
বিনোদন ডেস্ক: তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগের পর ভারতীয় জনতা পার্টিতে (বিজেপি) যোগ দিয়েছেন অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিক। শুধু তাই নয়, নতুন দল বিজেপি থেকেও তিনি রাজ্যসভার টিকিট পেয়েছেন।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে!
এবার দলবদল নিয়ে কোয়েলকে তীব্র কটাক্ষ করলেন শ্রীরামপুরের বর্ষীয়ান তৃণমূল সংসদ সদস্য কল্যাণ ব্যানার্জি। একাধিক ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে এমন খবর প্রকাশ হয়েছে।
অভিনেত্রীকে রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগতভাবে তীব্র আক্রমণ করেন এই তৃণমূল নেতা। তার ভাষ্য, রূপালি পর্দায় কোয়েল নায়িকার চরিত্রে অভিনয় করলেও রাজনৈতিক ময়দানে তিনি একজন ‘ভিলেন’।
পদত্যাগের পরপরই বিজেপি থেকে কোয়েলের মনোনয়ন প্রাপ্তির ঘটনাকে সুযোগসন্ধানী রাজনীতি হিসেবে দেখছেন তৃণমূল নেতৃত্ব। কল্যাণ ব্যানার্জি বলেন, সে-তো শুভেন্দু অধিকারীও আগে তৃণমূলে ছিল, তারা সবাই ভালো অভিনেত্রী।
সকালবেলা নায়িকা, বিকেলবেলা ভিলেন।
কোয়েলের নীতিগত অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মমতার বিধায়ক কুণাল ঘোষও। তার মতে, ভোটের মুখে সুযোগ নিয়ে তৃণমূলের টিকিটে সাংসদ হওয়া এবং পরবর্তীতে সুযোগ বুঝে বিজেপির হাত ধরা পদ ও ক্ষমতার লোভে নেওয়া একটি সিদ্ধান্ত। তার দাবি, পশ্চিমবঙ্গের মানুষ এবং কোয়েলের ভক্তরা এমন পরিবর্তনকে কখনোই ইতিবাচকভাবে মেনে নেবে না।
কুণাল ঘোষ বলেন, যখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন, তখন আপনার সাংসদ হওয়ার জন্য তৃণমূলকে খুব ভালো লাগত। আর আজকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী নেই, সঙ্গে সঙ্গে আপনাকে বিজেপিতে যেতে হলো। এই কারণেই প্রশ্ন ওঠে দিদিমণি এই সমস্ত জিনিসপত্রকে নিয়েছিলেন কেন?
তিনি বলেন, সদিচ্ছা থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশিষ্টদের রাজনীতিতে এনেছিলেন, জনপ্রতিনিধি করেছিলেন। তৃণমূলে সমাজের সব ক্ষেত্রের মানুষের প্রতিনিধিত্ব ছিল। মমতাদি সৌজন্য দেখিয়েছিলেন, আজ কয়েকজন বিশ্বাসঘাতক প্রমাণ করে দিয়েছেন এই সৌজন্য সবার জন্য নয়।
যদিও বিষয়টি নিয়ে বিজেপি নেতৃত্ব বা কোয়েল মল্লিকের পক্ষ থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে রাজ্যসভা ভোটের আগে টলিউড তারকার এমন দলবদল পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে অন্যতম আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মন্তব্য করুন