বাংলাদেশ, শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬
১৭ আশ্বিন ১৪৩৩ | সময়:
The Editors
২ অক্টোবর ২০২৬, ৯:৪৮ অপরাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ

সিলেটের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও জলবায়ু পরিবর্তন || আসাদুজ্জামান সরদার

শ্রীহট্ট, দুই পাতা এক কুঁড়ির দেশ কিংবা হযরত শাহজালাল (রহ.) ও শাহ পরান (রহ.)-এর পুণ্যভূমি- যে নামেই ডাকি না কেন, সবাই একনামে চেনে সুরমা পাড়ের পাথুরে সিলেটকে। দক্ষিণ-পশ্চিমের উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরা থেকে উত্তর-পূর্বের জেলা সিলেটের দূরত্ব ৪৬০ কিলোমিটার। সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর থেকে সিলেটের তামাবিল স্থলবন্দর পর্যন্ত বাইসাইকেল চালিয়ে অতিক্রম করার অভিযানকে অনেক সাইক্লিস্ট ‘ক্রসকান্ট্রি’ নাম দিয়েছেন। তবে আমাদের যাত্রার প্রেক্ষাপট ছিল ভিন্ন।

পাহাড়-মেঘ, নদীর স্বচ্ছ জলরাশি, পাথর আর সবুজের মেলবন্ধনে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অবলোকনের মাধ্যমে সুন্দরবন উপকূলীয় অঞ্চলের সাথে সাদৃশ্য-বৈসাদৃশ্য খুঁজতে এবং সিলেটে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব সরেজমিনে প্রত্যক্ষ করতে সম্প্রতি সাতক্ষীরা সাংবাদিক কেন্দ্রের একটি টিমের সাথে ঘুরে এলাম সিলেট।

এর আগে ৯-১০ বছর পূর্বে একবার সিলেটে যাওয়ার সুযোগ হয়েছিল। দীর্ঘদিন পরে এই সফরে যেমন প্রাকৃতিক সৌন্দর্য মুগ্ধ করেছে, তেমনি জলবায়ু পরিবর্তন ও অবহেলার ছাপ কিছুটা হতাশও করেছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব যে শুধু সাতক্ষীরার উপকূলীয় এলাকায় সীমাবদ্ধ তা নয়, পাহাড় আর সবুজে ঘেরা সিলেটেও তা স্পষ্ট। এবার সাতক্ষীরায় যখন ভারী বৃষ্টিতে চারপাশ তলিয়ে গেছে, সিলেটে তখন বৃষ্টির দেখা পর্যন্ত পাইনি।

যেভাবে শুরু হলো যাত্রা 
সাতক্ষীরা শহরের সঙ্গীতা মোড় থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর বিকেল সাড়ে ৫ টায় মামুন পরিবহনের বাস ছেড়েছিল সিলেটের উদ্দেশ্যে। রাত সাড়ে ৮টায় যশোরের মনিহার সিনেমা হলের সামনে বিরতি, এরপর গোপালগঞ্জের দাসের হাটে এভারগ্রীন হাইওয়ে ইন-এ রাতের খাবার শেষ করে বাস ছুটে চলে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে। রাতের অন্ধকারে পদ্মা সেতু পার হয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ গ্যাস ফিল্ডের আলো এবং ভোরের আলোয় হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জের দৃষ্টিনন্দন মিনারযুক্ত মসজিদ ও ওভারব্রিজ পার হয়ে আমরা প্রবেশ করি সিলেটে।

সিলেটে ঢোকার মুখেই সুরমা নদীর সৌন্দর্য এবং নদীর ওপর নির্মিত লন্ডনের নকশায় সুরমা দক্ষিণ বাস টার্মিনাল নজর কাড়ে সবার। হোটেলে উঠে আধঘণ্টা পরে আমাদের মূল ভ্রমণ শুরু হয়।

লালা খাল ও জাফলং
সকালের নাস্তা সেরে আমরা রওনা হই লালাখালের উদ্দেশ্যে। সেখানে পৌঁছে নৌকায় করে লালাখালের সৌন্দর্য উপভোগ করি। লালাখালের স্বচ্ছ নীল জলধারা, পাহাড় ও আশেপাশের চা বাগানের সবুজ সৌন্দর্য আমাদের মুগ্ধ করে। এর আগে একবার লালাখাল গেলেও সন্ধ্যা নামার কারণে দেখতে পারিনি মন ভরে।

