
সুলতান শাহাজান: অর্থাভাবে চিকিৎসা থেমে গেছে জটিল কিডনি রোগে আক্রান্ত সাত বছরের শিশু মিম সুলতানার। সহপাঠীরা যখন বই খাতা নিয়ে স্কুলে যেতে ব্যস্ত তখন মিম ঘরবন্দী অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে শারীরিক অসুস্থতায়। প্রতিবেশী আর পরিবারের সমবয়সীরা যখন খেলাধূলায় মত্ত সেই সময়ে তাকে শুয়ে কাটাতে হচ্ছে প্রতিটা ক্ষণ।
এদিকে শারীরিকভাবে কর্মক্ষমতা হারানো পিতার সামর্থ্য নেই কন্যার ব্যয়বহুল চিকিৎসা করানোর। তাই মেয়ের চিকিৎসার টাকা যোগাড়ে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন কর্মক্ষমতা হারানো বাবা মাসুদ রানা মিঠুন। পরিবারে যেখানে নুন আনতে পান্তা ফুরানোর অবস্থা, সেখানে মেয়ের ব্যয়বহুল চিকিৎসা করানোর সামর্থ্য নেই পরিবারটির। পৈত্রিকসূত্রে প্রাপ্ত বসবাসের দুই কাঠা জমি বিক্রি করতে হলে রাস্তা ছাড়া মাথা গোঁজারও ঠাই মিলবে না তাদের।
এমতাবস্থায় দিনে দিনে শারীরিক পরিস্থিতি জটিল পর্যায়ে চলে যাচ্ছে প্রথম শ্রেণীর ছাত্রী মিম সুলতানার। অসহায় আর অপলক দৃষ্টিতে পিতা-মাতার মত সে-ও তাকিয়ে আছে সহায়তার আশায়। স্বপ্ন দেখছে সমাজের বিত্তবান আর মহানুভবতা সম্পন্ন ব্যক্তিদের সাহায্যে অন্য শিশুদের মত স্বাভাবিক জীবনে ফেরার।
মিম সুলতানা সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর ইউনিয়নের শিরশা মোড়লবাড়ি এলাকার মাসুদ রানা মিঠুন ও সেলিনা সুলতানা দম্পতির দুই মেয়ের মধ্যে বড়। সে স্থানীয় ৮৩নং নাকনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণীর ছাত্রী।
জানা যায়, দুই মাস আগে হঠাৎ মিমের চোখ-মুখ ফুলে যায়। শুরুতে স্থানীয় চিকিৎসকের পরামর্শে ঔষধ গ্রহণের পর স্বল্প সময়ের জন্য ভাল হয়ে যায়। পরবর্তীতে আবারও একই অবস্থা হলে তাকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও সাতক্ষীরা হার্ট ফাউন্ডেশনে নেয়া হয়। প্রথমে ডা. অসীম কুমার এবং পরবর্তীতে ডা. ফয়সাল আহমেদ জানান জটিল কিডনী রোগে আক্রান্ত মিম। তাকে সুস্থ করতে হলে দামী ইনজেকশনসহ ব্যয়বহুল চিকিৎসা আশু প্রয়োজন। অন্যথা পরবর্তীতে দু’টি কিডনীই বিকল হয়ে যাওয়ার আশংকা রয়েছে।
মিমের পিতা মাসুদ রানা মিঠুন জানান, চিকিৎসকরা সাত হাজার টাকা দামের একাধিক ইনজেকশন ব্যবহারের কথা বলেছে। কিন্তু আর্থিক সমস্যা থাকায় দু’টির বেশী পারেননি। শারীরিক অক্ষমতার কারণে নিজে পিতার উপর নির্ভরশীল জানিয়ে মিঠুন আরও বলেন, আবারও ভাল হয়ে যাবে কিনা- মিমের এমন প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেন না তিনি। দুই মেয়ের মধ্যে বড় মিমের চিকিৎসায় তিনি সমাজের বিত্তবানদের সাহায্য প্রার্থনা করেন। মিমের বাবা মাসুদ রানার বিকাশ নাম্বার ০১৩৩৬-১২৮১৬৯।
মিমের মা সেলিনা সুলতানা জানান, কোন রকমে দিনমজুরের কাজ করে সংসার চালাতে হয়। বিপরীতে সন্তানের চিকিৎসা খরচ যোগাতে তারা খাচ্ছেন হিমশিম। ইতোমধ্যে মানুষের সাহায্য নিয়ে ডাক্তার দেখানোসহ দু’টি ইনজেকশন দিতে পারলেও কোনভাবে আর এগুতে পারছে না। দয়াশীল মানুষের সাহায্য নিয়ে সন্তানকে সুস্থ করে আবারও তার বিদ্যালয়ে পাঠাতে চান অহসায় ঐ গৃহবধূ।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আবু দাউদ ঢালী বলেন, পরিবারটির আর্থিক অবস্থা বলতে কিছুই নেই। তাদের দেয়া সাহায্য নিয়ে এতদিন ডাক্তার দেখানোসহ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করিয়েছে। তবে ব্যয়বহুল চিকিৎসার জন্য তার অসহায় পিতা মাতা এখন মানুষের মুখের দিকে তাকিয়ে আছে।
মন্তব্য করুন