
সুলতান শাহাজান, শ্যামনগর: খসে পড়ছে দেয়ালের পলেস্তারা, দেখা দিয়েছে ফাটল। ভাঙা জানালা ও দরজা দেখে মনে হয়, দীর্ঘদিন ধরে ভবনটির দিকে কেউ ফিরেও তাকায়নি। পুরোনো ছাদ ভেদ করে বৃষ্টির পানি পড়ার চিহ্ন ছড়িয়ে আছে দেয়ালজুড়ে। কোথাও সেই পানি দেয়াল চুইয়ে নেমেছে। আবার রোগী বসার জায়গায় বৃষ্টির পানি ঠেকাতে ছাদের সঙ্গে টানানো হয়েছে লাল রঙের পলিথিন।
এটি কোনো পরিত্যক্ত ভবন নয়। এখানেই প্রতিদিন চিকিৎসাসেবা নিতে আসেন সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার ঈশ্বরীপুর ইউনিয়নের ধুমঘাট, হাঁসারচকসহ চার গ্রামের মানুষ। ভবনটি ধুমঘাট হাঁসারচক কমিউনিটি ক্লিনিকের। এখানে ক্লিনিক যেন নিজেই রোগী।
ক্লিনিকটিতে ঢুকলেই জরাজীর্ণতার চিত্র আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। পুরোনো দেয়ালজুড়ে স্যাঁতসেঁতে দাগ, ছাদের বিভিন্ন অংশে ক্ষয়ের চিহ্ন। এমন শোচনীয় অবস্থার মধ্যেই চলছে প্রান্তিক মানুষের স্বাস্থ্য সেবা।
ক্লিনিকে যাওয়ার একমাত্র রাস্তাটির অবস্থাও নাজুক। খানা-খন্দে ভরা জরাজীর্ণ ইটের সড়কটি বর্ষায় কাদায় পরিণত হয়। ফলে রোগীদের চলাচল তো দূরের কথা, সাধারণ মানুষের চলাচলও প্রায় অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

সম্প্রতি উপজেলার ঈশ্বরীপুর ইউনিয়নের ধুমঘাট হাঁসারচক কমিউনিটি ক্লিনিকে গিয়ে এমন চিত্র দেখা গেছে।
এসময় ক্লিনিকটিতে কর্মরত ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ১৯৯৬ সালে ভবনটি নির্মাণ করা হয়েছিল। নির্মাণের পর থেকে বড় ধরনের কোনো সংস্কার হয়নি। দীর্ঘ সময় ধরে সংস্কার না হওয়ায় ভবনটির এমন দশা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, চার গ্রামের প্রায় ৮ থেকে ১০ হাজার মানুষ এই কমিউনিটি ক্লিনিকের ওপর নির্ভরশীল। বিশেষ করে নারী, শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তিদের জন্য এটি কাছের স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র হিসেবে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু ক্লিনিক ভবনের এই অবস্থার কারণে চিকিৎসাসেবা নিতে এসে তাঁদেরও অস্বস্তিতে পড়তে হয়।
কমিউনিটি ক্লিনিকে চিকিৎসা নিতে আসা রোজিনা খাতুন (৩৬) বলেন, ক্লিনিকটি আমাদের জন্য খুব দরকারি। কিন্তু ভবনটির অবস্থা দেখে ভয় লাগে। বৃষ্টি হলে ভেতরে পানি পড়ে। দ্রুত ভবনটি সংস্কার করা দরকার।
সেবা নিতে এসে সুমিত্রা মন্ডল বলেন, দূরের হাসপাতালে যেতে হলে সময় ও অর্থ দুটোই বেশি লাগে। তাই গ্রামের মানুষের জন্য কমিউনিটি ক্লিনিকটিই ভরসা। ভবনটি ভালো থাকলে সেবাও আরও স্বাচ্ছন্দ্যে পাওয়া যেত।
ধুমঘাট হাঁসারচক কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপি দীপঙ্কর কুমার মন্ডল ক্লিনিকের ভবনটি বেশ পুরোনো ও ঝুঁকিপূর্ণ উল্লেখ করে বলেন, এই ক্লিনিকটি শুধু একটি ভবন নয়, চার গ্রামের মানুষের প্রাথমিক চিকিৎসার অন্যতম ভরসাস্থল। ভবনের জরাজীর্ণ অবস্থার কারণে আমাদেরও অনেক কষ্ট করে সেবা দিতে হয়।
ওষুধস্বল্পতা আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি জানান, আগে প্রতিটি ক্লিনিকে ২৭ ধরনের ওষুধ সরবরাহ করা হতো। এখন পাঁচ ধরনের ওষুধ বাদ দিয়ে ২২ ধরনের ওষুধ সরবরাহ করা হয়।
শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জিয়াউর রহমান বলেন, কমিউনিটি ক্লিনিকটি দীর্ঘদিনের পুরোনো হওয়ায় ভবনটির খুবই খারাপ অবস্থা। বিষয়টি আমি সরেজমিনে দেখেছি এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। শুধু এই কমিউনিটি ক্লিনিক নয় আরো কয়েকটি কমিউনিটি ক্লিনিকের সংস্কার ও নতুন ভবনের জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।
মন্তব্য করুন