
ডেস্ক রিপোর্ট: টিকটকের মাধ্যমে পরিচয়ের সূত্র ধরে সাতক্ষীরার ভোমরা ইউনিয়নের নবাতকাটি গ্রামের এক গৃহবধূকে নিয়ে পালিয়েছেন কালিগঞ্জ উপজেলার তারালী ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য দেবপ্রসাদ সরকার বাবু।
ওই গৃহবধূর স্বামী অর্জুন সরকার তার স্ত্রীকে ফিরে পাওয়ার জন্য আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন, অন্যদিকে মা কে ফিরে পেতে খাওয়া দাওয়া ছেড়ে দিয়েছেন তাদের একমাত্র সন্তান অর্ক (১১)।
অর্জুন সরকারের অভিযোগ, টিকটকের মাধ্যমে কালিগঞ্জ উপজেলার তারালী ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য দেবপ্রসাদ সরকার বাবুর সঙ্গে তার স্ত্রী লাবনী সরকারের পরিচয় হয়। পরবর্তীতে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয়। একপর্যায়ে দেবপ্রসাদ সরকার তার স্ত্রীকে ফুসলিয়ে অজানার উদ্দেশ্যে পাড়ি দেয়।
অর্জুন সরকার জানান, গত ১৭ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার লাবনী তার ১১ বছরের ছেলে অর্ককে সঙ্গে নিয়ে বাবার বাড়িতে যান। পরে শনিবার অর্ককে নবাতকাটি গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়ে দেন লাবনী। এ সময় ছেলেকে তিনি বলেন, বাবা, তুমি আজ বাড়ি যাও। আমি কয়েকদিন পরে আসব।
অর্জুনের অভিযোগ, বাড়ি থেকে যাওয়ার সময় লাবনী নগদ প্রায় আড়াই লাখ টাকা, আট আনা ওজনের একটি স্বর্ণের হার, এক ভরি ওজনের দুটি রুলি, পায়ের নূপুর ও স্বর্ণের কানের দুল নিয়ে গেছেন। এ বিষয়ে তার ছেলে অর্কের বক্তব্যের একটি ভিডিও এই প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।
অর্জুন সরকার বলেন, স্ত্রী চলে যাওয়ার পর থেকে তাদের সংসারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। তার ১১ বছরের ছেলে মাকে ফিরে পাওয়ার জন্য মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে। খাওয়া-দাওয়া ছেড়ে দিয়েছে।
তিনি জানান, গত ১৯ সেপ্টেম্বর সাতক্ষীরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে দেবপ্রসাদ সরকারকে আসামি করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আবেদন করেছেন।
অর্জুন সরকারের ভাষ্য, আমার ছোট শিশুটির মুখের দিকে তাকিয়ে আমি আমার স্ত্রীকে যে কোনো মূল্যে ফিরে পেতে চাই। আমি চাই, আমার সন্তান তার মাকে ফিরে পাক।
এদিকে অর্ক সরকার কান্নাজড়িত কণ্ঠে মাকে ফিরে পাওয়ার আকুতি জানিয়েছে। তার দাবি, মায়ের সঙ্গে মামাবাড়ি যাওয়ার পর তাকে সেখান থেকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
অর্জুন সরকার আরও অভিযোগ করেন, লাবনী তার মা-বাবার পরামর্শে তাকে সর্বস্বান্ত করে সবকিছু নিয়ে গেছেন। একই সঙ্গে তিনি তার স্ত্রীর ছোট বোন সুস্মিতা সরকারের সংসার ভেঙে অন্যত্র বিয়ে দেওয়ার বিষয়েও অভিযোগ করেন।
অর্জুন সরকার জানান, গত শনিবারের পর লাবনীর সঙ্গে তার দুই-তিনবার ফোনে কথা হয়েছে। তার দাবি, লাবনী তাকে জানিয়েছেন যে তিনি দেবপ্রসাদ সরকারকে বিয়ে করতে চান।
স্বামী ও ছেলে তাকে ফিরিয়ে আনতে গেলে তাদের যাওয়ার খবর পেয়ে লাবনী সামনে আসেননি বলেও দাবি করেন তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে ইউপি সদস্য দেবপ্রসাদ সরকার বাবুর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনিও একই দাবি করেন। তিনি বলেন, আমরা বৈধভাবে বিয়ে করেছি।
মন্তব্য করুন