বাংলাদেশ, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
১৯ ভাদ্র ১৪৩৩ | সময়:
admin
১৭ মার্চ ২০২৪, ১১:৩৮ অপরাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ

শ্যামনগরে এলজিইডির সব কাজেই দুর্নীতির মহোৎসব, দেখবে কে?

সুলতান শাহজান, শ্যামনগর: সাতক্ষীরার শ্যামনগরে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) সব কাজেই অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগ, এলজিইডি’র তত্ত্বাবধানে গ্রামগঞ্জের রাস্তা এবং ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণে ব্যাপক অনিয়ম হচ্ছে।

জানা যায়, এলজিইডির তত্ত্বাবধানে নুরনগর ইউনিয়নে কুলতলি-হাজীপুর সংযোগ সড়কে কার্পেটিং-এর কাজ করছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মাইন এন্টারপ্রাইজ।

আড়াই কিলোমিটার বিস্তৃত এ সড়কজুড়ে বিছানো পুরানো ইটের সংখ্যা সাত লাখ ৯০ হাজার। দরপত্রের বিধি ও সরকারি আইন অনুযায়ী কাজ শেষে উক্ত ইটের ‘স্যালভেজ’ মূল্য ঠিকাদারের বিলের সাথে সমন্বয়ের কথা। এছাড়া সমুদয় ইট একই সড়ক পুনঃনির্মাণ কাজে ব্যবহারের সুস্পষ্ট নীতিমালা রয়েছে। অথচ নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে কুলতলি-হাজীপুর সংযোগ সড়কের যাবতীয় ইট কলবাড়ি-নীলডুমুর সংযোগ সড়কে ব্যবহার হয়েছে।

অভিযোগ, কর্তৃপক্ষের যোগসাজশে কলবাড়ি-নীলডুমুর সংযোগ সড়কের কার্যাদেশ পাওয়া ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের মালিক আব্দুল হাকিমের কাছে স্বল্প মূল্যে বিক্রি করা হয় উক্ত ইট।

একইভাবে নির্মাণাধীন উপজেলা সদরের মুক্তিযোদ্ধা সড়কের দু’পাশে থাকা এইচবিবি (হেয়ারিং বন্ড) এর ৩০ হাজারেরও বেশী ইট রাতরাতি গায়েব হয়ে গেছে। এপর্যায়ে শুধুমাত্র ড্রেন নির্মাণ শেষ করেই কাজ স্থগিত রাখা হয়েছে।

অভিযোগ উঠেছে, অপ্রয়োজনীয় ম্যাকাডম এর অজুহাতে ‘রিভাইস’ প্রস্তাবনা প্রেরণের জন্যই এমন কৌশল নেয়া হয়েছে। আবার যেনতেনভাবে কাজ করতে যেয়ে একজন নির্মাণ শ্রমিকের মুত্যর পরও নিরাপত্তা বেষ্টনী ছাড়াই সম্পন্ন হয়েছে বাকি অংশের ড্রেন নির্মাণের কাজ। এছাড়া দু’পাশে বিস্তর জায়গা থাকা সত্ত্বেও উদ্ধারের উদ্যোগ না নিয়ে নামকাওয়াস্তে সংকীর্ণভাবে নির্মিত হচ্ছে সদ্য পৌরসভায় উন্নীত এ জনপদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি।

এদিকে, বুড়িগোয়ালীনি-নীলডুমুর সংযোগ সড়কে ছয়টি কালভার্ট নির্মাণের ক্ষেত্রে মানা হয়নি ন্যূনতম নিয়ম-কানুন। দরপত্রের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও পুরানো কালভার্টের বাটন অপসারণ না করেই যেনতেনভাবে সেখানে নুতন ঢালাই দেয়া হয়েছে।

এছাড়া কার্যাদেশের ধারে কাছে না যেয়ে নির্দিষ্ট মাপের দ্বিগুন দূরত্ব বজায় রেখে লোহার খাঁচা বেধে ঢালাইয়ের কাজ করা হয়েছে কালভার্টগুলোতে। যা স্ক্যানার মেশিন দিয়ে যাচাই করলে পুরোপুরি পরিষ্কার হয়ে যাবে। আবার পুরানো বেগের উপর দিয়ে ঢালাইয়ের ফলে কালভার্টের উচ্চতা বৃদ্ধির সুযোগ নিয়ে উক্ত সড়কের জন্যও রিভাইস প্রস্তাবনা প্রেরণের ঘটনা ঘটানো হয়েছে।

তবে শুধুমাত্র উল্লিখিত কাজগুলোতে যে অনিয়ম ও দুর্নীতি হচ্ছে তা নয়। বরং অনিয়মের সে ধারা অব্যাহত রাখা হয়েছে সদরের এইচসি পাইলট বিদ্যালয় থেকে যমুনা খাল, ভুলোরমোড় থেকে সোনারমোড় ও নকিপুর বাজার থেকে পোস্ট অফিস মোড় পর্যন্ত ড্রেন নির্মাণসহ আরও অসংখ্য প্রকল্পে এ অবস্থা।

অনুসন্ধানে দেখা মিলেছে, বংশীপুর কসাইখানা নির্মাণ কাজের নামে মাত্র দুই হাজার ইট কার্যস্থলে পৌছালেও ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে বরাদ্দের অর্থ ছাড় করা হয়েছে।

