বাংলাদেশ, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬
২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ | সময়:
The Editors
৭ ডিসেম্বর ২০২৫, ১২:৩১ অপরাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ

গৌরবোজ্জ্বল সাতক্ষীরা মুক্ত দিবস ৭ ডিসেম্বর

ডেস্ক রিপোর্ট: আজ ৭ ডিসেম্বর, গৌরবোজ্জ্বল সাতক্ষীরা মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে সাতক্ষীরার এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে বিজয়ের আনন্দে মেতে উঠেছিল মুক্তিকামী জনতা।

১৯৭১ সালের এই দিনে মুক্তিযোদ্ধারা থ্রি নট থ্রি ও এসএলআরের ফাঁকা গুলি ছুড়তে ছুড়তে সাতক্ষীরা শহরে প্রবেশ করে। ওড়ানো হয় স্বাধীন বাংলার পতাকা। সন্তান হারানোর বেদনা ভুলে সেদিন মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে রাস্তায় নেমে বিজয় উল্লাসে মেতে ওঠেন মুক্তি পাগল মানুষ।

মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় দেশকে হানাদারমুক্ত করতে সাতক্ষীরার শ্যামল মাটিকে রক্তে রঞ্জিত করে ছোট বড় অন্তত ৫০টি যুদ্ধে অংশ নেয় মুক্তিকামী দামাল ছেলেরা।

বীর মুক্তিযোদ্ধা মিজানুর রহমান জানান, মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য সাতক্ষীরা ট্রেজার হতে অস্ত্র আর ন্যাশনাল ব্যাংক হতে অলংকার ও টাকা-পয়সা লুটের মধ্য দিয়ে শুরু মুক্তির সংগ্রাম। ৮ম ও ৯ম সেক্টরের অধীনে ভারতের বিভিন্ন এলাকায় ট্রেনিং শেষে ২৯ এপ্রিল সাতক্ষীরার ভোমরা সীমান্তে প্রথম সম্মুখ যুদ্ধ শুরু হয় । এ সময় পাক সেনাদের ২ শতাধিক সৈন্য নিহত হয়। ১৭ ঘণ্টাব্যাপী এ যুদ্ধে শহীদ হন মাত্র ৩ জন মুক্তিযোদ্ধা। আহত হন আরো ২ জন মুক্তিযোদ্ধা। এরপর থেমে থেমে চলতে থাকে সাতক্ষীরার বিভিন্ন এলাকায় মুক্তিযোদ্ধাদের গুপ্ত হামলা। এসব যুদ্ধের মধ্যে ভোমরার যুদ্ধ, টাউন শ্রীপুর যুদ্ধ, বৈকারী যুদ্ধ, খানজিয়া যুদ্ধ উল্লেখযোগ্য। এ সব যুদ্ধে শহীদ হয় সাতক্ষীরার ৩৩ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা।

পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে বিদ্যুতের আলো থেকে বিচ্ছিন্ন করতে ২৯ নভেম্বর টাইম বোমা দিয়ে শহরের কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থিত পাওয়ার হাউস উড়িয়ে দেন বীর মুক্তিযোদ্ধারা। এতে ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে পড়ে পাক হানাদার বাহিনী। রাতের আঁধারে বেড়ে যায় গুপ্ত হামলা। পিছু হটতে শুরু করে হানাদাররা। ৬ ডিসেম্বর রাতে মুক্তিযোদ্ধাদের হামলায় টিকতে না পেরে বাঁকাল, কদমতলা ও বেনেরপোতা ব্রিজ উড়িয়ে দিয়ে পাকিস্তানি বাহিনী সাতক্ষীরা থেকে পালিয়ে যায়। ৬ ডিসেম্বর শত্রুমুক্ত হয় দেবহাটা ও কলারোয়া। ৭ ডিসেম্বর জয়ের উন্মাদনায় জ্বলে ওঠে সাতক্ষীরার মুক্তিকামী জনতা।

এদিকে, দেশ স্বাধীনের এত বছর পরেও সাতক্ষীরার বধ্যভূমিগুলো রয়ে গেছে অরক্ষিত। মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী বীর সেনানীদের আজীবন স্মরণীয় করে রাখতে বধ্যভূমিগুলো সংস্কারে পাশাপাশি স্মৃতি সৌধ নির্মাণের দাবি স্থানীয়দের।

মুক্তিযুদ্ধকালীন শত্রুদের গুলিতে সাতক্ষীরার যেসব বীর সন্তান শহীদ হন তারা হলেন-শহীদ আব্দুর রাজ্জাক, কাজল, খোকন, নাজমুল, হাফিজউদ্দিন, নুর মোহাম্মদ, আবু বকর, ইমদাদুল হক, জাকারিয়া, শাহাদাত হোসেন, আব্দুর রহমান, আমিনউদ্দিন গাজী, আবুল কালাম আজাদ, সুশীল কুমার, লোকমান হোসেন, আব্দুল ওহাব, দাউদ আলী, সামছুদ্দোহা খান, মুনসুর আলী, রুহুল আমীন, জবেদ আলী, শেখ হারুন অর রশিদ প্রমুখ।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

টঙ্গীতে ড্রাগ ইন্টারন্যাশনালে আগুন নিয়ন্ত্রণে ২৩ ইউনিট, সেনা ও বিজিবি মোতায়েন

১

সাতক্ষীরায় সার ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগে মানববন্ধন, বাতিলের দাবি 

২

প্রথম ধাপে ৮০০ ইউপিতে ভোট, বিশৃঙ্খলায় তাৎক্ষণিক শাস্তির বিধান

৩

শ্যামনগরের মোস্ট ওয়ান্টেড মেহেদী ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার

৪

শ্যামনগরে দায়ের কোপে আহত মোজাম মিস্ত্রির মৃত্যু

৫

পাইকগাছায় দৈনিক রানার’র ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

৬

শ্যামনগরে যুবদের জলবায়ু পরিবর্তন, অভিযোজন ও প্রশমন বিষয়ক প্রশিক্ষণ

৭

দেবহাটায় আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত

৮

দেবহাটায় নজরুল বর্ষের সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ

৯

বয়েজ স্কুলের খেলার মাঠের বেহাল দশা, দ্রুত সংস্কারের দাবি

১০

সাতক্ষীরা জেলা জাপার সভাপতি আজহার হোসেনের সুস্থতায় দোয়া কামনা

১১

শ্যামনগরে দৈনিক রানারের ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্‌যাপন

১২

মুক্তি পেল নিলয়ের মিউজিক ভিডিও ‘পুজো পুজো অনুভব’

১৩

দেবহাটায় পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে পুলিশ সুপার আশরাফুল আলম

১৪

পাইকগাছায় আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত

১৫

স্কুলে ভর্তির নীতিমালা প্রকাশ, ১ম শ্রেণিতে লটারি, ২য় থেকে ৯ম পর্যন্ত পরীক্ষা

১৬

রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে কালি লেপনের প্রতিবাদে সাতক্ষীরায় সমাবেশ

১৭

কালিগঞ্জে দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত

১৮

মোহাম্মদ আলী সুজন ও সুজয়ের মায়ের ইন্তেকাল, সাতক্ষীরা সাংবাদিক কেন্দ্রের শোক

১৯

তালায় দৈনিক রানার’র প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

২০