

শ্যামনগর প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার শ্যামনগরের প্যান্ডামিক ফিশারিজের মালিক ও সাবেক সচিব এ.এম. সাইদুর রহমান এবং উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল কাইয়ুম আবুর বিরুদ্ধে লিজের টাকা না দিয়ে উল্টো ১ হাজার বিঘা মৎস্যঘের দখলের পর মিথ্যা মামলা দিয়ে জমির মালিকদের হয়রানির অভিযোগ তুলেছে ভুক্তভোগীরা।
সোমবার (২১ জুলাই) বিকালে শ্যামনগর উপজেলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এই অভিযোগ করেন জমির মালিকরা।
এ সময় তারা লিখিত বক্তব্যে বলেন, আমরা ৩১২ জন ভূমি মালিক নিদারণ অসহায়ত্বের মধ্যে দিনাতিপাত করছি। সাইদুর রহমান নামের এক ব্যক্তি আমাদের স্বত্ত্ব দখলীয় পৈত্রিক সম্পত্তি থেকে বিতাড়িত করার চক্রান্ত করছে। সাবেক সচিব পরিচয়দানকারী ঐ ব্যক্তি শ্যামনগর উপজেলা ছাত্রদলের আহবায়ক আব্দুল্লাহ আল কাইয়ুম আবুর সাথে মিলে আমাদেরকে নানাভাবে হয়রানিসহ মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে জমি থেকে উচ্ছেদের অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
তাদের দাবি, শ্যামনগর উপজেলার মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের হরিনগর মৌজায় তাদের সর্বসাকুল্যে প্রায় সাড়ে তিনশ একর (এক হাজার বিঘা) জমি রয়েছে। যা ১৯৯৫ সালে কালিগঞ্জ উপজেলার বন্দকাটি গ্রামের আব্দুস সাত্তার মোড়লের অনুকূলে মংস্য চাষ করার জন্য ডিড বা ইজারা প্রদান করি। পর্যায়েক্রমে মৎস্য প্রকল্পের পাশের আরও অসংখ্য ভূমি মালিক একই ঘের মালিক (আব্দুস সাত্তারের) নিকট তাদের জমি মৎস্য চাষ করার জন্য ডিড প্রদান করে। ওই জমি গত ইং ২০২০ সালে আব্দুস সাত্তার মোড়লের নিকট থেকে সাইদুর রহমান ২০২৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত সাব-ডিড গ্রহণ করে। পরবর্তীতে ডিডের মেয়াদ শেষ হওয়ার কারণে উল্লিখিত ভূমি মালিকরা আমাদের স্বত্ত্ব দখলীয় সমুদয় ভূমি আব্দুস সাত্তারের ছেলে এ এম এম সালাউদ্দীন শাওনের নিকট পরবর্তী পাঁচ বছরের জন্য ডিড বা ইজারা প্রদান করে।
সংবাদ সম্মেলনে তারা জানান, ইতোমধ্যে সাইদুর রহমানের ডিডের মেয়াদ ৩০ জুন ২০২৫ সালে শেষ হলেও তিনি আমাদের স্বত্ত্ব দখলীয় ভূমি হস্তান্তর করছে না এবং নতুনভাবে ডিড গ্রহীতা এ এম এম সালাউদ্দীন শাওনের সেখানে প্রকল্পের কার্যক্রম সচলে বিঘ্নতা সৃষ্টি করছে। এছাড়া উপজেলা ছাত্রদলের আহবায়ক আব্দুল কাইয়ুম আবুসহ কতিপয় বিএনপি নেতাকে সামনে রেখে দখলবাজ সাইদুর রহমান আমাদের পাশাপাশি ডিড গ্রহীতা সালাউদ্দীন শাওনকে জমিতে যাওয়ার ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করছে। এছাড়া মারধরসহ নানাভাবে হয়রানি করার পাশাপাশি ইতিমধ্যে ১৬ জুলাই শ্যামনগর থানায় মাছ লুটসহ ভাঙচুরের মিথ্যা মামলা দায়ের করেছে।
সংবাদ সম্মেলনে জমির মালিকরা অতিশয় দরিদ্র এবং অসহায় পরিবারের সদস্য উল্লেখ করে বলেন, উক্ত প্রকল্পের মধ্যে আমাদের অনেকের ১০ কাঠা থেকে এক দেড় বিঘা পর্যন্ত জমির মালিকানা রয়েছে। এক্ষণে সাইদুর রহমান আমাদের জমি জবরদখল করে রাখার কারণে আমরা নুতন ডিড গ্রহীতার কাছে বিশ্বাস ভংগকারী হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার পাশাপাশি সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন হচ্ছি। এছাড়া অদূর ভবিষ্যতে আমরা আমাদের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জমির মালিকানা সত্ত্ব হারানোর শংকার মধ্যে পড়েছি।
এছাড়াও তারা জানান, উক্ত প্রকল্পের সাথে উপজেলা যুবদলের আহবায়ক শফিকুল ইসলাম দুলু কোনভাবে জড়িত না। বরং সাইদুর রহমান আমাদের জমি জবরদখল প্রক্রিয়ায় উক্ত শফিকুল ইসলাম দুলুর সাহায্য কামনা করে ব্যর্থ হয়ে এখন মিথ্যা বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। এছাড়া সামনে উপজেলা বিএনপির কমিটি পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার সময়ে তাকে বেকায়দার ফেলতে প্রতিপক্ষের ইন্ধনে সৎ এবং প্রতিযুতিশীল একজন যুবনেতার মান সম্মান ক্ষুন্নের অপচেষ্টা চালিয়ে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করছে।
এসময় অসহায় দরিদ্র জমির মালিকরা দখলবাঁজ সাইদুর ও আবু বাহিনীর কবল থেকে পৈত্রিক শেষ সম্বলটুকু উদ্ধারে আকুল আবেদন জানান।
সংবাদ সম্মেলনে জমির মালিকদের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জমির মালিক মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের হরিনগর গ্রামের গৌড়পদ ব্যাপারী।
মন্তব্য করুন