
ডেস্ক রিপোর্ট: নেত্রকোনার দুর্গাপুরে নিহত সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান ফকির আলিফের শরীরে ছয়টি গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে। এর মধ্যে পাঁচটি গুলি শরীর ভেদ করে যায়। আরেকটি গুলি তার পিঠের ভেতরে আটকে ছিল।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) নেত্রকোনা সদর হাসপাতালে ময়নাতদন্তের সময় গুলিটি বের করা হয়।
ময়নাতদন্তের দায়িত্বে থাকা নেত্রকোনা ২৫০ শয্যা হাসপাতালের চিকিৎসক শ্রদ্ধ্যানন্দ নাথ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, সাংবাদিক আলিফের বুকের অংশে তিনটি গুলি লাগে। এর মধ্যে দুটি গুলি শরীর ভেদ করে বেরিয়ে যায়। একটি পিঠের দিকে শরীরের ভেতরে আটকে ছিল।
অপর তিনটি গুলির আঘাতের বিষয়ে চিকিৎসক জানান, একটি গুলি কপালের ডান পাশ দিয়ে ঢুকে মাথার পেছন দিক দিয়ে বেরিয়ে গেছে। আরেকটি মাথার ওপরের অংশের চামড়া এবং অন্য একটি গুলি ডান কাঁধের পাশের চামড়া ভেদ করে চলে যায়।
ক্ষতের ধরন বিশ্লেষণ করে শ্রদ্ধ্যানন্দ নাথ বলেন, ‘শরীরে গুলির প্রবেশ ও বেরিয়ে যাওয়ার চিহ্ন পর্যবেক্ষণ করে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, আলিফকে সামনে থেকে গুলি করা হয়েছে।’
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার শ্যামগঞ্জ-বিরিশিরি সড়কের উত্তরাইল এলাকায় তেলনজিয়া গ্রামে একটি চা দোকানের সামনে গুলি করা হয় সাংবাদিক আলিফকে।
তিনি বেসরকারি আইপিটিভি চ্যানেল রূপসী বাংলার নেত্রকোনা প্রতিনিধি ছিলেন। পাশাপাশি ‘ডিটেকটিভ আর্টিকেল’ নামে একটি ফেসবুক পেজ পরিচালনা করতেন। সেখানে দুর্নীতি, অনিয়ম ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে নিয়মিত পোস্ট দিতেন আলিফ।
দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদ বলেন, ‘আলিফের মাথা, ঘাড় ও বুকসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুলির ক্ষত দেখা গেছে। রাতে গুলির শব্দে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে ছুটে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যান। তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।’
হামলাকারীদের পরিচয় কিংবা হত্যাকাণ্ডের উদ্দেশ্য বিষয়ে পুলিশ এখনো নিশ্চিতভাবে কিছু জানাতে পারেনি। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি। ঘটনায় জড়িত সন্দেহে কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ।
মন্তব্য করুন