বাংলাদেশ, সোমবার, ০৯ নভেম্বর ২০২৬
২৫ কার্তিক ১৪৩৩ | সময়:
admin
২১ নভেম্বর ২০২৪, ১:৪৭ অপরাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ

ধর্মের কারণে-মতের কারণে কাউকে শত্রু মনে না করার আহ্বান ড. ইউনূসের

ডেস্ক রিপোর্ট: অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার বিপ্লবের মধ্যে দিয়ে আমরা নতুন বাংলাদেশের সূচনা করেছি। এ নতুন দেশে আমাদের দায়িত্ব সব মানুষকে এক বৃহত্তর পরিবারের বন্ধনের আবদ্ধ করা। কেউ কারও ওপরে না, আবার কেউ কারও নিচেও না; এই ধারণা আমরা আমাদের জাতীয় জীবনে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই।

বৃহস্পতিবার সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষ্যে ঢাকা সেনানিবাসের আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধান উপদেষ্টা।

তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের এই দিনে আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর অকুতোভয় সদস্য এবং বাংলাদেশের আপামর জনসাধারণ সম্মিলিতভাবে দখলদার বাহিনীর বিরুদ্ধে সমন্বিত আক্রমণ সূচনা করে। সেই আক্রমণের ফলে আমাদের বিজয় ত্বরান্বিত হয় এবং ফলশ্রুতিতে আমরা স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ অর্জন করি। আমি আজ গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি স্বাধীনতা যুদ্ধে শাহাদাত বরণকারী সকল বীর শহীদদের এবং মহান আল্লাহর দরবারে আমি তাদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করি। আমি সকল শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্য এবং সম্মানিত যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি আন্তরিক শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করছি। সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের এই আয়োজনে আর্মি মাল্টিপারপাস কমপ্লেক্সে যে সকল খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের উত্তরাধিকারী উপস্থিত আছেন তাদের জন্যেও রইল আমার বিনীত শ্ৰদ্ধা ।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ঘটনা, যার ফলে পৃথিবীর মানচিত্রে বাংলাদেশ একটি স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা ও পরিচিতি লাভ করেছে। দেশ স্বাধীন করার মহান ব্রত নিয়ে ৭১ এর ২৫ মার্চ রাত থেকে বাঙালি সেনারা সেনানিবাস ত্যাগ করে সশস্ত্র যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন। একই সাথে এই দেশের কৃষক, শ্রমিক, ছাত্র জনতা সাধারণ মানুষ সকলেই যার যা কিছু আছে তাই নিয়েই যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে; যা একটি জনযুদ্ধে রূপ নেয়। আমাদের মা বোনেরা মুক্তিযোদ্ধাদের পাশে থেকে প্রশিক্ষণ গ্রহণসহ বিভিন্নভাবে যুদ্ধে সহযোগিতা করেছেন।

তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধে যুদ্ধরত সকল বাহিনীকে ‘বাংলাদেশ ফোর্সেস’ নামে সাংগঠনিক রূপ দেয়া হয়। সমগ্ৰ বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করে সশস্ত্র বাহিনীর নেতৃত্বে যুদ্ধ পরিচালিত হয়। মাত্র ২টি গান বোট ‘পদ্মা’ ও ‘পলাশ’ নিয়ে বাংলাদেশ নৌবাহিনী জলপথে যুদ্ধ শুরু করে। এছাড়াও পাকিস্তান নৌবাহিনীতে কর্মরত বাংলাদেশি সাবমেরিনার এবং নাবিকদের সমন্বয়ে গড়ে তোলা অকুতোভয় নৌ কমান্ডোদল ‘অপারেশন জ্যাকপট’ নামক দুঃসাহসী আক্রমণ পরিচালনা করে বিভিন্ন নদী বন্দরে খাদ্য ও রসদ বোঝাই শত্রু জাহাজ ডুবিয়ে দিতে সক্ষম হয়। এছাড়াও বিমান বাহিনীর সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত ‘কিলো ফ্লাইট’ চট্টগ্রাম ও নারায়ণগঞ্জের জ্বালানি ডিপোসহ পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় সফল আক্রমণ পরিচালনা করে। মুক্তিযুদ্ধে সশস্ত্র বাহিনীর এই অবদানকে সাধারণ মানুষের আত্মত্যাগের সঙ্গে একীভূত করার উদ্দেশ্যে প্রতিবছর ২১ নভেম্বর পালিত হয় সশস্ত্র বাহিনী দিবস।

