বাংলাদেশ, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬
২২ কার্তিক ১৪৩৩ | সময়:
shimulsheikh862@gmail.com
৯ এপ্রিল ২০২৬, ৮:৩৪ অপরাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ

সুপ্রিম কোর্টে বিচারক নিয়োগ ও সচিবালয় অধ্যাদেশ বাতিল

ডেস্ক রিপোর্ট: দেশে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিতের লক্ষ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারিকৃত সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগের বিধান এবং স্বতন্ত্র সচিবালয় প্রতিষ্ঠার অধ্যাদেশগুলো বাতিল করেছে জাতীয় সংসদ। বিরোধী দলের তীব্র আপত্তি সত্ত্বেও বৃহস্পতিবার (০৯ এপ্রিল) সংসদে ‘সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ (রহিতকরণ) বিল’ এবং ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (রহিতকরণ) বিল’ কণ্ঠভোটে পাস হয়।

ফলে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা এ–সংক্রান্ত তিনটি অধ্যাদেশ বাতিল হচ্ছে এবং আগের কাঠামোয় ফিরে যাচ্ছে বিচার বিভাগ। সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগের জন্য আলাদা কোনো আইন আর থাকছে না। তবে ওই অধ্যাদেশের অধীনে ইতোমধ্যে নেওয়া পদক্ষেপ, যেমন ২৫ জন বিচারকের নিয়োগ, বৈধ হিসেবে গণ্য হবে।

একই সঙ্গে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়–সংক্রান্ত অধ্যাদেশ বাতিল হওয়ায় ওই সচিবালয় বিলুপ্ত হবে। এর অধীনে থাকা বাজেট, প্রকল্প ও কর্মসূচি সরকারের আইন ও বিচার বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হবে এবং সচিবালয়ের জন্য সৃষ্ট পদগুলো বাতিল হবে। সেখানে কর্মরত বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের চাকরি পূর্বের আইনের আওতায় পরিচালিত হবে।

সংসদে পাস হওয়া বিল রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের পর আইনে পরিণত হবে এবং পরবর্তীতে গেজেট প্রকাশ করা হবে।

বিল দুটি পাসের বিরোধিতা করে বিরোধী দল এটিকে বিচার বিভাগের স্বাধীনতার ওপর ‘নগ্ন হস্তক্ষেপ’ বলে আখ্যা দেয়।

বিরোধী দলের সংসদ সদস্য নাজিবুর রহমান বলেন, এ উদ্যোগের মাধ্যমে নিম্ন আদালতকে আগের মতো রাজনৈতিকভাবে ব্যবহারের চেষ্টা করা হচ্ছে এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। তিনি বিলটি জনমত যাচাইয়ের জন্য পাঠানোর প্রস্তাবও দেন।

তিনি আরও বলেন, অতীতে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা না মানলে বিচারকদের দূরবর্তী জেলায় বদলি করা হতো, সেই পরিস্থিতি আবার ফিরিয়ে আনার আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি তিনি প্রশ্ন তোলেন, পূর্বে রাজনৈতিক দলগুলো যেখানে সচিবালয় প্রতিষ্ঠার বিষয়ে ভিন্নমত দেয়নি, সেখানে এখন কেন তা বাতিল করা হচ্ছে।

জবাবে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, সরকার বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতায় বিশ্বাসী। সুপ্রিম কোর্ট কোনো আইন অসাংবিধানিক কি না তা বলতে পারে, কিন্তু সংসদকে আইন প্রণয়নে নির্দেশ দিতে পারে না। তিনি আরও বলেন, দেশের সুপ্রিম কোর্ট বিশ্বের অন্যতম সেরা আদালত হলেও অতীতে এর স্বাধীনতার অপব্যবহার হয়েছে। বিচার বিভাগে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে সরকার ভবিষ্যতে আরও পর্যালোচনা করে আইন প্রণয়ন করবে।

বিচারক নিয়োগ বিল নিয়েও বিতর্ক

‘সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ (রহিতকরণ) বিল’ নিয়েও এদিন সংসদে আলোচনা হয়েছে। বিরোধী দলের সদস্য আখতার হোসেন বলেন, বিচারপতি নিয়োগপ্রক্রিয়াই মূল সংকট। বিদ্যমান সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতিকে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে বিচারপতি নিয়োগ দিতে হয়, যা নিয়োগে প্রভাব ফেলতে পারে।

তিনি উল্লেখ করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশে ‘সুপ্রিম জুডিশিয়াল অ্যাপয়েন্টমেন্ট কাউন্সিল’-এর মাধ্যমে যোগ্য ব্যক্তিদের বাছাইয়ের বিধান ছিল এবং এতে অসাংবিধানিক কিছু নেই বলেও আদালতের পর্যবেক্ষণ রয়েছে।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

সড়ক দুর্ঘটনায় ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত সহায়তা, আবেদন যেভাবে

১

নতুন দায়িত্বে ৬ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী

২

মাদক ইভটিজিং জুয়া ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান

৩

পঞ্চম বর্ষে পদার্পণ অনুষ্ঠানে প্রত্যাশা: বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতায় এগিয়ে যাক হৃদয় বার্তা

৪

এনসিপিতে যোগ দিতে যাওয়া ফারজানা আমার স্ত্রী নন: রনি

৫

‘ডিসেম্বরেই মালয়েশিয়ায় বিনা খরচে কর্মী পাঠানোর ফ্লাইট শুরু’

৬

ডা. এম আর খানের ১০ম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

৭

৭ নভেম্বর দেশের সব পোশাক কারখানায় সাধারণ ছুটি

৮

ঢাবিতে ভর্তি আবেদন শুরু ১১ নভেম্বর

৯

সাংবাদিকদের সঙ্গে কুশুলিয়ার জামায়াত মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী সিরাজুলের মতবিনিময়

১০

ভারতীয় ভিসা আবেদনে নতুন নির্দেশনা

১১

কালিগঞ্জে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস সিজন-২ উদ্বোধন

১২

চুলে নজরকাড়া সাজ, পূর্ণিমা যেন অষ্টাদশী তরুণী!

১৩

৭ নভেম্বরকে সামনে রেখে কালিগঞ্জে কৃষকদলের প্রস্তুতি সভা

১৪

পারুলিয়ায় শিশু পাচার ও শোষণ প্রতিরোধে সভা

১৫

আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নিরাপত্তায় সামরিক সহযোগিতা জোরদারে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গীকার

১৬

এনসিপি ছাড়লেন সামান্তা শারমিন

১৭

২৪ সিনেমার ১৯টিতে ফ্লপ পরীমনি, ৫টিতে গড়পড়তা

১৮

সাংবাদিকের ফোন কেড়েছেন, ট্রাইপড ভেঙেছেন পরীমনি

১৯

অতিরিক্ত সময়ে ২ গোল হজম করেও পাকিস্তানকে হারাল ভারত

২০