বাতাস যেমন সামনে যেতে পাহাড়কেও ডিঙিয়ে যায়, আনিসুর রহিম তেমনি তাঁর আদর্শকে ধারণ করে সমাজ সেবামূলক বিভিন্ন কাজে নিয়োজিত হয়েছেন।
দলবদল করেননি, সুবিধাবাদের খপ্পরে গা ভাসাননি।
এক আদর্শের মানুষ হয়ে অন্য আদর্শের স্লোগান দিয়ে পকেট গরম করেননি। আনিসুর রহিমের একটি বড় কৃতিত্ব এইখানে বলে মনে করি।
এরপর অনেক পথচলা। শহরের, জেলার বিভিন্ন সমস্যা, সংগঠনে যুক্ত হওয়া। আন্দোলন সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়া। রাজনীতি তিনি ছেড়েছিলেন কিন্তু আন্দোলন সংগ্রাম, জেল, মিছিল তাঁকে ছাড়েনি।
একটার পর একটা সংগঠন গড়েছেন। প্রত্যেকটা কাজের মধ্যেই প্রকাশ পেয়েছে তাঁর রাজনৈতিক চেতনার বহিঃপ্রকাশ। তিনি পথ খুঁজে নিতে জানেন, তাই কখনও পথ হারাননি। আদর্শের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেননি। সমাজ পরিবর্তনে সেই জয় তিনি দেখে যেতে পারেননি তবুও এ জয় তাঁর বিশ্বাসের শক্তির জয়। নিপীড়িত মানুষের জয়। আনিসুর রহিম নামের মানুষটির জয়।
যে জয়ের স্বপ্ন নিয়ে তিনি জীবন কাটিয়েছেন। তাঁর কণ্ঠে কণ্ঠ মিলিয়ে আমরাও গেয়ে উঠি, ‘আমরা করবো জয় একদিন। …সত্যের ভোর আসবে একদিন।’

লেখক: কবি, সম্পাদক

সূত্র: স্মারকগ্রন্থ অনন্য আনিস

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

একই জায়গায় আটকে থাকতে চাই না

চলন্ত স্লিপার বাসে আগুন, ঘুমের মধ্যেই পুড়ে মরল ৯ যাত্রী

বোয়িংয়ের সঙ্গে আরও ১১টি নতুন বিমান কেনার চুক্তি

এশিয়ান গেমসে শ্রীলঙ্কাকে ৫-১ গোলে উড়িয়ে দিল বাংলাদেশ

বিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ বিশ্ব গড়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

দুপুরের মধ্যে ১১ অঞ্চলে বজ্রবৃষ্টির আভাস

আশাশুনির নয়াবাদে স্বামীর নির্মম নির্যাতনে হাসপাতালে স্ত্রী

কালিগঞ্জ সিনিয়র সিটিজেন ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সভা

কালিগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ভূমি অফিস পরিদর্শনে এমপি রবিউল বাশার

ভারত থেকে ইলিশ আমদানি বন্ধ

১০

পাইকগাছায় কৃষকদলের বিক্ষোভ মিছিল

১১

কালিগঞ্জে যুবদলের আনন্দ মিছিল

১২

চাঁদা না পেয়ে নির্মাণাধীন বাড়ি ভাঙচুর ও মারপিটের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

১৩

সাতক্ষীরায় এবি পার্টির কমিটি গঠন: আহ্বায়ক শাকিল, সদস্য সচিব শাহীন

১৪

সাতক্ষীরা জেলা শহীদ জিয়া স্মৃতি সংসদের কমিটি গঠন: সভাপতি রাসেল, সম্পাদক গাজী বাবু

১৫

গাছের ডালে ঝুলছিল ১১ ফুটের অজগর, উদ্ধারের পর সুন্দরবনে অবমুক্ত

১৬

৬ লাখ মানুষের জলাবদ্ধতা নিরসনে টিআরএম চান সাতক্ষীরার যুবরা

১৭

দেশকে অস্থিতিশীল করার প্রতিবাদে সাতক্ষীরায় স্বেচ্ছাসেবক দলের বিক্ষোভ মিছিল

১৮

সাতক্ষীরায় মানবাধিকার সাংবাদিক নেটওয়ার্ক’র সভা

১৯

দেবহাটায় যুবদলের আনন্দ মিছিল

২০