
শ্যামনগর প্রতিনিধি: ছেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল ৮৫ বছর বয়সী মাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার। বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর প্রতিবাদ জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ছেলে মো. আব্দুল মোমিন। তাঁর দাবি, মাকে তিনি বা তাঁর স্ত্রী কখনো বাড়ি থেকে বের করে দেননি। পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে তাঁদের বিরুদ্ধে ওই অভিযোগ তোলা হয়েছে।
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার ভূরুলিয়া ইউনিয়নের সিরাজপুর গ্রামের ঘটনা এটি। রোববার (৯ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আব্দুল মোমিন এসব দাবি করেন।
আব্দুল মোমিন বলেন, সম্প্রতি তাঁর ও তাঁর স্ত্রী আম্বিয়া বেগমের বিরুদ্ধে একটি গণমাধ্যমে তাঁর ৮৫ বছর বয়সী মাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগে সংবাদ প্রকাশিত হয়। তিনি ওই অভিযোগকে ‘মিথ্যা ও বানোয়াট’ দাবি করে এর প্রতিবাদ জানান। একই সঙ্গে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি করেন তিনি।
আব্দুল মোমিন বলেন, আমি ও আমার স্ত্রী কখনো আমার মাকে অত্যাচার করিনি বা বাড়ি থেকে বের করে দেইনি। আমার মা আমার সংসারে থাকেন না। আমাদের বক্তব্য না নিয়ে এমন একটি স্পর্শকাতর বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ করায় আমরা সামাজিকভাবে হেয় হয়েছি।
সংবাদ সম্মেলনে আব্দুল মোমিন দাবি করেন, তাঁদের পরিবারে দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলছে। তাঁর ছোট ভাই আব্দুল মালেকের সঙ্গে তাঁর নিলামে কেনা একটি জমি নিয়ে বিরোধ রয়েছে। এই বিরোধের জেরেই তাঁর মাকে ভুল বুঝিয়ে তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করানো হয়েছে বলে দাবি তাঁর।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, তাঁর মায়ের বাবার বাড়ির সম্পত্তি নিয়েও পারিবারিক বিরোধ রয়েছে। ওই সম্পত্তি থেকে তাঁর মাকে বঞ্চিত করার চেষ্টা এবং একই সঙ্গে তাঁকে ও তাঁর পরিবারকে হয়রানি করার উদ্দেশ্যেই তাঁদের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ ও সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
আব্দুল মোমিন তাঁর ছোট ভাই আব্দুল মালেকের পক্ষ নিয়ে কয়েকজন ব্যক্তি ভূমিকা রাখছেন বলেও অভিযোগ করেন। এ ক্ষেত্রে মো. ইদ্রিস আলীর নাম উল্লেখ করেন তিনি।
আব্দুল মোমিন বলেন, একজন ৮৫ বছর বয়সী মাকে ঘিরে এমন অভিযোগ অত্যন্ত স্পর্শকাতর। প্রকৃত ঘটনা যাচাই না করে কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রকাশ করা হলে সংশ্লিষ্ট পরিবার সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আমরা চাই, বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হোক। প্রকৃত ঘটনা সবার সামনে আসুক।
বৃদ্ধ মাকে ঘিরে ওঠা অভিযোগের বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকেও দেখার দাবি জানান তিনি। তাঁর ভাষ্য, পারিবারিক বিরোধ বা সম্পত্তির প্রশ্ন থাকলেও একজন প্রবীণ নারীর নিরাপত্তা, মর্যাদা ও অধিকার নিশ্চিত হওয়া জরুরি।
আব্দুল মোমিনের দাবি, তাঁরা কারও বিরুদ্ধে প্রতিহিংসামূলক প্রচারণা চান না; বরং প্রকৃত ঘটনা তদন্তের মাধ্যমে সামনে আসুক। তাঁর ভাষায়, আমরা শুধু চাই, সত্যিটা প্রকাশ হোক এবং আমার বৃদ্ধ মায়ের বিষয়টি নিয়ে আর কোনো ভুল বোঝাবুঝি তৈরি না হোক।
মন্তব্য করুন