
ডেস্ক রিপোর্ট: বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রাফিতিতে কালি লেপনের প্রতিবাদে সাতক্ষীরায় সমাবেশ করেছে উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিকেল ৪টায় শহরের পোস্ট অফিস মোড়ে আয়োজিত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন উদীচী সাতক্ষীরার সভাপতি শেখ সিদ্দিকুর রহমান।
সাধারণ সম্পাদক সুরেশ পান্ডের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য দেন উদীচী সাতক্ষীরার উপদেষ্টা শিক্ষাবিদ অধ্যক্ষ আব্দুল হামিদ, জেলা নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট শেখ আজাদ হোসেন বেলাল, স্বদেশের মাধব দত্ত, বীর মুক্তিযোদ্ধা সুভাষ সরকার, জাতীয় রবীন্দ্রসংগীত সম্মিলিত পরিষদ সাতক্ষীরা জেলা শাখার সভাপতি শরিফুল্লাহ কায়সার সুমন, অধ্যক্ষ আশেক ই এলাহী, জাসদের সুধাংশু সরকার, কমরেড আবুল হোসেন, কবি স ম তুহিন, বাসদের জেলা সমন্বয়ক নিত্যানন্দ সরকার, বাংলাদেশ জাসদের জেলা সভাপতি অধ্যাপক ইদ্রিস আলী, কবি শুভ্র আহমেদ, কবি ও সাহিত্যিক আবু কাজী প্রমুখ।
সমাবেশের শুরুতে জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। এতে নেতৃত্ব দেন উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সংগীতবিষয়ক সম্পাদক বিউটি চক্রবর্তী।
বক্তারা বলেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শুধু একজন কবি নন; তিনি বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের বিশ্বপরিচয় এবং বাঙালির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাঁর গ্রাফিতিতে কালি লেপনের ঘটনা শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতি, মুক্তচিন্তা ও মানবিক মূল্যবোধের ওপর আঘাত।
তাঁরা বলেন, রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য, দর্শন, রাজনৈতিক চিন্তা ও ঐতিহাসিক ভূমিকা নিয়ে আলোচনা, সমালোচনা ও গবেষণা হতে পারে। মুক্ত ও গণতান্ত্রিক সমাজে যুক্তিনির্ভর সমালোচনার অধিকার সবার রয়েছে। তবে মতপার্থক্যের কারণে শিল্পকর্ম বিকৃত করা কিংবা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে অসম্মান করা গ্রহণযোগ্য নয়।
বক্তারা আরও বলেন, যুক্তির জবাব যুক্তি দিয়ে দিতে হয়, সৃষ্টির জবাব দিতে হয় আরও উন্নত সৃষ্টি দিয়ে। কালি লেপন করে কোনো চিন্তাকে পরাজিত করা যায় না। একই সঙ্গে কোনো ঘটনার প্রতিবাদ করতে গিয়ে আইনের শাসন, ন্যায়বিচার ও মানবিক মর্যাদা যেন ক্ষুণ্ন না হয়, সে বিষয়েও সবাইকে দায়িত্বশীল থাকতে হবে।
সমাবেশ থেকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রাফিতিতে কালি লেপনের ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে জনপরিসরে শিল্প ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, যুক্তিনির্ভর সমালোচনা ও ন্যায়বিচারের পরিবেশ অক্ষুণ্ন রাখার আহ্বান জানানো হয়।
মন্তব্য করুন