
শ্যামনগর প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার শ্যামনগরে আলফাজ আহমেদ সুজন (২৫) নামে এক যুবককে জিম্মিদশা থেকে মুক্ত করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার কাছারীব্রিজ এলাকা থেকে নিখোঁজ হওয়ার পর রাতে কাশিমাড়ী এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। সে উপজেলার বাদুড়িয়া গ্রামের কামরুল ইসলাম মোড়লের ছেলে।
পাওনা স্বর্ণের চেইন ও টাকার জন্য ডেকে নিয়ে ঐ যুবককে বসিয়ে রাখার দাবি করেছে ঘটনায় জড়িতরা।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে সম্রাট শাহাজান ও নাজমুল হোসেন নামের দুই ব্যক্তি তাকে (আফজাল আহমেদ সুজনকে) পথরোধ করে। একপর্যায়ে তার ব্যবহৃত মোটর সাইকেলসহ তাকে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে সুজনের পরিবার জরুরী জাতীয় সেবা ৯৯৯-এ কল দিয়ে ঘটনাটি পুলিশকে জানায়। এসময় শ্যামনগর থানার সেকেন্ড অফিসার বিপ্লব হোসেন, উপ-পরিদর্শক সুদেব মন্ডল, উপ-পরিদর্শক সনজিত মন্ডল ও সহকারী উপ-পরিদর্শক সজীব সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে অভিযানে নামে।
পুলিশ সূত্রে আরও জানা যায়, প্রযুক্তির সহায়তায় আভিযানিক দলের সদস্যরা রাত নয়টার দিকে কাশিমাড়ী এলাকায় সুজনের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হয়। পরবর্তীতে রাত ১১টার দিকে স্থানীয়দের সহায়তা নিয়ে অক্ষত অবস্থায় সুজনকে উদ্ধার করতে সক্ষম হন তারা।
সুজনের ভাষ্য, তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেলে চড়ে শাহাজান ও নাজমুল তাকে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। তাকে মারধর না করলেও দিনভর মানসিক টর্চার করা হয়। পিতার নিকট পাওয়া টাকার জন্য তাকে অপহরণ করা হয়েছিল বলেও দাবি তার।
শাহাজান তার নিকট স্বর্ণের চেইন পাওয়ার দাবি করলেও সে সমস্যা মিমাংসিত বলে দাবি করেন সুজনের পিতা কামরুল ইসলাম।
সুজনকে আটকে রাখার বিষয়ে অভিযুক্ত শাহাজানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে এ বিষয়ে তাঁর চাচাতো ভাই বাবু বলেন, স্বর্ণের চেইন নিয়ে বিরোধের জেরে কামরুল ইসলাম জানিয়েছিলেন করেছিলেন, তাঁর ছেলে চেইন নিয়ে পালিয়ে গেছেন। এ কারণে পথে সুজনকে পেয়ে তাঁকে আটকে রেখে তাঁর বাবাকে খবর দেওয়া হয়েছিল। তবে তাঁকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর না করে নিজেদের কাছে আটকে রাখা ‘ভুল ছিল’ বলে স্বীকার করেন বাবু।
শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাফিউল ইসলাম পাটোয়ারী জানান, ৯৯৯ এ কল পেয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব নিয়ে শ্যামনগর থানা পুলিশের একটি দলকে মাঠে নামানোর ৬/৭ ঘণ্টার মধ্যে সুজনকে উদ্ধার করা হয়। তবে ভুক্তভোগীর পরিবার লিখিত অভিযোগ করতে সম্মত না হওয়ার কারণে তাকে পরিবারের জিম্মায় দেয়া হয়েছে।
মন্তব্য করুন