বাংলাদেশ, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৩ আশ্বিন ১৪৩৩ | সময়:
admin
১৫ ডিসেম্বর ২০২৩, ৮:২৬ অপরাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ

আজও স্বীকৃতি মেলেনি শ্যামনগরের ২৮টি শহীদ পরিবারের

বিলাল হোসেন, উপকূলীয় প্রতিনিধি: স্বাধীনতার ৫২ বছর পেরিয়ে গেলেও স্বীকৃতি পায়নি সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের হরিনগর ও সিংহড়তলী গ্রামের ২৮টি শহীদ পরিবার।

সাবেক সংসদ সদস্য একে ফজলুল হক উদ্যোগ নিয়ে সেখানে একটি নাম ফলক স্থাপন করেছিলেন।

সেই ফলকে নাম থাকলেও আজও শহীদ পরিবারের স্বীকৃতি মেলেনি তাদের। এজন্য শহীদ পরিবারের সদস্যরা দ্বারে দ্বারে ঘুরেও পাননি কোনো কূল কিনারা।

পাক হানাদার বাহিনীর হামলায় নিহত বিহারী লাল মন্ডলের ছেলে যতিন্দ্রনাথ মন্ডল বলেন, আমরা মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়েও গিয়েছি। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কয়েক বার তদন্ত হয়েছে। সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুব আলম এসে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছিলেন। কিন্তু শেষ নামেনি।

একইভাবে নিহত আব্দুল বারী সানার ছেলে রাশেদ বলেন, স্বাধীনতার এতো বছর পেরিয়ে গেলেও স্বীকৃতি পাননি তারা।

সেদিনের সেই লোমহর্ষক ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে কান্না জড়িত কণ্ঠে গুণধর বীরেন্দ্রনাথ বিশ্বাস বলেন, যে দিন খানসেনাদের হাতে বাবা শহীদ হয়েছেন সেদিন সব হারিয়েছি। এখন চাওয়া পাওয়ার কিছু নেই। শুধু অফিসিয়াল স্বীকৃতি প্রয়োজন।

প্রসঙ্গত, ১৯৭১ সালের ১৪ এপ্রিল সোমবার পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী হরিনগর ও সিংহড়তলী গ্রামে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। দুটি গ্রামে আগুন জ্বালিয়ে সেখান থেকে তেত্রিশ জন নিরপরাধ মানুষকে ধরে নিয়ে যায় তারা। পরবর্তীতে তাদেরকে আইবুড়ী নদীর চরে লাইনে দাঁড় করিয়ে ব্রাশ ফায়ার করে। সেখানেই ২৮ জন প্রাণ হারায়। তাদেরকে আই বুড়ি নদীতেই ভাসিয়ে দেওয়া হয়।

সেদিন শহীদ হন, হরিনগর গ্রামের খগেন্দ্রনাথ মন্ডল, নিলশ্বর মন্ডল, জিতেন্দ্র নাথ মন্ডল, অজিত মন্ডল, সুরেন্দ্রনাথ মন্ডল, খগেন্দ্রনাথ মন্ডল, রামেশ্বর মন্ডল, কালিপদ মন্ডল, কার্তিক চন্দ্র মন্ডল, হরেন্দ্রনাথ মন্ডল, মহাদেব মন্ডল, ডা. বিহারীলাল মন্ডল, অধর মন্ডল, অধীর মন্ডল, বিপিন, মহাদেব, মহাদেব, দাউদ গাজী, হাতেম গাজী, আদম গাজী, সৈয়দ গাজী, বিপিন পাঠনি, আব্দুল বারী সানা, ধীরেন্দ্রনাথ বিশ্বাস, মুন্সীগঞ্জ গ্রামের অধীর, সুরেন্দ্রনাথ মন্ডল ও কৃষ্ণপদ গাইন।

এসময় প্রাণে বেঁচে যান গিরেন মন্ডল, বাবুরাম মন্ডল, মনোরঞ্জন মন্ডল, বৈষ্ণব মন্ডল ও সূর্যকান্ত মন্ডল।

মহান মুক্তিযুদ্ধে একই স্থানে এতগুলো মানুষের প্রাণহানির ঘটনাস্থলে একটি স্মৃতিফলক নির্মাণের দাবি উপকূলবাসীর।

শ্যামনগর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা নাজিবুল আলম রাতুল বলেন, আমি নতুন এসেছি। বিষয়টা গুরুত্ব সহকারে দেখা হবে।

 

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ক্যান্টনমেন্ট থানার ওসি ক্লোজড

উপনির্বাচনে সেনা মোতায়েন, জুনের আগেই ইউপি নির্বাচন : ইসি

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে কাদের সিদ্দিকীর সাক্ষাৎ

শ্যামনগরে জাল টাকা দিয়ে পণ্য কেনার সময় কিশোর আটক

দেবহাটায় জিআইএসভিত্তিক গ্রামীণ সড়কের মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নে কর্মশালা

দেবহাটায় শিশুশ্রম প্রতিরোধে সভা, শিক্ষায় ফিরেছে ৮৭ শিশু

বেনাপোল স্থলবন্দর পরিদর্শনে বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মানজারুল মান্নান

তালায় যুব অ্যাডভোকেসি সভা

কালিগঞ্জে প্লাস্টিক-পলিথিন প্রতিরোধে শিক্ষণ ও অভিজ্ঞতা বিনিময় সভা

সাতক্ষীরা সরকারি কলেজে মিয়াওয়াকি বনায়ন কর্মসূচি উদ্বোধন

১০

বিজ্ঞান বিতর্ক উৎসবে সাতক্ষীরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় চ্যাম্পিয়ন

১১

ধামরাইয়ে পিকআপ-সিএনজি সংঘর্ষে নিহত ৩

১২

বিয়ের প্রস্তাব দিতেই যোগাযোগ বন্ধ!

১৩

ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ৫ জনের মৃত্যু

১৪

নভেম্বর-ডিসেম্বরে ইউপি ভোটের ‘স্লট’ এখন খুঁজে পাচ্ছে না ইসি!

১৫

প্রথমবারের মতো পূর্ণাঙ্গ তদন্তের আইনি ক্ষমতা পেল এপিবিএন

১৬

সেভেন আপের বোতলে ঘাসমারা ওষুধ, খেয়ে প্রাণ গেল ব্যবসায়ীর

১৭

লিগ্যাল এইডের মামলা পরিচালনার বিল ছাড়াতে ঘুষ!

১৮

জবির বাসে সিট দখল বন্ধে নতুন সিদ্ধান্ত, র‍্যাগিং বন্ধে কঠোর নিদর্শনা

১৯

সবুজ বাংলাদেশ বিনির্মাণে নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রসারে গুরুত্ব দিতে হবে

২০
error: Content is protected !!