
ডেস্ক রিপোর্ট: ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ইউরোপে অবৈধভাবে প্রবেশের ঘটনা কমেছে। তবে এই পথে আসা অবৈধ অভিবাসীদের মধ্যে শীর্ষে রয়েছেন বাংলাদেশিরা।
ইউরোপীয় সীমান্ত ও উপকূলরক্ষী সংস্থা ফ্রন্টেক্সের অক্টোবর মাসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম ৯ মাসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সীমান্তে অবৈধ প্রবেশের ঘটনা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কমেছে। এ সময়ে ৯১ হাজারের বেশি অভিবাসীর অবৈধভাবে ইউরোপে প্রবেশের ঘটনা শনাক্ত করা হয়েছে।
ফ্রন্টেক্সের প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভূমধ্যসাগরের পূর্ব ও মধ্যাঞ্চল দিয়ে ইউরোপের ইতালি ও গ্রিসে সবচেয়ে বেশি অভিবাসী প্রবেশ করেন। এ দুই পথে ছোট ছোট নৌকায় করে মোট অবৈধ অভিবাসীর ৬০ শতাংশ প্রবেশ করেন, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি।
ফ্রন্টেক্সের মতে, পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় পথে চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে প্রায় ৩১ হাজার ৮০০ জনের অবৈধ প্রবেশ শনাক্ত হয়েছে। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় এ সংখ্যা ১৫ শতাংশ কম।
এ পথে শনাক্ত হওয়া মানুষের মধ্যে সুদানি, বাংলাদেশি ও আফগান নাগরিকেরা সবচেয়ে বেশি। এ পথ দিয়ে লিবিয়া থেকে গ্রিসের ক্রিট দ্বীপে যাওয়া হয়। এ ছাড়া তুরস্কের সঙ্গে স্থলসীমান্ত দিয়েও অনেকে ইউরোপে প্রবেশের চেষ্টা করেন। সেপ্টেম্বরে এ পথে প্রায় ৪ হাজার ৮০০ জনের অবৈধ প্রবেশের ঘটনা শনাক্ত হয়েছে।
ফ্রন্টেক্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মধ্য ভূমধ্যসাগরীয় পথে প্রথম নয় মাসে প্রায় ২২ হাজার ৫০০ জনের অবৈধ প্রবেশের ঘটনা শনাক্ত হয়েছে। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় এ সংখ্যা ৫৬ শতাংশ কম। এ পথে আসা মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রয়েছেন বাংলাদেশি, আলজেরীয় ও সোমালি নাগরিক। এ পথে সাধারণত লিবিয়া থেকে অভিবাসীরা যাত্রা শুরু করেন। এ সমুদ্রপথে আসা মানুষের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ লিবিয়া থেকে যাত্রা করলেও তিউনিসিয়া ও আলজেরিয়া থেকেও অনেকে সমুদ্রপথে ইউরোপের উদ্দেশে যাত্রা করেন।
ফ্রন্টেক্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউরোপে অবৈধ প্রবেশের ঘটনা কমলেও সমুদ্রপথে প্রাণহানির ঝুঁকি আগের মতোই রয়েছে। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ভূমধ্যসাগরে প্রায় ২ হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মানবপাচারকারী চক্রগুলো অভিবাসীদের অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই ও চলাচলের অনুপযোগী নৌকায় তুলে দেয়। ফলে সমুদ্রযাত্রায় তাদের জীবন ঝুঁকির মুখে পড়ে। অনুকূল আবহাওয়ার অপেক্ষায় থেকে এসব চক্র সুযোগ বুঝে অভিবাসীদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ টাকাও হাতিয়ে নেয়।
ফ্রন্টেক্সের নির্বাহী পরিচালক হ্যান্স লেইটেনস বলেন, ইউরোপে প্রবেশের অধিকাংশ অবৈধ চেষ্টা কমেছে। তবে পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যেতে পারে। মানবপাচারকারী চক্রগুলোর কার্যক্রম কমে গেলেও তারা তা বন্ধ করে না, বরং নতুন সুযোগের অপেক্ষায় থাকে।
২০২৬ সালের মাঝামাঝি থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নে নতুন অভিবাসন ও আশ্রয় চুক্তি কার্যকর হয়েছে। এ চুক্তিতে ইইউর সীমান্তে অবৈধভাবে প্রবেশকারীদের যাচাইয়ের জন্য একক ও মানসম্মত প্রক্রিয়া চালু করা হয়েছে। এতে আগত ব্যক্তিদের জাতীয়তা নির্ধারণ, বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহ এবং পরিচয়পত্র যাচাই করা হয়। এসব কাজে সদস্যদেশগুলোকে সহায়তা করছেন ফ্রন্টেক্সের কর্মকর্তারা।
পরিচয় যাচাইয়ের পর ইউরোপে যাদের আশ্রয়ের আবেদন বাতিল হবে, তাদের নিজ নিজ দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। এই আইনের আওতায় গত কয়েক দিনে প্রায় ৫৪ বাংলাদেশিকে গ্রিস ও ইতালি থেকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

মন্তব্য করুন