বাংলাদেশ, সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬
২০ আশ্বিন ১৪৩৩ | সময়:
admin
২৩ জানুয়ারি ২০২৪, ১:১২ অপরাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ

একজন সমালোচকের চোখে পত্রদূত || তানজির কচি

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কারণে চারদিকে বিভ্রান্তিকর তথ্য-উপাত্ত-ছবি-ভিডিও’র ছড়াছড়ি। প্রকৃতপক্ষে গণমাধ্যম বলতে যে দায়িত্বশীল ‘প্রতিষ্ঠান’কে বোঝায় তা বিভ্রান্তিকর তথ্য-উপাত্তের বাজারে এখন বেশ চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি অবস্থান করছে। বর্তমান সময়কার গণমাধ্যমগুলো আসলে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় কতটুকু সক্ষমতার পরিচয় দিচ্ছে সেটি একটি বড় প্রশ্ন। পাঠক-দর্শক-শ্রোতাদের অনেকেই এখন ভাইরাল বা ভিউ শব্দের সাথে বেশ পরিচিত। তারা এখন সংবাদের মধ্যেও বিনোদন খোঁজে। তাদের কাছে গঠনমূলক সংবাদের চেয়ে হাস্যকর (ফানি) সংবাদ বা ফানি উপস্থাপনার ভঙ্গি বেশ প্রিয় বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। তাই সমাজের জন্য ইতিবাচক ও কল্যাণকর সংবাদ তৈরি এবং তা দিয়ে পাঠক-দর্শক-শ্রোতার কাছে সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমের আস্থা অর্জন অন্যান্য সময়ের চেয়ে এখন বেশ কঠিন।

বরাবরই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে একটি গণমাধ্যমকে পাঠক-দর্শক-শ্রোতার আস্থা অর্জন করতে হয়। কিন্তু বর্তমান সময়কার গণমাধ্যমের চ্যালেঞ্জ অন্যান্য সময়ের চেয়ে ভিন্নতর। কিন্তু এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে গিয়ে গঠনমূলক সংবাদের পরিবর্তে দেশের শীর্ষ স্থানীয় গণমাধ্যমগুলোও এখন ভাইরাল কনটেন্ট তৈরিতে ব্যস্ত। সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে গণমাধ্যমগুলোকে এখন মাল্টিমিডিয়ায় ঝুঁকতে হচ্ছে, এটা স্বাভাবিকও বটে। প্রকাশ মাধ্যম বা পদ্ধতির পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই কাম্য। কিন্তু তা যদি গণমাধ্যমের ভূমিকা থেকে বিচ্যূত করে, তাহলে প্রশ্নবিদ্ধ হওয়াই স্বাভাবিক। তাই চ্যালেঞ্জটা একটু বেশি।

এতো কথার অবতারণা মূলত সাতক্ষীরার পাঠকপ্রিয় দৈনিক পত্রদূতের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে ঘিরে। মফঃস্বল শহর থেকে প্রকাশিত পত্রিকাটির সাথে আমার সম্পর্ক বেশ পুরোনো এবং ত্রিমাত্রিক- প্রথমত একজন পাঠক, একজন সাবেক সংবাদ কর্মী এবং একজন সমালোচক হিসেবে।

২০০৫ সালের মার্চে যখন ‘শিশু প্রকাশ’-এ শিশু সাংবাদিকতার মধ্যদিয়ে লেখালেখিতে হাতেখড়ি, তখন আমাদেরই প্রশিক্ষক শরীফুল্লাহ কায়সার সুমন পত্রদূতের মফঃস্বল সম্পাদক ছিলেন। সেই সুবাধে পত্রদূতে যাওয়া-আসা শুরু, চলছে এখনো। এক পর্যায়ে যখন আমি পত্রদূতের সহযোগী সম্পাদক, তখন বার্তা বিভাগের দায়িত্ব ছিল মূলত আমার হাতেই। সেসময় সর্বোচ্চ নিষ্ঠার সাথে বার্তা বিভাগে দায়িত্ব পালন করেছি। ২০১৪ সালের ৩০ জুন আমি যখন পত্রদূতের দায়িত্ব ছেড়েছি, তারপরও পত্রদূতের সাথে আমার সম্পর্ক ছিন্ন হয়নি। যখন যে অবস্থায় যেখানে যে দায়িত্ব পালন করেছি, সেখানে পত্রদূতকে সম্পৃক্ত করার চেষ্টা করেছি।

তবে, তখন সাংবাদিকদের মধ্যে বর্তমানে চর্চারতদের মতো ওতো সেলিব্রেটি ভাব ছিল না। লেখালেখি করেই সকলকে সাংবাদিক হতে হতো। কিন্তু এখন তো কিছু না করেও সাংবাদিক হওয়া যায়। আর এই কর্মক্ষেত্রে দুদিন থাকতে পারলে তো কোনো কথা নেই- বিশাল সেলিব্রেটি!

পত্রদূতের সাথে আমার যে ত্রিমাত্রিক সম্পর্ক তা এখনো বিদ্যমান। আমি যখন পত্রদূতের কর্মী ছিলাম, সর্বোচ্চ ইফোর্ট দিয়ে কাজ করেছি। আমি যখন পাঠক হিসেবে পত্রদূত পড়ি, গঠনমূলক সংবাদই প্রত্যাশা করি এবং একজন সমালোচক হিসেবে সমালোচনা করতেও দ্বিধা করি না। সেই সাথে আমার সমালোচনা, পাঠক হিসেবে প্রত্যাশা পত্রদূত কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা করি।