এবার আমরা লালাখালে নৌকায় উঠে যখন পাহাড়ি চা বাগান দেখতে যাবো, তখন আমাদের আগে যাওয়া পর্যটকরা যেতে নিষেধ করেন। কারণ সেখানে নাকি অনেক জোঁক আছে। আমরা তাদের নিষেধ অমান্য করে সেখানে যাই। সহকর্মী সাংবাদিক রাহাত রাজার পায়ে জোঁক লাগবে এমন সময় আমি টের পেয়ে যাই। এতে সে অল্পের জন্য রক্ষা পায়। কিন্তু আমাদের আরেক সহকর্মী এসএম বিপ্লব জোঁকের কবলে পড়েন। সহকর্মী ইব্রাহিম খলিল, হোসেন আলী এবং মিলনসহ বেশ কয়েকজন চা বাগান ধরে পাহাড়ের চূড়ায় উঠেছিল। আমি আর সহকর্মী হাবিবুল হাসান মালতী দেবী নামে এক পাহাড়ি নারীর বাড়িতে গেলাম, তিনি আমাদের ঘুরে ঘুরে দেখাচ্ছিলেন। সীমান্তের ওপারে বিএসএফের টহলও দেখান। সেখান থেকে ফেরার পথে দেখা হয় চায়ের দোকানদার হরি মাস্টারের সাথে। হরি মাস্টারের চা পান করি এবং তার নিজের লেখা কবিতা শুনি। তিনি সিলেট সরকারি কলেজ থেকে পাস করে লালাখাল এলাকার একটি স্কুলে পড়াতেন, এখন অবসর নিয়েছেন, চা বিক্রি করেন। সেখান থেকে তপ্ত দুপুরে ফিরে উঠে পড়ি আমাদের রাঙ্গা ভাইয়ের চার চাকার যানে, রওনা হই জাফলং ও ডাউকি সীমান্তের দিকে।

জুম্মার নামাজের বিরতি শেষে আমরা যাই গোয়াইনঘাটের বিখ্যাত জাফলং-এ। তবে পিয়াইন নদীতে পানি অনেক কম থাকায় হেঁটেই নদী অতিক্রম করতে হয়। গতবার নদীতে পানি ছিল, নৌকায় করে গিয়েছিলাম, সেই জায়গায় এবার হেঁটে যেতে হলো। গতবারের তুলনায় পাথর নেই বললেই চলে। এটা দেখে রীতিমতো হতাশ হয়েছিলাম।

খাসিয়া-জৈন্তা পাহাড়ের পাদদেশে পিয়াইন নদীর স্বচ্ছ পানি ও পাথুরে সৌন্দর্য বেশ ভালোই লাগে। ডাউকি সীমান্তের কাছে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বিএসএফ এর উপস্থিতি সত্ত্বেও স্বচ্ছ পানিতে গোসল করার আনন্দ মিস করিনি আমরা।
ফেরার পথে আগুন পাহাড়ে গিয়ে সহকর্মী মোশারফ হোসেনের আগুন নিয়ে খেলে মুগ্ধ করেছে।

সন্ধ্যায় আমরা হযরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করে হোটেলে ফিরি। হোটেলে সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও বাংলা নিউজের বিভাগীয় প্রতিনিধি নাসির উদ্দীন ভাইয়ের আপ্যায়নে মুগ্ধ হই। আমাদের ভ্রমণ সফল হওয়ার ক্ষেত্রে তার অনেক বড় অবদান ছিল। রাতে হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করি। হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারে ঐতিহ্যবাহী জালালী কবুতর, দীঘির গজার মাছ এবং চলচ্চিত্র অভিনেতা প্রয়াত সালমান শাহর (চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন) কবর প্রত্যক্ষ করি। রাতের আহার শেষে তানজির কচি, বিপ্লব হোসেন, হাবিবুর রহমান সোহাগ, রাহাত রাজা, রিজাউল করিমসহ আমরা ৬ জন দুই রিকশায় বেরিয়ে পড়ি ঐতিহাসিক কিন ব্রিজ ও আলী আমজাদের ঘড়ির উদ্দেশ্যে। রাত ১০টা ৪৫-এর দিকে সুরমা নদীর তীরে চাঁদনীঘাটের ঐতিহাসিক আলী আমজাদের ঘড়ি এবং ১৯৩৬ সালে নির্মিত স্টিলের ঐতিহাসিক ‘কিন ব্রিজ’ পরিদর্শন করে শেষ হয় প্রথম দিনের সূচি।

