
ডেস্ক রিপোর্ট: ৪৫তম বিসিএসের মৎস্য ক্যাডারে মেধাতালিকায় ২৮তম হয়েও চূড়ান্ত গেজেটে নাম না আসায় আত্মহত্যার ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) শিক্ষার্থী ও জুলাই অভ্যুত্থানে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়া মনিরুজ্জামান।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া পোস্টে তিনি এ ঘোষণা দেন। বৃহস্পতিবারের মধ্যে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত না এলে শুক্রবার আত্মহত্যা করবেন বলে পোস্টে উল্লেখ করেন তিনি।
মনিরুজ্জামান বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তার ফেসবুক পোস্টটি ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়েছে।
পোস্টে মনিরুজ্জামান লেখেন, তিনি ৪৫তম বিসিএসের মৎস্য ক্যাডারে গেজেটবঞ্চিত হয়েছেন। বৃহস্পতিবারের মধ্যে কোনো সিদ্ধান্ত না এলে শুক্রবার ২৩ অক্টোবর গণমাধ্যমের সামনে আত্মহত্যা করবেন বলে ঘোষণা দেন তিনি।
নিজের হতাশা প্রকাশ করে মনিরুজ্জামান লেখেন, চার বছরের পরিশ্রমের ফল শূন্য হয়ে গেছে। মেধাতালিকায় ২৮তম হওয়ার পরও কেন তাকে বাদ দেওয়া হলো, সেই প্রশ্নের উত্তর চান তিনি। পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের বোঝা হয়ে থাকতে চান না বলেও পোস্টে উল্লেখ করেন।
বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (বিপিএসসি) প্রকাশিত ৪৫তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফলাফলে মৎস্য ক্যাডারে মেধাতালিকায় ২৮তম স্থান অর্জন করে সুপারিশপ্রাপ্ত হন মনিরুজ্জামান। তবে সম্প্রতি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত চূড়ান্ত গেজেটে তার নাম নেই।
মনিরুজ্জামান বলেন, প্রিলিমিনারি, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পরও কেন তাকে চূড়ান্ত গেজেট থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, তার কোনো উত্তর তিনি জানেন না। তিনি কখনো কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না বলেও জানান।
তিনি আরও বলেন, বৈষম্যবিরোধী জুলাই অভ্যুত্থানের শুরু থেকেই সামনের সারিতে থেকে লড়াই করেছেন। যে বৈষম্যের বিরুদ্ধে তারা লড়াই করেছিলেন, এখন সেই বৈষম্যের শিকার হয়েছেন বলে মনে করছেন তিনি।
পুলিশ ভেরিফিকেশনের প্রসঙ্গ তুলে মনিরুজ্জামান বলেন, বিসিএসের প্রতিটি ধাপ পেরিয়ে চূড়ান্ত গেজেট থেকে বাদ পড়া অমানবিক। কোনো রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড বা মামলা না থাকার পরও পুলিশ ভেরিফিকেশনের কারণে কত প্রার্থীর জীবন ক্ষতিগ্রস্ত হবে, সেই প্রশ্ন তোলেন তিনি।
মন্তব্য করুন