বাংলাদেশ, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬
১ কার্তিক ১৪৩৩ | সময়:
The Editors
১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৪৫ অপরাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ

শামীমকে হত্যার উস্কানিদাতা ফজলুল হককে ধরিয়ে দিতে লেখক মহিউদ্দিন মোহাম্মদের পুরস্কার ঘোষণা

 

ডেস্ক রিপোর্ট: সাতক্ষীরার দেবহাটায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে ফেসবুক লাইভে উস্কানি ছড়িয়ে মানসিক ভারসাম্যহীন যুবক ওয়াহিদুজ্জামান শামীমকে হাসপাতাল থেকে বের করে এনে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাতে নিহত শামীমের বড় ভাই আব্দুল জলিল বাদী হয়ে দেবহাটা থানায় হত্যা মামলাটি দায়ের করেন।

মামলায় ফেসবুকে উস্কানিদাতা পারুলিয়া এলাকার ফজলুল হক আমিনীসহ ১০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ২০০ থেকে ২৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশ ইতোমধ্যে মামলার আসামি মোক্তার হোসেন এবং আসাদুল মোল্লাকে গ্রেপ্তার করেছে।

এদিকে, প্রথাবিরোধী আলোচিত-সমালোচিত লেখক মহিউদ্দিন মোহাম্মদ ফেসবুকে উস্কানি দিয়ে মানুষ জড়ো করে ওয়াহিদুজ্জামান শামীমকে হাসপাতাল থেকে টেনে হিচড়ে বের করে এনে পিটিয়ে হত্যায় নেতৃত্বদানকারী ফজলুল হক আমিনীকে ধরিয়ে দিতে ৫০ হাজার টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছেন।

ফেসবুকে নিজ প্রােফাইলে এই ঘোষণা দেন তিনি।

এতে তিনি লেখেন, ‘সাতক্ষীরায় ধর্ম অবমাননার দোহাই দিয়ে যুবককে পিটিয়ে মারার ঘটনায় মামলা হয়েছে। মূল আসামি ফজলুল হক আমিনী নামের একজন। সে দফায় দফায় ফেসবুকে লাইভ করে মানুষ জড়ো করেছিলো। এজাহারে নাম উল্লেখ আছে আরও দশ আসামির। অজ্ঞাত আছে ২০০ জনের মতো। জড়িতদের প্রায় সবাই জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতি করে। পুলিশ, র‍্যাব, ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো তৎপর হয়েছে আসামি গ্রেপ্তারে। আসামিরা সবাই পলাতক। আপনারা কেউ আসামিদের বর্তমান অবস্থান জানলে অনুগ্রহ করে সরাসরি সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার সাহেবকে জানাবেন। উনার মোবাইল/হোয়াটসঅ্যাপ নাম্বার: +8801320142100। আপনার পরিচয় গোপন থাকবে।
আসামিদের ধরিয়ে দিতে সহায়তা করলে আমাদের এই পেইজের পক্ষ থেকে ৫০ হাজার টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে। জড়িত প্রত্যেকের মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিত করতে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে, যেন ভবিষ্যতে বাংলাদেশে আর কখনো এ ধরণের ঘটনা না ঘটে। প্রধান আসামি ফজলুল হক আমিনীর ছবি নিচে দেওয়া হলো।’

মামলার এজাহার ও স্বজনদের সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার সন্ধ্যায় স্ত্রীর সঙ্গে পারিবারিক বচসায় জড়িয়ে গালিগালাজ করেন মানসিক রোগাক্রান্ত ওয়াহিদুজ্জামান শামীম। এ সময় স্থানীয় এক ব্যক্তি সেই কথাবার্তার অডিও রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়। অডিওতে ধর্ম নিয়ে কটূক্তি রয়েছে দাবি করে স্থানীয় ফজলুল হক আমিনী ফেসবুক লাইভ করে ‘তৌহিদী জনতা’কে একত্রিত হওয়ার আহ্বান জানান।

এরপর উত্তেজিত জনতা শামীমের বসতবাড়ির গেট ভাঙচুর করে তাকে বাজারে এনে মারধর করে। পরে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় বাড়িতে ফিরে তিনি বিষপান করেন। রাতে স্থানীয় কুলিয়া এলাকার এক গ্রাম্য চিকিৎসকের চেম্বারে নিয়ে তার পাকস্থলী ওয়াশ করানোর পর তিনি সুস্থ হয়ে উঠছিলেন। কিন্তু মঙ্গলবার রাতে ফজলুল হক আমিনী ও তার অনুসারীরা চিকিৎসাধীন শামীমকে ওই চেম্বার থেকে বের করে আবারও গণপিটুনি দেয়।

