
রিয়াজ ইসলাম, জবি: জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় সমাবর্তনে অতীতের তুলনায় কয়েক হাজার টাকা ফি বৃদ্ধি এবং প্রফেশনাল ও সান্ধ্যকালীন কোর্সের শিক্ষার্থীদের নিয়মিত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যুক্ত করার প্রতিবাদে ক্যাম্পাসে ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র ক্ষোভ এবং সমালোচনা শুরু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. শেখ গিয়াস উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে সমাবর্তনের তারিখ, সময়সীমা ও ফি-এর তালিকা প্রকাশ করার পর থেকেই ক্রমাগত এই অসন্তোষ প্রকাশ করছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
জবি প্রশাসন, সাধারণ শিক্ষার্থী, সান্ধ্যকালীন কোর্সের শিক্ষার্থী এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফি কাঠামোর বৈসাদৃশ্য এখানে মূল আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে।
প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এবারের সমাবর্তনে স্নাতক ও বিবিএ ডিগ্রিধারীদের জন্য নিবন্ধন ফি ৫,০০০ টাকা ও মূল সনদ ফি ৫০০ টাকাসহ সর্বমোট ৫,৫০০ টাকা ধার্য করা হয়েছে। স্নাতকোত্তর ও এমবিএ শিক্ষার্থীদের জন্য ৬,৫০০ টাকা, এমফিল ও পিএইচডি সম্পন্নকারীদের জন্য ৭,৫০০ টাকা এবং স্নাতকোত্তর প্রফেশনাল ও সান্ধ্যকালীন প্রোগ্রামের শিক্ষার্থীদের জন্য সর্বমোট ৮,৮০০ টাকা ধার্য করা হয়েছে। এছাড়া ক্ষেত্রবিশেষে অতিরিক্ত সার্ভিস চার্জ যুক্ত হবে।
তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ম সমাবর্তনের তুলনায় এবার প্রায় প্রতিটি ক্যাটাগরিতে নিবন্ধন ফি ২,০০০ টাকা এবং মূল সনদ ফি ১০০ টাকা বাড়ানো হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৩তম সমাবর্তনে যেখানে মূল সনদ ও ব্যাংক চার্জসহ মোট ৩,৩২০ টাকা নেওয়া হয়েছিল, সেখানে জবিতে প্রায় দ্বিগুণ ফি ধার্য করা হয়েছে। এতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের নিয়মিত শিক্ষার্থীদের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ করছেন তারা। পাশাপাশি, সান্ধ্যকালীন কোর্সের শিক্ষার্থীদের একই সমাবর্তনে যুক্ত করা নিয়মিত গ্র্যাজুয়েটদের মর্যাদাকে ক্ষুণ্ন করছে বলে মনে করছেন শিক্ষার্থীরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ ও ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ প্রকাশ করছেন।
উম্মে হাবিবা নামে এক নিয়মিত শিক্ষার্থী ফেসবুকে লেখেন, আমরা যারা নিয়মিত শিক্ষার্থী, তাদের সাথে প্রফেশনাল ডিগ্রি কেনা শিক্ষার্থীদেরও একসাথে মিলিয়ে সমাবর্তন দিতে চাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সমাবর্তন গ্র্যাজুয়েটদের সম্মান, তা অপমান ডেকে আনুক আমরা চাই না।
অন্যদিকে ব্যাঙ্গাত্মক প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ইব্রাহিম নামে এক শিক্ষার্থী লেখেন, মনে হচ্ছে হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় সমাবর্তনের খরচা এবার বেশি। সমাবর্তনের টুপির জাহাজ আটকে গেছে, তাই টাকা বেশি লাগবে।
শিক্ষার্থীদের এই ক্ষোভের জবাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. শেখ গিয়াস উদ্দিন বলেন, মুদ্রাস্ফীতি ও ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই সেন্ট্রাল কমিটি ও একাডেমিক কাউন্সিলের মাধ্যমে এই ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। সেন্ট্রাল কমিটির অনুমোদিত এই সিদ্ধান্ত হওয়ায় এটি আর পুনর্বিবেচনা বা ফি কমানোর কোনো সুযোগ নেই।
ফি বৃদ্ধি প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. রইছ উদ্দিন জানান, ছয় বছর আগের তুলনায় বর্তমানে সবকিছুর দাম ও সমাবর্তন আয়োজনের খরচ বহুগুণ বেড়েছে। একাডেমিক কাউন্সিল, সিন্ডিকেট, ডিন ও চেয়ারম্যানদের সর্বসম্মত পর্যালোচনার ভিত্তিতেই ফি বাড়ানো হয়েছে। এটি একক কোনো সিদ্ধান্ত নয়।
মন্তব্য করুন