বাংলাদেশ, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬
২২ কার্তিক ১৪৩৩ | সময়:
admin
২৮ এপ্রিল ২০২৪, ১:১৩ অপরাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ

কয়রায় বোরো ধানের বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে হাসি

মোঃ ফরহাদ হোসেন, কয়রা (খুলনা): দেশের দুর্যোগ প্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত খুলনার উপকূলীয় উপজেলা কয়রায় চলতি মৌসুমে বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। উৎসব আর আনন্দের মধ্যদিয়ে চলছে ধান কেটে ঘরে তোলার কাজ। এবার উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ভালো ফলন হওয়ায় বেশ খুশি চাষীরা।

কয়রা উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বোরো মৌসুমে কয়রার ৭টি ইউনিয়নের ৫৭২৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষাবাদ হয়েছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন ইউনিয়নে ধান কাটা শুরু হয়েছে।

স্থানীয় কৃষকরা বলছেন, ন্যায্য মূল্য পেলে চলতি মৌসুমে লাভবান হবেন ধান চাষীরা।

সরেজমিনে ৭টি ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সোনালী ধানে ভরে গেছে ফসলের মাঠ। অনেকেই ধান কাটা শুরু করেছেন। অনেকেই করছেন মাড়াই। আশানুরূপ ফলন পেয়ে বেজায় খুশি কৃষকেরা।

তবে অনেক এলাকায় সেচের পানি সংকটের কারণে ধান নষ্ট হয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা আগামীতে সেচ সংকট দূরীকরণে পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট।

মহারাজপুর ইউনিয়নে এবার ৩শ হেক্টর জমিতে বোরা ধানের চাষাবাদ করা হয়েছে। এর মধ্যে হাইব্রিড রুপালী-৭, ব্রিধান-৬৭ ও বিনা-১০ চাষ করে কৃষকরা ভালো ফলন পেয়েছেন।

মহারাজপুুর গ্রামের কৃষাণী নাসরীন খাতুন বলেন, এবার বোরোর বাম্পার ফলন হয়েছে। তবে সারের দাম বেড়েছে। সেই সঙ্গে জমিতে সেচ দেওয়ার জন্য ডিজেলসহ অন্য সব সামগ্রীর দাম বেশি ছিল। এমনকি ধান রোপণ থেকে কাটা পর্যন্ত শ্রমিকদের মজুরি বেশি। ধান কাটতে একজন শ্রমিককে ৬০০-৭০০ টাকা মজুরি দিতে হয়। কিন্তু প্রচণ্ড গরমে বেশি টাকা দিয়েও শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে ধান চাষ করতে যে টাকা খরচ হয়, তা উঠানো খুব দুরহ ব্যাপার হয়ে দাড়িয়েছে।

কৃষক আনিছুর রহমান বলেন, চলতি মৌসুমে বৃষ্টি কম হওয়ায় সেচ যন্ত্রের মাধ্যমে জমিতে পানি দিতে হয়েছে। চারা রোপণে খরচ বেশি হয়েছে। শ্রমিকদের বেশি মজুরি দিতে হয়েছে। সেইসঙ্গে সারও কিনতে হয়েছে বেশি দামে। তারপরেও এ বছর বিঘায় ২৫ মণ পর্যন্ত ধান হয়েছে।

উপ-সহকারী কৃষি অফিসার মোঃ ফারুক হোসেন বলেন, বোরা ধান চাষাবাদে কৃষি অফিসের পক্ষ হতে কৃষকদের পাশে গিয়ে নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এ বছর কয়রায় বোরো ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়াবে।

উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, এ বছর কয়রার ৭টি ইউনিয়নে ৫৭২৫ হেক্টর জমিতে বোরো চাষাবাদ হয়েছে। অধিকাংশ কৃষককে বিনামূল্যে বীজ ও সার দেওয়া হয়েছে। বাম্পার ফলনে কৃষক খুশি। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে চাষ বেড়ে যাওয়ায় ফলন বেশি হয়েছে। আশা করি, আবহাওয়া ও বাজারদর অনুকূলে থাকলে কৃষকরা লাভবান হবেন।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

সড়ক দুর্ঘটনায় ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত সহায়তা, আবেদন যেভাবে

১

নতুন দায়িত্বে ৬ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী

২

মাদক ইভটিজিং জুয়া ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান

৩

পঞ্চম বর্ষে পদার্পণ অনুষ্ঠানে প্রত্যাশা: বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতায় এগিয়ে যাক হৃদয় বার্তা

৪

এনসিপিতে যোগ দিতে যাওয়া ফারজানা আমার স্ত্রী নন: রনি

৫

‘ডিসেম্বরেই মালয়েশিয়ায় বিনা খরচে কর্মী পাঠানোর ফ্লাইট শুরু’

৬

ডা. এম আর খানের ১০ম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

৭

৭ নভেম্বর দেশের সব পোশাক কারখানায় সাধারণ ছুটি

৮

ঢাবিতে ভর্তি আবেদন শুরু ১১ নভেম্বর

৯

সাংবাদিকদের সঙ্গে কুশুলিয়ার জামায়াত মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী সিরাজুলের মতবিনিময়

১০

ভারতীয় ভিসা আবেদনে নতুন নির্দেশনা

১১

কালিগঞ্জে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস সিজন-২ উদ্বোধন

১২

চুলে নজরকাড়া সাজ, পূর্ণিমা যেন অষ্টাদশী তরুণী!

১৩

৭ নভেম্বরকে সামনে রেখে কালিগঞ্জে কৃষকদলের প্রস্তুতি সভা

১৪

পারুলিয়ায় শিশু পাচার ও শোষণ প্রতিরোধে সভা

১৫

আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নিরাপত্তায় সামরিক সহযোগিতা জোরদারে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গীকার

১৬

এনসিপি ছাড়লেন সামান্তা শারমিন

১৭

২৪ সিনেমার ১৯টিতে ফ্লপ পরীমনি, ৫টিতে গড়পড়তা

১৮

সাংবাদিকের ফোন কেড়েছেন, ট্রাইপড ভেঙেছেন পরীমনি

১৯

অতিরিক্ত সময়ে ২ গোল হজম করেও পাকিস্তানকে হারাল ভারত

২০