একইভাবে এইচসি পাইলট বিদ্যালয় থেকে যমুনাসহ অপর দুটি প্যাকেজের দুইশ ৬৪ মিটার ড্রেন নির্মাণ কাজ শুরুর আগেভাগে বরাদ্দের ৭৫ শতাংশ অর্থ ছাড়করণের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। আবার বরাদ্দ ছাড়ের পর একটি অংশে কাজ শুরু হলেও সেখানে একপাশে স্টিল শাটার দিয়ে সেন্টারিং করা হলেও অপর পাশে গোজামিল দিয়ে কাজ চলছে।

অভিযোগ উঠেছে, চলমান উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে অনিয়ম ও দুর্নীতি চললেও সম্পূর্ণ নিশ্চুপ এলজিইডির শ্যামনগর উপজেলা শাখার কর্মকর্তারা।

তদারকির দায়িত্বে থাকা কর্তৃপক্ষের আশ্রয় প্রশ্রয়ে প্রকল্পসমূহে সাগর চুরির মত ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ।

অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরে সম্প্রতি একজন সহকারী প্রকৌশলীসহ অপর এক কার্য সহকারীকে অন্যত্র বদলীও করা হয়েছে সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় কয়েকজন অভিযোগ করে জানান, পানখালী ১৮৮নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অনুকূলে এলজিইডি থেকে বরাদ্দ দেয়া হয় প্রায় এক বছর আগে। কাজ না করেই প্রকল্পের সমুদয় অর্থ ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের সহায়তায় আত্মসাতের চেষ্টা করলেও সম্প্রতি বিষয়টি জানাজানি হয়। যার প্রেক্ষিতে গত কয়েকদিন পূর্বে সেখানে কাজ শুরু করেছে প্রতিষ্ঠিানটি।

এ ব্যাপারে এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী জাকির হোসেন বলেন, কুলতলি,হাজীপুর সংযোগ সড়কের ইট পাশে গচ্ছিত রয়েছে। আমার জানামতে সেখান থেকে কোন ইট কলবাড়ী-নীলডুমুর সড়কে যায়নি। একইভাবে মুক্তিযোদ্ধা সড়কের ইট গোপালপুর পিকনিক কর্নার এলাকায় খোয়া তৈরী করে রাখা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, সামান্য কিছু ভুলের কারণে গুরুত্বপূর্ণ ঐ সড়কের বরাদ্দ রিভাইসের জন্য পাঠানো হয়েছে।

কাজ শুরুর আগেই বরাদ্দ ছাড়ের সত্যতা নিশ্চিত করে তিনি বলেন, কাজ শুরু হয়নি, তবে হবে। এছাড়া ড্রেনগুলোর সেন্টারিং এর কাজে একপাশে শার্টার ব্যবহারের বিষয়টি তিনি অবগত নয় বলে স্বীকার করেন। তবে কলবাড়ি-নীলডুমুর সড়কের কালভার্টে ঢালাইয়েও কয়েকটি সরবরাহ করে খাঁচা বাধার বিষয়টি কার্যাদেশ অনুযায়ী রয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।

প্রসঙ্গত, উপজেলা প্রকৌশলী জাকির হোসেন ইতোপূর্বে কালিগঞ্জে কর্মরত থাকাকালেও একইভাবে অনিয়ম ও দুর্নীতিকে নিয়মে পরিণত করেছিলেন।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

সুন্দরবনের কোলে দ্য এডিটরস’র প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

বিডিএফ প্রেসক্লাবে দ্য এডিটরস’র প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

তালতলা থেকে কোহিনুরের ম-র-দেহ উদ্ধারের পেছনে অনেক গল্প

এশিয়ান গেমসে লিটনের নেতৃত্বে বাংলাদেশ দল ঘোষণা

তালায় জলবায়ু অভিযোজন নেটওয়ার্কের অর্ধবার্ষিক সভা

আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ, অনুসন্ধানে দুদক

নজরুল বর্ষে সাতক্ষীরার সবচেয়ে বড় সাংস্কৃতিক আয়োজন করবে রবীন্দ্রসঙ্গীত সম্মিলন পরিষদ

ঘেরের বেড়িতে লাগানো ৩০০ কুমড়া গাছ কেটে সাবাড়

কালিগঞ্জের ভাড়াশিমলায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

সাতক্ষীরায় জামায়াতের দাওয়াতি অভিযান

১০

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে প্রথম দিনেই টাকা ফেরত চাইলেন ১৮ হাজার গ্রাহক

১১

খেলাপি ঋণ বেড়ে ৬ লাখ কোটি টাকা ছাড়াল

১২

কওমি মাদরাসার জন্য ৬ শিক্ষা বোর্ড গঠনের সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রীর

১৩

ইতিহাস গড়ে বিদেশের মাটিতে হৃদয়ের ট্রিপল সেঞ্চুরি

১৪

১৭২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে র‍্যাবের ১১ তলা সদর দপ্তর

১৫

দুই দেশের জনগণের স্বার্থ বিবেচনায় ভারত সফর করবেন তারেক রহমান: ত্রিবেদী

১৬

কয়রায় ৫৩তম জাতীয় গ্রীষ্মকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ

১৭

কমলো দাম, ১২ কেজির এলপিজি ১৫৮৫ টাকা

১৮

আশাশুনিতে সারের দোকান পরিদর্শনে কৃষি কর্মকর্তা

১৯

বাড়লো সয়াবিন তেলের দাম

২০
error: Content is protected !!