
ডেস্ক রিপোর্ট: অ্যাড. আবুল হোসেন অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটসের সিনিয়র সদস্য সাতক্ষীরার প্রবীণ আইনজীবী অ্যাডভোকেট নিরোদ কুমার মজুমদারের স্মৃতিচারণ সভা ও প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
তাঁর আত্মার শান্তি কামনায় বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুর ২টায় সাতক্ষীরা জেলা আইনজীবী সমিতির চতুর্থ তলায় এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অ্যাড. শহীদ হাসান বাবুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রয়াত নিরোদ কুমার মজুমদারের কর্মময় জীবন নিয়ে স্মৃতিচারণ করেন অ্যাডভোকেট সোমনাথ ব্যানার্জি, অ্যাডভোকেট তারক কুমার মিত্র, সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. রনজিত সরকার, অ্যাডভোকেট তপন কুন্ড, অ্যাডভোকেট সোহরাব হোসেন, অ্যাডভোকেট অজয় সরকার, অ্যাডভোকেট
পঙ্কজ দেবনাথ, অ্যাডভোকেট রঘুনাথ মন্ডল, জিপি অ্যাডভোকেট অসীম কুমার মন্ডল, অ্যাডভোকেট প্রবীর মুখার্জি, অ্যাডভোকেট শেখ ইমদাদুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট
মনীন্দ্র নাথ সরদার প্রমুখ।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সদানন্দ কুমার সরকার।
বক্তারা বলেন, অ্যাডভোকেট নিরোদ কুমার মজুমদার ছিলেন অত্যন্ত সদালাপী, বিনয়ী ও সহযোগিতাপরায়ণ মানুষ। দীর্ঘ আইন পেশায় তিনি সহকর্মী, মক্কেল ও পরিচিতজনদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। কারও বিপদে বা প্রয়োজনে দিন-রাতের হিসাব না করে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতেন। এমনকি গভীর রাতেও কেউ ফোন করলে তা গ্রহণ করে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করার চেষ্টা করতেন। মানুষের সঙ্গে তাঁর আচরণ ছিল আন্তরিক ও সৌহার্দপূর্ণ।
বক্তারা বলেন, একজন দক্ষ আইনজীবী হিসেবে তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনের পাশাপাশি মানুষের প্রতি আন্তরিকতা ও সহমর্মিতাই তাঁকে সবার কাছে আলাদা করে স্মরণীয় করে রাখবে। তাঁর চলে যাওয়া শুধু পরিবার নয়, আইন অঙ্গনেও একটি শূন্যতা তৈরি করেছে।
স্মৃতিচারণের সময় প্রয়াত আইনজীবীর সঙ্গে কাটানো বিভিন্ন স্মৃতি তুলে ধরতে গিয়ে অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। সহকর্মীদের কণ্ঠে উঠে আসে তাঁর হাসিমুখ, আন্তরিক ব্যবহার ও সহযোগিতার নানা স্মৃতি। প্রিয় সহকর্মীকে হারানোর বেদনায় স্মরণসভায় এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
জানা যায়, অ্যাডভোকেট নিরোদ কুমার মজুমদার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৮৫ সালে আইন বিষয়ে পড়াশোনা শেষ করে সাতক্ষীরা জজ কোর্টে অনুশীলন শুরু করেন। দীর্ঘ প্রায় ৪১ বছর তিনি সিভিল আইনজীবী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। কর্মজীবনে তিনি সততা, নিষ্ঠা ও পেশাগত দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। গত ৩ অক্টোবর দিবাগত রাতে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তিনি এক ছেলে ও এক মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
মন্তব্য করুন