পত্রদূত বরাবরই সাতক্ষীরায় সাংবাদিক তৈরির ‘প্রতিষ্ঠান’ হিসেবে কাজ করেছে। বরাবরই নির্যাতিত-নিপীড়িত মানুষের কথা বলেছে। অনিময়-দুর্নীতির বিরুদ্ধে রুখে দাড়িয়েছে। ইতিবাচক সমাজ গঠনে কাজ করেছে। কিন্তু এখনকার আলোচনা পত্রদূত আসলে গণমাধ্যমের বর্তমান চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় নিজেকে কতটুকু প্রস্তুত করতে পেরেছে তা নিয়ে।

এই আলোচনার সাথে খুবই সামঞ্জস্যপূর্ণ প্রশ্ন হলো- পত্রদূত পাঠকের আস্থা ধরে রাখতে পারছে কি না? পত্রদূত তার কর্মীদের দিয়ে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ তৈরি করাতে পারছে কি না? পত্রদূতের বার্তা ব্যবস্থাপনা পাঠকের ক্ষুধা কতটুকু মিটাতে পারছে?

এক্ষেত্রে আমার পর্যবেক্ষণ হলো পাঠকের ক্ষুধা নিবারণে পত্রদূত শেষ ঠিকানা। তবে, বার্তা ব্যবস্থাপনায় বেশ দুর্বলতা লক্ষ্যণীয়। এক্ষেত্রে আরও দায়িত্বশীল হওয়া স্বাভাবিকভাবেই প্রত্যাশিত। এছাড়া সমাজের প্রত্যাশা পূরণে পত্রদূতের এখনো ঢের দিতে বাকী। এজন্য পত্রদূতের কর্মী বাহিনীকেও পরিবর্তিত চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার উপযোগী হিসেবে গড়ে তোলার বিকল্প দেখছি না। কারণ সংবাদ কর্মীরা এখন খুব সহজেই প্রভাবিত হচ্ছেন। অনেকেই স্বার্থান্বেষী মহলের মনোবাসনা পূরণের হাতিয়ার হয়ে উঠছেন।

বস্তুনিষ্ঠ সংবাদের পাশাপাশি এখন ভালো পাঠক-দর্শক-শ্রোতা তৈরির কাজ গণমাধ্যমকেই করতে হচ্ছে। এই ক্ষেত্রে ব্যর্থতার কারণে বিভ্রান্তিকর তথ্য-উপাত্ত-ছবি-ভিডিও’র প্রচারকারীরা হু হু করে এগিয়ে যাচ্ছে। এই বিভ্রান্তি রোধে প্রচলন ঘটেছে নতুন শব্দের ‘ফ্যাক্ট চেক’। প্রকৃতপক্ষে গণমাধ্যমের হাউজ কিপারদের দায়িত্বের মধ্যে অন্যতমই হলো ‘ফ্যাক্ট চেক’। কিন্তু ফ্যাক্ট চেকের ক্ষেত্রে আমাদের গণমাধ্যমগুলো বেশ পিছিয়ে যাচ্ছে। বস্তুনিষ্ঠতা নিশ্চিতে পত্রদূতের বার্তাবিভাগের ফ্যাক্ট চেক সেল আরও শক্তিশালী করতে হবে।

সীমাবদ্ধতা থাকবেই। এই সীমাবদ্ধকে অতিক্রম করেই আগামীর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সক্ষমতার পরিচয় দেবে পত্রদূত, আরও শাণিত হবে পত্রদূতের লেখনী- এই প্রত্যাশায়…

লেখক: সাবেক সহযোগী সম্পাদক, দৈনিক পত্রদূত

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

লালন আখড়ায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলা, গাড়ি ভাঙচুর

১

জবি ইতিহাস বিভাগের নবীন বরণ ও বিদায় অনুষ্ঠান

২

সাতক্ষীরা জেলা মটর শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন: টিটু সভাপতি, মামুন সম্পাদক

৩

সাতক্ষীরা তায়কোয়ানডো ক্লাবের তিন স্বর্ণ ও এক রৌপ্য জয়

৪

জাকারিয়া হত্যাকাণ্ডে কিশোর গ্যাঙ লিডার নাহিদ হাসানসহ ১২ জনের নামে মামলা

৫

মা হারালেন সাংবাদিক এম শাহীন গোলদার, সাতক্ষীরা সাংবাদিক কেন্দ্রের শোক

৬

সাংবাদিক এম শাহীন গোলদারের মা আর নেই, সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের শোক

৭

সাতক্ষীরায় শিখো–প্রথম আলো জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতি সংবর্ধনা: মাদক, মিথ্যা ও মুখস্থকে ‘না’ বলার শপথ

৮

ঘেরের বেড়িতে গাঁজা চাষ, আটক ১

৯

দেবহাটায় পোল্ট্রি খামারে হামলা-লুটের মূলহোতা গ্রেপ্তার

১০

ডেঙ্গুতে আরও ৬ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ২০৮৯

১১

না জানিয়ে অন্য শহরে ভ্রমণ, বড় শাস্তি পাচ্ছেন বাংলাদেশের ৩ ক্রিকেটার

১২

এক লাফে ২৫২ টাকা বাড়ল এলপিজির দাম

১৩

বাংলাদেশের ৯২ শতাংশ পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা দে‌বে যুক্তরাজ্যg

১৪

নয় মাস পর শুটিংয়ে ফিরছেন তানিয়া বৃষ্টি

১৫

এফবিআইয়ের ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ তালিকায় বাংলাদেশি চিকিৎসক জাহিদুল

১৬

ক্রীড়াবিদদের জন্য ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

১৭

যানজট নিরসনে বৃত্তাকার সড়ক নির্মাণ কাজের গতি বাড়ানোর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

১৮

কোন সময় বলব আলহামদুলিল্লাহ, মাশাআল্লাহ ও বারাকাল্লাহ

১৯

সরকারি সফরে অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্যে সেনাপ্রধানের ঢাকা ত্যাগ

২০