খবর পেয়ে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে দেবহাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। তবে হামলা থামেনি; আমিনীর নেতৃত্বে এক হাজারের বেশি লোক হাসপাতালে গিয়ে হামলা চালায় এবং চিকিৎসাধীন শামীমকে দেয়ালে আছাড় মেরে বাইরে এনে এলোপাতাড়ি পেটাতে থাকে। পরবর্তীতে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের ছোট ভাই জেলা রেফারি অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য ও সুবর্ণাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি তাহসিভ রহমান সাগরের অভিযোগ, ‘এই অডিও প্রথমে স্থানীয় জামায়াত অফিসে নিয়ে তাদের শোনানো হয়। এরপর স্থানীয় জামায়াতে ইসলামীর একদল নেতাকর্মী লোক জড়ো করে প্রথম ‘মব’ বা উগ্র জনতা সৃষ্টি করেছিল।’

তবে এ অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন স্থানীয় জামায়াত নেতা কামরুল ইসলাম গাজী। তিনি বলেন, চিকিৎসকের চেম্বারের পাশে সাধারণ মানুষ উত্তেজিত হয়ে পড়েছিল। এতে জামায়াতের কোনো দলীয় সম্পৃক্ততা ছিল না, এলাকাবাসীই সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

একই সঙ্গে ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে জড়িয়ে অপপ্রচারের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন দলটির দেবহাটা উপজেলা শাখার সেক্রেটারি এইচ এম এমদাদুল হক। এক প্রতিবাদলিপিতে তিনি উল্লেখ করেন, শামীমের মৃত্যুর ঘটনায় জামায়াতে ইসলামী বা এর কোনো নেতাকর্মীর কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই।

প্রতিবাদলিপিতে বলা হয়, একটি মহল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে জামায়াতের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে অপপ্রচার চালাচ্ছে। এ ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্যে কান না দেওয়ার জন্য সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে শামীমের মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি জানান দলটির নেতারা।

এদিকে মামলার প্রধান অভিযুক্ত ফজলুল হক আমিনী সামাজিক মাধ্যমে লাইভ করে জনতা জড়ো করার কথা নিজ মুখে স্বীকার করলেও এবং প্রশাসনকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানালেও এখনও পর্যন্ত তিনি গ্রেপ্তার হননি। এ নিয়ে সাধারণ মানুষ ও সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।

দেবহাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এইচ এম শাহীন মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, মামলা দায়েরের পর পুলিশ ইতোমধ্যেই দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তিনি বলেন, প্রধান অভিযুক্ত ফজলুল হক আমিনীসহ অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে একাধিক টিম মাঠে নেমেছে। ভিডিও ফুটেজ ও অন্যান্য আলামত বিশ্লেষণ করে দ্রুতই বাকিদের আইনের আওতায় আনা হবে।#

১৬।১০।২৬

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

শামীমকে হত্যার উস্কানিদাতা ফজলুল হককে ধরিয়ে দিতে লেখক মহিউদ্দিন মোহাম্মদের পুরস্কার ঘোষণা

১

বিশ্ব মেরুদণ্ড দিবসে আলোচনা : উন্নত চিকিৎসায় সরকারি হাসপাতালে স্পাইন ইউনিট চালুর দাবি

২

সাতক্ষীরায় সাংবাদিকতায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার নিয়ে অভিজ্ঞতা বিনিময় অধিবেশন

৩

হাজার বছরের পথ বেয়ে পর্যটনের বাংলাদেশ || মো: মামুন হাসান

৪

সাতক্ষীরায় দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় ৩১ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন

৫

সাতক্ষীরায় আর্ন্তজাতিক গ্রামীণ নারী দিবস পালিত

৬

শ্যামনগরে গ্রামীণ নারী কৃষি মেলা

৭

সাতক্ষীরায় মাসব্যাপী সাঁতার প্রশিক্ষণ উদ্বোধন

৮

হাম-রুবেলা প্রতিরোধে ধর্মীয় নেতাদের সম্পৃক্ত করার আহ্বান

৯

পাইকগাছায় ১৫১ পূজামণ্ডপে সরকারি সহায়তা প্রদান

১০

প্রান্তিক মানুষের অভিজ্ঞতা, সফলতা ও প্রত্যাশা নিয়ে সাতক্ষীরায় সহযোগিতা সভা

১১

সাতক্ষীরায় দুর্গোৎসবে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিতের আশ্বাস রেঞ্জ ডিআইজির

১২

তথ্য অধিকার দিবস উদযাপনে আলোচনা

১৩

পূজো আসে, আনন্দ আসে না বাঘ বিধবাদের ঘরে

১৪

ধর্ষণ মামলায় মোশাররফকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ

১৫

সুন্দরবনের অভয়ারণ্যে কাকড়া শিকার, নৌকাসহ ৩ জেলে আটক

১৬

মাদকের টাকা না পেয়ে মাকে দা দিয়ে কোপ, ঠেকাতে গিয়ে কাকী নিহত

১৭

কপ ৩১: যাদের জন্য জলবায়ু সম্মেলন, তাদের জায়গা কোথায়? || এস এম জান্নাতুল নাঈম

১৮

জবি ক্যাম্পাসে পশু জবাই নিষিদ্ধ করল প্রশাসন

১৯

কয়রায় ইকোসিস্টেম পুনরুদ্ধারে যুবকদের উদ্যোগ, খাল-পুকুরে পরিচ্ছন্নতা অভিযান

২০