বাংলাদেশ, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
১২ কার্তিক ১৪৩৩ | সময়:
admin
২৩ অক্টোবর ২০২৪, ৪:৫৯ অপরাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ

ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধ নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় শ্যামনগর উপকূলের মানুষ

বিলাল হোসেন: ঘূর্ণিঝড় দানা আঘাত হানার শঙ্কায় ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধ নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছে সাতক্ষীরা উপকূলের মানুষ। দানার সম্ভাব্য গতিপথ ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দিকে হলেও বুধবার (২৩ অক্টোবর) সকাল থেকে সাতক্ষীরা উপকূলে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া বিরাজ করছে। সারাদিন দেখা মেলেনি সূর্যের।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানান, সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপকূলের অন্তত নয়টি পয়েন্টে উপকূল রক্ষা বেড়িবাঁধ মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। সামান্য জলোচ্ছ্বাসের এসব পয়েন্টে বেড়িবাঁধ ভেঙে প্লাবিত হতে পারে গোটা জনপদ।

সূত্র মতে, শ্যামনগরের বুড়িগােয়ালিনী ইউনিয়নের পশ্চিম দুর্গাবাটির দুটি পয়েন্টে ২০০ মিটার, দাতিনা খালীর একটি পয়েন্টে ২০০ মিটার, গাবুরা ইউনিয়নের ৯নং সোরা ও দৃষ্টিনন্দনে ৩০০ মিটার, মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের সেন্ট্রাল কালিনগর, হরিনগর বাজার ও কদমতলায় ৩৫০ মিটার, কৈখালী ইউনিয়নের বৈশখালিতে ১৫০ মিটার বেড়িবাঁধ মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে। এছাড়া রমজাননগরের দ্বীপ গ্রাম গোলাখালির সবটাই ঝুঁকিপূর্ণ।

গাবুরার বাসিন্দা মনিরুজ্জামান বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ আসলেই আমরা বাঁধ নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকি। বাঁধ ভাঙ্গার কারণে আমাদের বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়।

মুন্সিগঞ্জের সেন্ট্রাল কালিনগর গ্রামের জামিলা বেগম বলেন, একবার বাঁধ ভাঙলে আমাদের বেঁচে থাকার জন্য আর কোনো কিছু অবশিষ্ট থাকে না।

রমজাননগরের আব্দুল কাদের বলেন, ঘূর্ণিঝড়ের সময় গোলাখালির মানুষ খুবই অসহায় হয়ে পড়ে। দ্বীপ হওয়ায় সেখানে কোন সাইক্লোন সেল্টারও নেই। পানিতে ডুবে থই থই করে।

পশ্চিম দুর্গাবাটি গ্রামের মলিনা রানি রপ্তান বলেন, খোলপেটুয়া নদীর পাড়ে আমাদের বসবাস। আইলার পর থেকে প্রতিবছরই পশ্চিম দুর্গাবাটিতে খোলপেটুয়া নদীর বেড়িবাঁধ ভেঙে যায়। আমাদের সবকিছু নদীর মধ্যে। জমি জায়গা হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে গেছি। আবার ঝড় আসছে, কি হবে কে জানে।

গাবুরা ইউপি চেয়ারম্যান মাসুদুল আলম বলেন, উপকূলের বেশ কিছু পয়েন্টে বেড়িবাঁধ খুবই ঝুঁকিতে রয়েছে। পানির চাপ বাড়লে টিকিয়ে রাখা কঠিন হবে।

ঘূর্ণিঝড় ডানার প্রস্তুতি নিয়ে শ্যামনগরে কর্মরত পানি উন্নয়ন বোর্ডের এসডিও ইমরান হোসেন জানান, তাৎক্ষণিকভাবে কাজ করার জন্য তিন হাজার জিও বস্তা, দুই হাজার প্লাস্টিক বস্তা, ১০ জিও রোল প্রস্তুত আছে। এগুলো দিয়ে এক কিলোমিটার বাঁধ সংস্কার করা যাবে।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

প্রতিমা বিসর্জন দেখতে গিয়ে অতিরিক্ত মদ পান, ৪ দিন পর কিশোরের মৃত্যু

১

বসতভিটা নিয়ে বিরোধের জেরে শ্যামনগরে সংঘর্ষ, মা-ছেলেসহ আহত ৩

২

ঘূর্ণিঝড় অর্ণব: মঙ্গলবার রাত থেকে পশ্চিমবঙ্গে দুর্যোগ

৩

‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে আইজিপির বক্তব্যের যে ব্যাখ্যা দিলো পুলিশ সদর দপ্তর

৪

ডি-থ্রি ট্রফির নিলাম: একনজরে ছয় দলের পূর্ণাঙ্গ স্কোয়াড

৫

আশাশুনিতে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে একজন গ্রেফতার

৬

সাতক্ষীরা জেলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সভা

৭

জনতা, অগ্রণী ও বেসিক ব্যাংকে নতুন এমডি

৮

৭ নভেম্বর উপলক্ষে বিএনপির কর্মসূচি ঘোষণা

৯

হামের উপসর্গে আরও ৬ জনের মৃত্যু

১০

ব্যালন ডি’অর জিতলে কত টাকা পান ফুটবলাররা?

১১

কয়রা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে চিঠি

১২

একযোগে ৮৫ সাব-রেজিস্ট্রার বদলি

১৩

বাংলাদেশে উন্নয়নে জাপানের অব্যাহত সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী

১৪

ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল এশিয়ার দুই দেশ

১৫

দেবহাটায় এলএফও সদস্যদের মাঝে গাছের চারা বিতরণ

১৬

সুন্দরবনের পথে পথে জীবনের নানা গল্প || সুলতান শাহাজান

১৭

মানবেতর জীবন কাটছে বৃদ্ধ সাকাত-আনোয়ারা দম্পতির

১৮

ভারতীয় গোয়েন্দার সাথে গোলাম পরওয়ারের গোপন বৈঠক, দাবি রাশেদ খাঁনের

১৯

সাতক্ষীরায় যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী-সন্তানকে হত্যার দায়ে একজনের মৃত্যুদণ্ড

২০