বাংলাদেশ, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৭ আশ্বিন ১৪৩৩ | সময়:
The Editors
২৯ নভেম্বর ২০২৫, ৮:১৬ অপরাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ

কুমড়োর বড়ি তৈরির ধুম

আশরাফুল ইসলাম সবুজ, পাইকগাছা: তরকারির সাথে কুমড়াের বড়ি রান্না করে খাওয়ার প্রচলন বহু বছরের। তাই শীত আসতেই খুলনার পাইকগাছা উপজেলাজুড়ে শুরু হয়েছে কুমড়োর বড়ি তৈরির মহোৎসব।

প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই বড়ি তৈরির কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন গৃহিণীরা। আবার গ্রাম থেকে শহরের অনেকেই নিজেদের খাওয়ার পাশাপাশি জীবিকা অর্জনের পথ হিসেবে বেছে নিয়েছে এই কুমড়াের বড়ি তৈরির কাজ।

শীত এলেই মাষকলাইয়ের ডাল ও চাল কুমড়া দিয়ে তৈরি করা হয় বড়ি। শীতের কাক ডাকা ভোরে নারীরা দলবেঁধে কুমড়োর বড়ি দেওয়া শুরু করলেও মূলত আগের দিন থেকে শুরু করতে হয় মূল কর্মযজ্ঞ।

অগ্রহায়ণ মাস থেকে শুরু করে ফাল্গুন মাস পর্যন্ত চলে কুমড়াের বড়ি তৈরির মহোৎসব।

কুমড়োর বড়ি তৈরির প্রধান উপকরণ মাসকলাইয়ের ডাল এখন বাজারে ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা আর চাল কুমড়া ৭০ থেকে ১০০ টাকার মধ্যে ক্রয় করা যায়। ৬ কেজি চাল কুমড়ার সাথে ২ কেজি মাসকলাইয়ের মিশ্রণে কুমড়াে বড়ি ভালো হয়। প্রথমে মাষকলাই রোদে শুকিয়ে জাঁতায় ভেঙে পরিষ্কার করে বা না ভেঙে পানিতে ভিজিয়ে রেখে খোসা ছাড়িয়ে নিতে হয়। ৫-৬ ঘণ্টা মাষকলাই পানিতে ভেজাতে হয়। তারপর ঢেঁকি বা শিলপাটায় বেটে নিয়ে কুমড়ো বড়ির মিশ্রণ তৈরি করা হয়। তবে এখন উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কুমড়া বড়ি তৈরির মেশিন স্থাপনের পর থেকে সবাই মেশিনে মাড়াই করে মাষকলাই ও কুমড়া মিহি তৈরি করা হচ্ছে। এরপর দুটির মিশ্রণে কুমড়ো বড়ি তৈরি করা হয়। মাঠ, বাড়ির আঙিনা, ছাদ বা খোলা জায়গায় ভোর থেকে বড়ি বসানো শুরু করা হয়। পাতলা কাপড়ে সারি সারি বড়ি বসানো হয়। কুমড়োর বড়ি বসানোর পর দুই-তিন দিন একটানা রোদে শুকানো হয়। সূর্যের আলো কম হলে ৩-৪ দিন পর্যন্ত শুকাতে সময় লেগে যায়। শুকানোর পর কাপড় থেকে বড়ি উঠিয়ে পাত্রে সংরক্ষণ করা হয়।

উপজেলার চাঁদখালীর গৃহিণীরা বলেন, আগে মাটির মালসায় ডাল হিজুর দিয়ে বেটে মিহি করা হতো। এখন মেশিনে একেবার মিক্সিং করে দিচ্ছে। তাতে আমাদের কষ্টও কমে গেছে।

কপিলমুনি এলাকার গৃহিণী মনিরা বেগম জানান, শীতকালে কুমড়ো বড়ি একটি গ্রামীণ ঐতিহ্য।

পাইকগাছা বাজারের মুদি দোকানদার রফিকুল জানান, তিনি দোকানে সব জিনিসের সাথে সব ধরনের ডালও বিক্রি করেন। তবে শীত শুরু হলে বড়ি দেয়া কলাইয়ের ডাল খুব বিক্রি হয়।

উপজেলার কুমড়ো বড়ির ব্যবসায়ী মাজেদুর রহমান বলেন, এখানকার কুমড়ো বড়ি খুব সুস্বাদু হওয়ায় এ অঞ্চলের বড়ি এলাকার চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হয়। বিশেষ করে ঢাকায় এর চাহিদা বেশি।

তিনি আরো জানান, এটি সারা বছরজুড়ে তৈরি করা সম্ভব। কিন্তু শীতকালে এর কদর বেশি হয়। কারণ, শীতের সময় রান্না করে খেতে বেশ মজা লাগে। কৈ মাছ, শিং মাছ ও শৈল মাছের সাথে রান্না করলে তরকারি খেতে মজা আলাদা।

পাইকগাছা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ একরামুল হোসেন জানান, শীত মৌসুমে গ্রামের নারীরা কুমড়োর বড়ি তৈরি করে বাড়তি আয় করছেন। গ্রামীণ নারীরা উপযুক্ত প্রশিক্ষণ ও পৃষ্ঠপোষকতা পেলে নিজেদের ভাগ্য উন্নয়ন ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হবে।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

জাপানে আঘাত হেনেছে শক্তিশালী টাইফুন দুজুয়ান, শত শত ফ্লাইট বাতিল

গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে তরুণ কলাম লেখক ফোরামের কমিটি ঘোষণা

রাশিয়ার নির্বাচনে পুতিনের ইউনাইটেড রাশিয়া পার্টির ভূমিধস বিজয়

মৃত্যুকে স্মরণ করলে গোনাহ থেকে বেঁচে থাকা যায়

নিজের নামে টিভি চালু করলেন ট্রাম্প

গাবুরায় এম‌পি গাজী নজরু‌লের ২য় স্ত্রী ম‌রিয়‌মের দাফন সম্পন্ন

বেনাপোল বন্দরে বেশী রাজস্ব আদায় হলে জাতীয় অর্থনীতির সমৃদ্ধি হবে: পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী

শ্যামনগরে জ্বালানি সাশ্রয়ী মাটির চুলা নির্মাণে প্রশিক্ষণ

ঐতিহ্যবাহী গুড় পুকুরের মেলা শুরু ১ অক্টোবর, প্রস্তুতি শুরু

সাতক্ষীরা জেলা যুবদলের নবগঠিত কমিটিকে ওলামা দলের অভিনন্দন

১০

যুবদলের কমিটি প্রত্যাখ্যান করে পাটকেলঘাটায় টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ

১১

কয়রায় যুবদলের আনন্দ মিছিল

১২

সাতক্ষীরা প্রাণনাথ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অ্যাডহক কমিটির সদস্যদের সংবর্ধনা

১৩

১০০ কিলোমিটারে খরচ বাড়ল ৫৭১ টাকা: বাসভাড়ায় ফের বড় ঝটকা!

১৪

দীর্ঘ ২৫ বছর পরে বেতনা নদীতে নৌকা বাইচ

১৫

বিএনপি মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে: মনিরুল হাসান বাপ্পী

১৬

শিশু ক্যানসার হাসপাতাল নির্মাণে ৩৬ কোটি টাকা দান মেসির

১৭

দেবহাটা ইউসিসিএ নির্বাচনে সভাপতি পদে মিজানুর রহমানের জয়

১৮

সম্পদের চেয়ে সম্পর্ক দামি

১৯

প্রস্তুতি ম্যাচে সৌম্যর ব্যাটে জিতল সোহানের দল

২০