বাংলাদেশ, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬
২২ কার্তিক ১৪৩৩ | সময়:
The Editors
১০ আগস্ট ২০২৬, ৪:১১ অপরাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ

চাঁদাবাজির মামলায় হাজী নজরুল ও তার সহযোগী কারাগারে

ডেস্ক রিপোর্ট: জাইকার অর্থায়নে বেড়িবাঁধ নির্মাণ প্রকল্পে চাঁদাবাজি, হামলা ও কাজ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগে দায়েরকৃত মামলায় সাতক্ষীরার শ্যামনগরের জামায়াত নেতা ও বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী মো. নজরুল ইসলাম এবং তার সহযোগী বিশ্বজিৎ মণ্ডলকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।

সোমবার (১০ আগস্ট) সাতক্ষীরা আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন জানালে শুনানি শেষে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাইদুর রহমান তাদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এর আগে উচ্চ আদালত থেকে হাজী মো. নজরুল ইসলাম ও তার সহযোগী ছয় সপ্তাহের জামিনে ছিলেন। জামিনের মেয়াদ শেষে সোমবার তারা সাতক্ষীরার আদালতে হাজির হয়ে পুনরায় জামিনের আবেদন করেছিলেন।

প্রসঙ্গত, গত ২৫ মে রাতে শ্যামনগর থানায় জাইকার অর্থায়নে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ প্রকল্পে চাঁদাবাজি, হামলা ও কাজ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগে মামলাটি করেন প্রকল্প বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান আর-রাদ করপোরেশনের আইন কর্মকর্তা মো. জালাল উদ্দিন।

মামলায় প্রধান আসামি করা হয় বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও শ্যামনগর উপজেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ ও শুরা সদস্য হাজী মো. নজরুল ইসলামকে। মামলায় তার ছেলে আব্দুর রহমান, স্থানীয় বিশ্বজিৎ মণ্ডলসহ আরও কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়। অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করা হয়।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, শ্যামনগরের পূর্ব দুর্গাবাটি এলাকায় জাইকার অর্থায়নে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বেড়িবাঁধ নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করছে ডিএল-উন্নয়ন (জেভি) ও ডকইয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস লিমিটেডের পক্ষে আর-রাদ করপোরেশন। অভিযোগ করা হয়, গত বছরের আগস্ট থেকে প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে চাঁদা দাবি এবং কাজ বন্ধের জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছিল।

এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়, চাঁদা না দেওয়ায় গত ১৪ এপ্রিল থেকে প্রকল্পের কাজ কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। পরে গত ১৯ মে রাতে প্রকল্প এলাকায় গিয়ে হাজী নজরুল ইসলাম ১৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন এবং কাজ চালিয়ে গেলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হত্যার হুমকি দেন।

এরপর ২৩ মে দুপুরে হাজী নজরুল ইসলাম, তার ছেলে আব্দুর রহমানসহ কয়েকজন প্রকল্প এলাকায় গিয়ে প্রকৌশলী জাহিদ হাসানকে মারধর করেন। তাকে বাধা দিতে গেলে কিউরিং ম্যান ফেরদৌসকেও মারধর করা হয়। এ সময় প্রকৌশলী জাহিদের একটি অ্যাপল স্মার্টওয়াচ ও মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

মামলার বাদীর দাবি, পুরো ঘটনা প্রকল্প এলাকার সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ হয়েছে। হামলায় আহত জাহিদ হাসান ও ফেরদৌসকে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

তবে শুরু থেকেই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন হাজী মো. নজরুল ইসলাম। তার দাবি, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। হামলার অভিযোগের সময় তিনি ইউনিয়ন পরিষদের বাজেট অধিবেশনে ছিলেন বলেও দাবি করেন তিনি।

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, বর্ষার আগে বাঁধ নির্মাণকাজ শেষ করা না গেলে উপকূলীয় বিস্তীর্ণ এলাকা ঝুঁকিতে পড়তে পারে। এ কারণে প্রকল্পটি নির্বিঘ্নে বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী পবিত্র কুমার তাদের জামিন না’মঞ্জুরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

সড়ক দুর্ঘটনায় ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত সহায়তা, আবেদন যেভাবে

১

নতুন দায়িত্বে ৬ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী

২

মাদক ইভটিজিং জুয়া ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান

৩

পঞ্চম বর্ষে পদার্পণ অনুষ্ঠানে প্রত্যাশা: বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতায় এগিয়ে যাক হৃদয় বার্তা

৪

এনসিপিতে যোগ দিতে যাওয়া ফারজানা আমার স্ত্রী নন: রনি

৫

‘ডিসেম্বরেই মালয়েশিয়ায় বিনা খরচে কর্মী পাঠানোর ফ্লাইট শুরু’

৬

ডা. এম আর খানের ১০ম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

৭

৭ নভেম্বর দেশের সব পোশাক কারখানায় সাধারণ ছুটি

৮

ঢাবিতে ভর্তি আবেদন শুরু ১১ নভেম্বর

৯

সাংবাদিকদের সঙ্গে কুশুলিয়ার জামায়াত মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী সিরাজুলের মতবিনিময়

১০

ভারতীয় ভিসা আবেদনে নতুন নির্দেশনা

১১

কালিগঞ্জে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস সিজন-২ উদ্বোধন

১২

চুলে নজরকাড়া সাজ, পূর্ণিমা যেন অষ্টাদশী তরুণী!

১৩

৭ নভেম্বরকে সামনে রেখে কালিগঞ্জে কৃষকদলের প্রস্তুতি সভা

১৪

পারুলিয়ায় শিশু পাচার ও শোষণ প্রতিরোধে সভা

১৫

আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নিরাপত্তায় সামরিক সহযোগিতা জোরদারে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গীকার

১৬

এনসিপি ছাড়লেন সামান্তা শারমিন

১৭

২৪ সিনেমার ১৯টিতে ফ্লপ পরীমনি, ৫টিতে গড়পড়তা

১৮

সাংবাদিকের ফোন কেড়েছেন, ট্রাইপড ভেঙেছেন পরীমনি

১৯

অতিরিক্ত সময়ে ২ গোল হজম করেও পাকিস্তানকে হারাল ভারত

২০