ভোলাগঞ্জ সাদা পাথর ও সোয়াম্প ফরেস্ট রাতারগুল
ভারতের মেঘালয় রাজ্য ও শিলং পাহাড়ের কোল ঘেঁষে ধোলাই নদীর তীরে অবস্থিত ভোলাগঞ্জ সাদা পাথর। ট্রলারে চেপে সাদা পাথরে গিয়ে দেখা গেল এক অপূর্ব দৃশ্য—একপাশে সবুজ পাহাড়, আকাশে মেঘের খেলা, আর নিচে সাদা পাথরের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া কাঁচের মতো স্বচ্ছ পানির ধারা। পানির তলদেশ পর্যন্ত স্পষ্ট দেখা যায়। এতে জাফলংয়ে পানি দেখতে না পাওয়ার দুঃখ দূর হয় সবার। কাঁচের মতো স্বচ্ছ পানির ধারা আর নিচের পাথর দেখে কেউ বসে থাকতে পারেনি। সবাই গোসলে নেমে পড়েন। আমরা সেখানে প্রায় দেড় ঘণ্টা গোসল করি এবং মেঘালয় রাজ্যের শিলং পাহাড়ের সাথে মেঘের মিতালী উপভোগ করতে থাকি। আমাদের ভ্রমণসঙ্গী আলী মুক্তাদা হৃদয়ের আহ্বানে সাড়া দেওয়া তার সহকর্মী কালের কণ্ঠের ডিজিটাল বিভাগের সিলেট ব্যুরো প্রধান কবির হোসেনের আতিথেয়তা আমাদের সকলকে মুগ্ধ করে।

পরে বিকেলে আমরা যাই দেশের একমাত্র মিঠাপানির জলজ বন বা সোয়াম্প ফরেস্ট রাতারগুলে। তবে রাতারগুল ভ্রমণকালে তীব্র গরম ও অনিয়মিত বৃষ্টির কারণে জলবায়ু পরিবর্তনের স্পষ্ট প্রভাব চোখে পড়ে। ছবি বা ভিডিওতে যেমন দেখা যায়, তার কোন কিছুই চোখে পড়েনি।

ফিরে আসার পালা
রাতারগুল ভ্রমণ শেষে আমরা দেশের প্রথম চা বাগান ‘মালনীছড়া’ পরিদর্শনে যাই এবং সিলেটের বিখ্যাত ‘পানসী’ রেস্তোরাঁয় আহার সেরে মামুন পরিবহন কাউন্টারে এসে আমাদের ব্যাগ রেখে আমি, রাহাত রাজা, রিজাউল এবং হোসেন আলী বেরিয়ে পড়ি সিলেটের দক্ষিণ সুরমা বাস টার্মিনাল দেখতে। রাজার ড্রোন দেখে অনেকেই ঘিরে ধরে তাকে, তাদের কাউন্টার কেমন দেখা যাচ্ছে পাখির চোখে সেটা দেখতে। তবে তাদের টার্মিনাল সম্পর্কে কেউ কথা বলতে রাজি হচ্ছিল না, কারণ কিছুদিন আগেও সেখানে মারামারি হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে প্রায় ৬৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত বাস টার্মিনালটি নজর কেড়েছে আমাদের। সন্ধ্যা ৬টায় সাতক্ষীরার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়ে সকাল ৭টায় সাতক্ষীরায় পৌঁছাই।

ভ্রমণকালীন অভিজ্ঞতা
ভ্রমণকালে সাতক্ষীরা সাংবাদিক কেন্দ্রের সদস্য ও স্থানীয় সাংবাদিকদের পর্যটন, জলবায়ু পরিবর্তন এবং সিলেটের কৃষি সম্ভাবনা নিয়ে নানা মতামত উঠে আসে।

