বাংলাদেশ, বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
২৫ ভাদ্র ১৪৩৩ | সময়:
The Editors
২৫ মে ২০২৫, ৯:৫৩ অপরাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ

কর্মচারীদের আন্দোলনের মধ্যেই সরকারি চাকরি অধ্যাদেশ জারি

ডেস্ক রিপোর্ট: সচিবালয়ে কর্মচারীদের আন্দোলনের মধ্যেই ‘সরকারি চাকরি (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জারি করেছে সরকার। সোমবার সন্ধ্যায় এ অধ্যাদেশ জারি করা হয়।

এ অধ্যাদেশ অনুমোদনের প্রতিবাদে সচিবালয়ের ভেতরে রোববার দ্বিতীয় দিনের মতো বিক্ষোভ মিছিল করেন বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কর্মচারীরা। তাঁরা এই অধ্যাদেশকে ‘নিবর্তনমূলক ও কালাকানুন’ আখ্যায়িত করে তা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন। তা না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ারও ঘোষণা দিয়েছেন।

বাংলাদেশ সচিবালয় কর্মকর্তা-কর্মচারী সংযুক্ত পরিষদের ব্যানারে এই আন্দোলন হচ্ছে। গত বৃহস্পতিবার অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮ সংশোধন করে ‘সরকারি চাকরি (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ -এর খসড়া অনুমোদন দেওয়া হয়। আজ তা অধ্যাদেশ আকারে জারি করা হয়েছে।
কর্মচারীরা অভিযোগ করেছেন, সাড়ে চার দশক আগের বিশেষ বিধানের কিছু ‘নিবর্তনমূলক ধারা’ সংযোজন করে এই অধ্যাদেশ করা হয়েছে।

অধ্যাদেশে অনুযায়ী, সরকারি কর্মচারীদের (আইনানুযায়ী সবাই কর্মচারী) চারটি বিষয়কে অপরাধের আওতাভুক্ত করা হয়। সেগুলো হলো সরকারি কর্মচারী যদি এমন কোনো কাজে লিপ্ত হন, যা অনানুগত্যের শামিল বা যা অন্য যেকোনো সরকারি কর্মচারীর মধ্যে অনানুগত্য সৃষ্টি করে বা শৃঙ্খলা বিঘ্নিত করে বা কর্তব্য সম্পাদনে বাধার সৃষ্টি করে; অন্যান্য কর্মচারীর সঙ্গে সমবেতভাবে বা এককভাবে ছুটি ছাড়া বা কোনো যুক্তিসংগত কারণ ছাড়া নিজ কর্ম থেকে অনুপস্থিত থাকেন বা বিরত থাকেন বা কর্তব্য সম্পাদনে ব্যর্থ হন; অন্য যেকোনো কর্মচারীকে তাঁর কর্ম থেকে অনুপস্থিত থাকতে বা বিরত থাকতে বা তাঁর কর্তব্য পালন না করার জন্য উসকানি দেন বা প্ররোচিত করেন; এবং যেকোনো সরকারি কর্মচারীকে তাঁর কর্মে উপস্থিত হতে বা কর্তব্য সম্পাদনে বাধাগ্রস্ত করেন, তাহলে তিনি অসদাচরণের দায়ে দণ্ডিত হবেন।

এসব অপরাধের শাস্তি হিসেবে বলা হয়েছিল, দোষী কর্মচারীকে নিম্নপদ বা নিম্ন বেতন গ্রেডে নামিয়ে দেওয়া, চাকরি হতে অপসারণ বা চাকরি থেকে বরখাস্ত করার দণ্ড দেওয়া যাবে।

অধ্যাদেশে বলা হয়, অভিযোগ গঠনের সাত দিনের মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হবে। আর অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করা হলে তাঁকে কেন দণ্ড আরোপ করা হবে না, সে বিষয়ে আরও সাত কর্মদিবসের মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হবে। তার ভিত্তিতে দণ্ড আরোপ করা যাবে। এভাবে দণ্ড আরোপ করা হলে দোষী কর্মচারী ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে সেই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারবেন। তবে, রাষ্ট্রপতির দেওয়া আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে না। যদিও আদেশ পুনর্বিবেচনার জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে আবেদন করতে পারবেন।

আন্দোলনকারী কর্মচারীরা অধ্যাদেশকে সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক আখ্যায়িত করে তা প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছেন।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

সাতক্ষীরায় ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ২৩

রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রে আগুন, ৪৮ ঘণ্টা পরও স্বাভাবিক হয়নি বিদ্যুৎ-ইন্টারনেট

সরকারি চাকরিতে ভাইভার নম্বর বাড়ানোর প্রতিবাদে জবিতে বিক্ষোভ মিছিল

যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের পাল্টাপাল্টি হা/মলায় আবারও উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্য

হা/মলার ঘটনায় ইতালিতে মামলা করলেন বাঁধন

স্কোয়াডে ৭ পরিবর্তনের ব্যাখ্যা পিসিবির কাছে চাইতে বললেন বাবর

ভুলের সুযোগ নিয়ে ইন্টারকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগে রিয়ালের জয়

ইতালিতে অভিনেত্রী বাঁধনের ওপর হামলাকারী কয়েকজনের পরিচয় মিলেছে

ইরানের হাতে আটক মার্কিন সাবমেরিন

দুই দিনে ৫৮১ কোটি টাকা ফেরত নিলেন সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকরা

১০

কৃষি গুচ্ছের ভর্তি পরীক্ষা ২ জানুয়ারি

১১

দেশের যেসব অঞ্চলে বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে

১২

আমিরাতকে হারিয়ে সেমিফাইনালে বাংলাদেশ, সামনে ভারত

১৩

আশাশুনিতে ৩০ পিস ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

১৪

অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি হচ্ছে জবি ক্যাফেটেরিয়ায় খাবার, স্বাস্থ্যঝুঁকি!

১৫

তালায় পুকুরে ডুবে শিশুর মৃত্যু

১৬

জামায়াতকে ‘ইসলামী’ দল বলা যায় না: চরমোনাই পীর

১৭

শিশুর নাম পরিবর্তন করলে কি নতুন আকিকা দিতে হবে?

১৮

ভাইভার নম্বর বাড়িয়ে সরকারি চাকরিতে স্বজনপ্রীতির সুযোগ বাড়াচ্ছে সরকার

১৯

ইউনূসের পথে বর্তমান সরকার, মার্কিন স্বার্থ রক্ষা করছে: ক্বাফী রতন

২০
error: Content is protected !!