
আশরাফুল ইসলাম সবুজ, পাইকগাছা (খুলনা): খুলনা-কয়রা আঞ্চলিক মহাসড়কের কপোতাক্ষ নদীর ওপর নির্মিত শিববাড়ী সেতুতে টোল আদায় বন্ধ না হওয়ায় ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছে পাইকগাছার সর্বস্তরের মানুষ। সেতু নির্মাণের ১৫ বছর পার হলেও টোল আদায় অব্যাহত থাকায় বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) বিকালে শিববাড়ী সেতুর ওপর ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে তারা।
পাইকগাছা উপজেলা ছাত্রজনতার ব্যানারে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, উপকূলীয় পাইকগাছা ও কয়রার সাধারণ ও নিম্নআয়ের মানুষের একমাত্র ভরসা এই সেতু। অথচ প্রতিদিন টোল দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে মানুষকে বাড়তি খরচের বোঝা টানতে হচ্ছে। সেতুর নির্মাণ ব্যয় বহু আগেই উঠে গেছে। এখন জনগণের ওপর টোলের নামে চাঁদাবাজি চলমান রাখা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক ও অন্যায়।
বক্তারা আরও বলেন, ২০১০ সালে যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হয় শিববাড়ী সেতু। এরপর থেকেই ইজারার মাধ্যমে টোল আদায় করে আসছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ)। যদিও বিগত বছরগুলোতে তিনগুণ আদায় হয়েছে টোল বাবদ, তারপরও তা বন্ধ না করে নতুন করে ইজারা দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
প্রসঙ্গত, গত বছর ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতা মিলে আন্দোলনের মাধ্যমে টোল আদায় বন্ধ করলেও কিছুদিন পর আবার চালু করে সওজ কর্তৃপক্ষ। চলতি বছরের ৩০ জুন শেষ হয় ইজারাদারের মেয়াদ। এরপর আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে আবারও টোল আদায় চালু করা হয়। এখন নতুন করে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে অভিযোগ উঠে।
এসময় বক্তারা স্থায়ীভাবে টোল আদায় বন্ধের দাবি জানান এবং তা না মানলে লাগাতার আন্দোলনের ঘোষণা দেন। কর্মসূচিতে দুই সহস্রাধিক স্থানীয় জনগণ, পথচারী, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মী ও বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে একই দাবিতে খুলনা জেলা প্রশাসকের বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। স্মারকলিপিতে টোল আদায় বন্ধ করার আহ্বান জানানো হয়।
পাইকগাছা-কয়রাবাসীর পক্ষে স্মারকলিপিতে স্বাক্ষর করেন মোঃ মনিরুজ্জামান, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ডা. আব্দুল মজিদ, সদস্য সচিব এস এম এমদাদুল হক, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক আসলাম পারভেজ এবং পাইকগাছা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাড. আব্দুস সাত্তার। স্মারকলিপিটি পাইকগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে হস্তান্তর করেন পৌর বিএনপি’র আহবায়ক আসলাম পারভেজ।
সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের ৫ ডিসেম্বর থেকে ২০২৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত ৯৪৩ দিনের জন্য ‘মেসার্স আলী আকবর এন্টারপ্রাইজ’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে টোল আদায়ের ইজারা দেওয়া হয়, যার মূল্য ভ্যাট ও করসহ কোটি টাকারও বেশি। বর্তমানে সওজ কর্তৃপক্ষ নিজ ব্যবস্থাপনায় টোল আদায় চালিয়ে যাচ্ছে।
জনগণের দাবি, এই অবিচার বন্ধ করে টোল আদায় স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়া হোক।
মন্তব্য করুন