সাতক্ষীরা সাংবাদিক কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক আহসানুর রহমান রাজিব বলেন, ৫-১০ বছর আগে এখানকার পাহাড়ি ঝিরি ও নদ-খালে যে প্রাকৃতিক পানির ধারাবাহিক প্রবাহ ছিল, স্থানীয়দের মতে এখন তা নেই। এখন বর্ষা মৌসুমেও আগের মতো নিয়মিত পাহাড়ি ঢল নামে না; হঠাৎ পানি এসে আবার হঠাৎ নেমে যায়। ফলে সুপেয় পানির সংকট তৈরি হচ্ছে।
এছাড়া শ্রাবণ-ভাদ্রের বর্ষা মৌসুমেও এখানে গ্রীষ্মকালের চেয়ে তীব্র তাপমাত্রা অনুভূত হচ্ছে। পর্যটকদের ছাতা মাথায় দিয়ে স্পটগুলোতে ঘুরতে হচ্ছে। পর্যটন স্পটগুলোতে ছায়াদার বৃক্ষরোপণ এবং বসার ভালো ব্যবস্থা করলে পর্যটকদের ভোগান্তি অনেকাংশে কমবে।

তিনি আরো বলেন, কয়েক বছর আগের তুলনায় এবার এসে দেখলাম পর্যটন স্পটগুলোর তিন ভাগের দুই ভাগ পাথরই গায়েব হয়ে গেছে, অল্প কিছু পাথর অবশিষ্ট আছে। পাশাপাশি ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের সংস্কার কাজ চলায় বেশ কিছু স্থানে বড় গর্ত ও খানাখন্দের কারণে যাতায়াতে বেশ ভোগান্তি হয়েছে। সড়কটি দ্রুত উন্নত হলে পর্যটক বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। তবে দক্ষিণ উপকূলের লবণাক্ত অঞ্চলের মানুষের কাছে সিলেটের মিষ্টি পানি, পাহাড়ি ঝিরি ও এখানকার বৈচিত্র্যময় প্রকৃতি এক ভিন্ন আমেজ ও ভালো লাগা উপহার দেয়।

সাতক্ষীরা সাংবাদিক কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক আরো বলেন, সাতক্ষীরার মতো কৃষিপ্রধান অঞ্চলের মানুষের চোখে সিলেটের বিপুল পরিমাণ অনাবাদি জমি এক বড় প্রশ্ন তৈরি করেছে। সিলেটে সারা বছর প্রাকৃতিক মিষ্টি পানির উৎসের সুবিধা থাকা সত্ত্বেও হাজার হাজার একর জমি পতিত পড়ে আছে। উপকূলে লবণাক্ততার আগ্রাসনের সাথে তুলনা করলে সিলেটে সুপেয় পানির প্রাচুর্যকে কাজে লাগিয়ে ব্যাপক ‘কৃষি বিপ্লব’ ঘটানো সম্ভব। পতিত জমিগুলোকে পরিকল্পিত সেচের আওতায় এনে ফসল চাষে উদ্বুদ্ধ করতে পারলে খাদ্য উৎপাদনের মাধ্যমে সিলেট জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তায় বড় ভূমিকা রাখতে পারবে।

তানজির কচি বলেন, সফরকারীদের জেলা সাতক্ষীরার মানুষের জীবন ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, নদীভাঙন ও লবণাক্ততার মতো দুর্যোগের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। সেই উপকূল থেকে সিলেটের পাহাড়, নদী ও জলাবনের ভিন্ন পরিবেশে এই সফর সাংবাদিকদের জন্য নতুন অভিজ্ঞতা তৈরি করেছে।
তিনি আরো বলেন, ভোলাগঞ্জের সাদা পাথরে সবুজ পাহাড়, মেঘ আর স্বচ্ছ জলধারার যে মেলবন্ধন—তা দেখলে মনের সব ক্লান্তি দূর হয়ে যায়। এখানে শত শত মানুষের উল্লাস-উচ্ছ্বাস চোখে পড়ার মতো। পানির স্বচ্ছতা এতই বেশি যে তলের প্রতিটি পাথর গুনে নেওয়া যায়।

