
ফরহাদ হোসেন, কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি: নেই প্রয়োজনীয় জনবল, শূন্য রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ সাতটি পদ। সীমিতসংখ্যক কর্মকর্তা-কর্মচারী দিয়ে চলছে দাপ্তরিক কাজ। এতে যেমন কর্মরতদের ওপর চাপ বাড়ছে, তেমনি ব্যাহত হচ্ছে নিয়মিত কার্যক্রম। এমন পরিস্থিতিতে জনবল সংকটে কার্যত খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে খুলনার কয়রা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস। দ্রুত শূন্য পদগুলো পূরণ করা না হলে উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর প্রশাসনিক কার্যক্রম, তদারকি ও শিক্ষাসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কাজে সংকট আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, অফিসটিতে মোট ১১টি পদের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন মাত্র চারজন। শূন্য রয়েছে সাতটি পদ। সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার পাঁচটি পদের মধ্যে কর্মরত আছেন তিনজন। অন্যদিকে উচ্চমান সহকারীর একটি, হিসাব সহকারীর একটি, অফিস সহকারীর দুটি এবং এমএলএসএসের একটি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। ফলে প্রয়োজনীয় জনবল ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছে অফিসের নিয়মিত কার্যক্রম।
শিক্ষা অফিসের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো শূন্য থাকায় সীমিত জনবল দিয়ে একসঙ্গে একাধিক দায়িত্ব সামলাতে হচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের। একদিকে উপজেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন, শিক্ষার মান পর্যবেক্ষণ ও শিক্ষকদের কার্যক্রম তদারকি; অন্যদিকে দাপ্তরিক নথিপত্র সংরক্ষণ, হিসাব-নিকাশ, চিঠিপত্র আদান-প্রদানসহ প্রশাসনিক কাজ সম্পন্ন করতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাঁদের। জরুরি কিছু দাপ্তরিক কাজ সম্পন্ন করতে বহিরাগত লোকের সহায়তা নিতে হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন শিক্ষা কর্মকর্তা।
১৪২ বিদ্যালয়, ৮৭৪ শিক্ষক
কয়রা উপজেলায় ১৪২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এসব বিদ্যালয়ে কর্মরত রয়েছেন ৮৭৪ জন শিক্ষক। পাশাপাশি অধ্যয়ন করছে হাজার হাজার শিক্ষার্থী। এত বিপুলসংখ্যক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা, বিদ্যালয় পরিদর্শন, শিক্ষকদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধান এবং সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নে উপজেলা শিক্ষা অফিস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিন্তু প্রয়োজনীয় কর্মকর্তা-কর্মচারী না থাকায় এসব কাজের স্বাভাবিক গতি ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
শিক্ষা অফিসের জনবল সংকটের প্রভাব পড়ছে বিদ্যালয়গুলোর দৈনন্দিন দাপ্তরিক কাজেও। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, বিভিন্ন তথ্য সরবরাহ এবং প্রশাসনিক সমস্যা সমাধানে দ্রুত সেবা পাওয়া নিয়ে ভোগান্তির মুখে পড়তে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা।
বেদকাশি বতুল বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোস্তফা জামাল উদ্দিন বলেন, শিক্ষা অফিসে লোকবল সংকটের কারণে অনেক সময় নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। সব পদে লোকবল দেওয়া সম্ভব না হলেও অন্তত অফিস সহকারী ও কম্পিউটার অপারেটর নিয়োগ দেওয়া জরুরি। এতে দাপ্তরিক কাজে কিছুটা হলেও ভোগান্তি কমবে।
মদিনাবাদ মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোস্তফা শহীদ সরোয়ার বলেন, শিক্ষা অফিসের অনেক পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। এটি পুরোনো সমস্যা। প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন ও প্রশাসনিক কার্যক্রম গতিশীল রাখতে শূন্য পদগুলো দ্রুত পূরণ করা প্রয়োজন। প্রয়োজনীয় কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হলে বিদ্যালয় পরিদর্শন, শিক্ষকদের দাপ্তরিক কাজ ও শিক্ষাসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কার্যক্রম আরও কার্যকরভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে।
দ্রুত জনবল নিয়োগের দাবি
সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন শুধু শ্রেণিকক্ষের পাঠদানেই সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে নিয়মিত বিদ্যালয় পরিদর্শন, শিক্ষকদের পেশাগত সহায়তা, প্রশাসনিক সমন্বয় এবং সরকারি নির্দেশনার যথাযথ বাস্তবায়ন। উপজেলা শিক্ষা অফিসে প্রয়োজনীয় জনবল না থাকলে এসব কার্যক্রমের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। তাই দীর্ঘদিনের এ সংকট নিরসনে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
কয়রা উপজেলা শিক্ষা অফিসার তপন কুমার কর্মকার বলেন, জনবল সংকটের কারণে অনেক কাজ করতে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়। বর্তমানে বহিরাগত লোকদের মাধ্যমে অফিসের জরুরি কার্যক্রমগুলো চালানো হচ্ছে। জনবল সংকটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। অচিরেই এ সমস্যার সমাধান করা প্রয়োজন।
মন্তব্য করুন