বাংলাদেশ, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬
২২ কার্তিক ১৪৩৩ | সময়:
admin
৭ এপ্রিল ২০২৪, ৮:০৪ অপরাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ

পাউবো কর্মকর্তার যোগসাজশে ফের সোরা খালে লবণ পানি ঢুকালো ঘের মালিকরা

সুলতান শাহাজান, শ্যামনগর: সাতক্ষীরার শ্যামনগরে মিষ্টি পানির সংরক্ষণের লক্ষ্যে গাবুরার সোরা খালের পুনঃখনন কাজ চলমান অবস্থায় পাউবো কর্মকর্তার যোগসাজশে রাতারাতি সেখানে লবণ পানি তুলেছেন ঘের মালিকরা।

চাঁদনীমুখা গ্রামের শহিদুল ইসলাম ও অহিদুজ্জামানের নেতৃত্বে স্থানীয় ২০-২২ জন চিংড়ি ঘের মালিক শনিবার গভীর রাতে জলকপাটের মুখ উন্মুক্ত করে দিয়ে সোরা খালে লবণ পানি ঢোকান। কাজ শেষের আগেই নদীর লবণ পানি ঢুকিয়ে দেয়ায় আড়াই কোটি টাকার এ প্রকল্পের ভবিষ্যত নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান।

পাউবো ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গাবুরার চারপাশে টেকসই বাঁধ নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় প্রায় তিন মাস আগে পাঁচ কিলােমিটার সোরা খাল পুনঃখননের কাজ শুরু হয়। স্থানীয়দের জন্য মিষ্টি পানি সংরক্ষণ ও এলাকার জলাবদ্ধতা দূরীকরণের লক্ষ্যে আড়াই কোটি টাকা ব্যয়ে খাল পুনঃখনন কাজ করছে আমিন এন্ড কোং নামীয় ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। ইতোমধ্যে প্রকল্পের ৪০ ভাগ কাজ সম্পন্ন হলেও গত দু’দিন আগে ঠিকাদার নিযুক্ত শ্রমিকরা ঈদের ছুটিতে বাড়ি চলে যায়। এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে শনিবার রাতে চিংড়ি ঘেরের জন্য নদীর লবণ পানি নেয়ার অজুহাতে স্থানীয় কয়েকজন ঘের মালিক জলকপাটের মুখের বাঁধ অপসারণ করে খালে লবণ পানি ঢুকিয়ে দেয়।

আবুল হোসেন ও জাহাঙ্গীর আলমসহ এলাকাবাসী জানায়, খাল পুনঃখনন শেষ হওয়ার আগেই লবণ পানি ঢুকিয়ে দেয়ায় স্থানীয়দের চলাচলের রাস্তা তলিয়ে গেছে। এছাড়া সিদ্দিক সরদার ও শাহানুর হোসেনের বসত ঘরের পাশে ধস নেমেছে। লবণ পানি ঢোকানোয় মিষ্টি পানি সংরক্ষণে তাদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা অপূর্ণ থাকার উপক্রম হয়েছে। মিষ্টি পানি না থাকায় এবারও জমিতে ফসল ফলানোর সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবে বলেও দাবি করেন তারা।

ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার কল্লোল হোসেন জানান, তারা ঈদের ছুটিতে বাড়ি যাওয়ার একদিন পরেই এমন খবর পেয়েছেন। এমতাবস্থায় উক্ত খালের চলমান পুনঃখনন কাজ সম্পন্ন দুরুহ হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় জনগোষ্ঠী চরম ভোগান্তিতে পড়বে। এছাড়া তারা আর্থিক ক্ষতির শিকার হওয়ায় কাজ শেষ করা নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে বলেও তিনি নিজেদের শংকার কথা জানান।

অভিযুক্ত অহিদুজ্জামান বলেন, রোযা থাকায় তিনি নিজে সেখানে যাননি। তবে শহিদুলসহ কয়েকজন ঘের মালিক পানি উন্নয়ন বোর্ডের এসও সাহেবের থেকে অনুমতি নিয়ে পানি তুলেছেন।

অপর অভিযুক্ত শহিদুল ইসলাম বলেন, শনিবার রাতে কিছু লোক স্লুইচ গেটের মুখ খুলে দিয়ে পানি ঢুকিয়েছে বলে তিনিও শুনেছেন। তবে তিনি নেতৃত্ব দেয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন।

এবিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী সাজ্জাদুর রহমানের ব্যবহৃত ০১৭১৭-৫৬৬১৩০ নাম্বারের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল ও খুদেবার্তা পাঠালেও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

সড়ক দুর্ঘটনায় ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত সহায়তা, আবেদন যেভাবে

১

নতুন দায়িত্বে ৬ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী

২

মাদক ইভটিজিং জুয়া ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান

৩

পঞ্চম বর্ষে পদার্পণ অনুষ্ঠানে প্রত্যাশা: বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতায় এগিয়ে যাক হৃদয় বার্তা

৪

এনসিপিতে যোগ দিতে যাওয়া ফারজানা আমার স্ত্রী নন: রনি

৫

‘ডিসেম্বরেই মালয়েশিয়ায় বিনা খরচে কর্মী পাঠানোর ফ্লাইট শুরু’

৬

ডা. এম আর খানের ১০ম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

৭

৭ নভেম্বর দেশের সব পোশাক কারখানায় সাধারণ ছুটি

৮

ঢাবিতে ভর্তি আবেদন শুরু ১১ নভেম্বর

৯

সাংবাদিকদের সঙ্গে কুশুলিয়ার জামায়াত মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী সিরাজুলের মতবিনিময়

১০

ভারতীয় ভিসা আবেদনে নতুন নির্দেশনা

১১

কালিগঞ্জে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস সিজন-২ উদ্বোধন

১২

চুলে নজরকাড়া সাজ, পূর্ণিমা যেন অষ্টাদশী তরুণী!

১৩

৭ নভেম্বরকে সামনে রেখে কালিগঞ্জে কৃষকদলের প্রস্তুতি সভা

১৪

পারুলিয়ায় শিশু পাচার ও শোষণ প্রতিরোধে সভা

১৫

আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নিরাপত্তায় সামরিক সহযোগিতা জোরদারে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গীকার

১৬

এনসিপি ছাড়লেন সামান্তা শারমিন

১৭

২৪ সিনেমার ১৯টিতে ফ্লপ পরীমনি, ৫টিতে গড়পড়তা

১৮

সাংবাদিকের ফোন কেড়েছেন, ট্রাইপড ভেঙেছেন পরীমনি

১৯

অতিরিক্ত সময়ে ২ গোল হজম করেও পাকিস্তানকে হারাল ভারত

২০