বাংলানিউজ২৪-এর সিলেট বিভাগীয় প্রতিনিধি নাসির উদ্দীন বলেন, প্রাচীন জনপদ সিলেট কেবল ‘শ্রীহট্ট’ বা ‘জালালাবাদ’ নামে নয়, এটি একটি আধ্যাত্মিক ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি। হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহ পরান (রহ.) সহ ৩৬০ আউলিয়ার স্মৃতি বিজড়িত এই মাটিতেই রয়েছে শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভুর স্মৃতিধন্য তীর্থস্থান।
পাহাড়ি টিলা আর দিগন্ত বিস্তৃত চা বাগান সিলেটকে সবুজে ঢেকে রেখেছে। সুরমা নদীর ওপর কিন ব্রিজ, চাঁদনীঘাটের সিঁড়ি ও আলী আমজাদের ঘড়িকে কেন্দ্র করে তো সেই বিখ্যাত আঞ্চলিক প্রবাদটি আজও লোকমুখে ফেরে—’চাঁদনীঘাটের সিঁড়ি, আলী আমজাদের ঘড়ি, বঙ্কুবাবুর দাড়ি, জিতুমিয়ার বাড়ি’। মরমী কবি হাছন রাজা, রাধারমণ দত্ত, আরকুম শাহ, দূরবীন শাহ ও শাহ আব্দুল করিমের গানের সুর আজও সিলেটের আকাশে-বাতাসে ভেসে বেড়ায়।

তিনি আরো বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব আমাদের এখানেও পড়েছে। বৃষ্টি হলেও তাপমাত্রা ৩৫-এর নিচে নামে না। হঠাৎ রোদ-বৃষ্টি তো আছেই। জলবায়ুর পরিবর্তন আর কিছু প্রশাসনিক উদাসীনতা সত্ত্বেও সিলেটের রূপ ও মাধুর্য আজও অনন্য। তবে প্রাকৃতিক সম্পদ ও পাথর রক্ষা, বৃক্ষরোপণ এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার দ্রুত উন্নতি ঘটালে দুটি পাতা একটি কুঁড়ির এই দেশ দেশি-বিদেশি পর্যটকদের জন্য আরও আকর্ষণীয় ও প্রাণবন্ত হয়ে উঠবে।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

সিলেটের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও জলবায়ু পরিবর্তন || আসাদুজ্জামান সরদার

১

বিডিনিউজের প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদী লন্ডনে মারা গেছেন

২

দেবহাটায় অস্ত্রের মুখে পোল্ট্রি খামার লুট!

৩

মিষ্টিকে এবার বিএনপি থেকে পদত্যাগের নির্দেশ

৪

মিথিলা এখন কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক

৫

ময়মনসিংহে বাস-অটোরিকশার সংঘর্ষে নিহত ৭

৬

বিমানবন্দরের ইডিকে হুমকি: জামায়াত নেতা আখতারুজ্জামান গ্রেপ্তার

৭

শ‌্যামনগ‌রে বজ্রপাতে কাঠমিস্ত্রির মৃ/ত্যু

৮

শ্রীধরকাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এমপি রবিউল বাশারের মতবিনিময়

৯

খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকে শিক্ষার অপরিহার্য অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করতে কাজ চলছে: জবি উপাচার্য

১০

সাতক্ষীরায় বর্ণাঢ্য আয়োজনে চ্যানেল আই’র প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

১১

কলারোয়ায় পানিতে ডুবে ২ সহোদর শিশুর মৃ/ত্যু

১২

বড়দলে পুষ্টি বিষয়ক প্রশিক্ষক প্রশিক্ষণ

১৩

অনিশ্চয়তায় কাটছে শারমিনের জীবন, চিকিৎসা ও পুনর্বাসনে সহায়তার আহবান

১৪

তালায় রাস্তার গাছ কাটার ঘটনায় তদন্ত

১৫

দরিদ্র ও পিছিয়েপড়া নারীদের স্বাবলম্বী করতে সেলাই মেশিন বিতরণ

১৬

মিষ্টির শূন্য আসন: উপ-নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না জামায়াত জোট

১৭

চলতি মাসেই বিদায় নেবে বর্ষা, হতে পারে ঘূর্ণিঝড়

১৮

সাতক্ষীরার প্রাচীন ঐতিহ্য গুড় পুকুর মেলা শুরু

১৯

বিএনপির এমপি মিষ্টিকে পদত্যাগের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

২০