তিনি আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা চলমান রয়েছে। সময়ের আবর্তে অধিকাংশ বীর মুক্তিযোদ্ধা আজ বয়সের ভারে ভারাক্রান্ত। সশস্ত্র বাহিনী দিবস উদ্‌যাপন কালে দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে থাকা বীর মুক্তিযোদ্ধাদের আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মান জানানোর ক্ষেত্রে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ, সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনী যে উদ্যোগ প্রতিবছর নিচ্ছে তা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। এ জন্য সশস্ত্র বাহিনীকে আমি আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই ।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার বিপ্লবের মধ্যে দিয়ে আমরা নতুন বাংলাদেশের সূচনা করেছি। এ নতুন দেশে আমাদের দায়িত্ব সব মানুষকে এক বৃহত্তর পরিবারের বন্ধনে আবদ্ধ করা। পরিবারে মতভেদ থাকবে বাকবিতণ্ডা হবে তবে আমরা কেউ কারও শত্রু হবো না, কাউকে তার মতের জন্য শত্রু মনে করবো না। কাউকে ধর্মের কারণে শত্রু মনে করবো না, আমরা সবাই সমান। আমরা সবাই এক পরিবারের সদস্য। কেউ কারও ওপরে না, আবার কেউ কারও নিচে না এই ধারনা আমরা আমাদের জাতীয় জীবনে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই।

তিনি আরও বলেন, বৈষম্যহীন শোষণহীন এবং কল্যাণময় এবং মুক্ত বাতাসের স্বপ্ন নিয়ে রাষ্ট্রকে স্বাধীন করেছিলেন মুক্তিযোদ্ধারা আমি সেই স্বপ্ন পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ। আমরা এখন থেকে এই বাংলাদেশকে গড়তে চাই, যেন জনগণই এদেশের সকল ক্ষমতার উৎস হয়। বাংলাদেশ বিশ্ব দরবারে মানবিক ও কল্যাণকর রাষ্ট্র হিসেবে সমাদৃত হয়। বিশ্বের সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্ব বজায়ে রাখব, পররাষ্ট্রনীতির ভিত্তি হবে পারস্পরিক সম্মান, আস্থা, বিশ্বাস ও সহযোগিতা। বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

শ্যামনগরে জাতীয় সমবায় দিবস পালিত

১

৩৯ বছর বয়সে মেসির নতুন ইতিহাস, আবারও জিতলেন গোল্ডেন বুট

২

মালয়েশিয়ায় চাকরির জন্য প্রাথমিকভাবে ৩০০ জন নির্বাচিত

৩

তানজিন তিশার বিরুদ্ধে মামলা

৪

মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী: বুদ্ধিবৃত্তিক জাগরণের নিভৃতচারী কারিগর || ‎তারিক ইসলাম

৫

কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষার্থী ভর্তি বৃদ্ধিতে আলোচনা

৬

সুন্দরবনে সক্রিয় ১২ দস্যু বাহিনী, সামনে এলো গাবুরার আমির ও দাতিনাখালীর আলমের নাম

৭

পাইকগাছায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত

৮

দেবহাটায় জামায়াতের রুকন সম্মেলন

৯

তালায় জাতীয় সমবায় দিবস পালিত

১০

মালদ্বীপকে উড়িয়ে সেমির আশা বাঁচিয়ে রাখল পাকিস্তান

১১

ডেঙ্গুতে তিনজনের মৃত্যু, হাসপাতালে নতুন রোগী ২৩৩৩

১২

সাতক্ষীরায় অ্যারাইজ ২২৪১ ধানের মাঠ দিবস

১৩

পরীমনির কর্মকাণ্ড শিল্পী সমাজের জন্য কলঙ্ক: রিনা খান

১৪

সাতক্ষীরায় ৫৫তম জাতীয় সমবায় দিবস পালিত

১৫

সুন্দরবনে মুক্তিপণের দাবিতে ১১ জেলেকে অপহরণের অভিযোগ

১৬

প্রথম ধাপের ভোটগ্রহণে প্রাধান্য পাচ্ছে যেসব ইউনিয়ন পরিষদ

১৭

কাবার সামনে দাঁড়িয়ে ‘বিয়ের’ খবর দিলেন নাজনীন নীহা!

১৮

দেশে গ/ণ/পি/টু/নিতে অক্টোবরে প্রা/ণ গেল ৩২ জনের

১৯

প্রথম ধাপে ১ হাজার ৫০ ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন: ইসি

২০