
আশাশুনি প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার নয়াবাদ গ্রামে স্বামীর মারধরে মিনতি বাছাড় নামে এক নারী গুরুতর আহত হয়েছেন।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে এ ঘটনা ঘটে। আহত মিনতির মাথা ফেটে যাওয়ায় কয়েকটি সেলাই দিতে হয়েছে। শরীরের বিভিন্ন স্থানেও আঘাত ও রক্তজমাটের চিহ্ন রয়েছে বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন।
আশাশুনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মিনতির মা ইন্দ্রা রাণী মন্ডল ও দাদা চন্দ্র কান্ত মন্ডলের অভিযোগ, প্রায় ৩০-৩৫ বছর আগে নয়াবাদ গ্রামের শ্যামল বাছাড়ের সঙ্গে মিনতির বিয়ে হয়। তাদের সংসারে দুটি সন্তান রয়েছে। কয়েক বছর আগে শ্যামল পাশের এক বিধবা নারীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছেন—এমন অভিযোগকে কেন্দ্র করে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়।
পরিবারের সদস্যদের দাবি, এ নিয়ে শ্যামল তার স্ত্রীকে বিভিন্ন সময় গালিগালাজ ও মারধর করতেন। একপর্যায়ে নির্যাতনের মাত্রা বেড়ে গেলে প্রায় ৮-৯ বছর আগে মিনতিকে তার মা ফকরাবাদে বাবার বাড়িতে নিয়ে যান। পরে দুই পক্ষের মেম্বার ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে সালিশ বৈঠক হয়। সেখানে শ্যামল নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে মুচলেকা দিয়ে ভবিষ্যতে নির্যাতন করবেন না বলে প্রতিশ্রুতি দেন।
তবে পরিবারের অভিযোগ, কিছুদিন পর আবারও মিনতির ওপর নির্যাতন শুরু হয়। দুই সন্তানের কথা বিবেচনা করে মিনতি সংসার টিকিয়ে রাখার চেষ্টা চালিয়ে যান। কিন্তু বুধবার সকালে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে তাকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ পরিবারের।
মিনতির স্বজনরা জানান, সকাল সাড়ে ৬টার দিকে প্রতিবেশীদের কাছ থেকে মোবাইল ফোনে খবর পেয়ে তারা শ্যামলের বাড়িতে ছুটে যান। সেখানে মিনতিকে রক্তাক্ত ও অচেতন অবস্থায় দেখতে পান। তাকে উদ্ধার করে দ্রুত আশাশুনি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ সময় শ্যামল তার শাশুড়িকেও মারধরের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করেন তারা।
আহত মিনতির মাথায় আঘাতের কারণে কয়েকটি সেলাই দেওয়া হয়েছে। শরীরের বিভিন্ন স্থানেও আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছিল।
মন্তব্য করুন