বাংলাদেশ, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৯ আশ্বিন ১৪৩৩ | সময়:
The Editors
৫ নভেম্বর ২০২৫, ১১:৫৩ পূর্বাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ

বারোমাসি জামরুল চাষে সেলিম সরদারের নজরকাড়া সাফল্য

জি. এম. মিন্টু, কেশবপুর (যশোর): কেশবপুর উপজেলার চুয়াডাঙ্গা গ্রামের কৃষক সেলিম সরদার। মেধা আর সাহসী ভাবনার সমন্বয়ে তিনি দেখিয়ে দিয়েছেন কৃষি শুধু পেশা নয়, সৃজনশীলতারও এক বিশাল ক্ষেত্র। অসময়ে বারোমাসি জামরুল চাষ করে তিনি যেন গ্রামবাংলার কৃষির ক্যানভাসে এঁকেছেন নতুন এক সম্ভাবনার চিত্র।

সেলিম সরদারের পিতা নওয়াব আলী সরদার কৃষিতেই নিবেদিত ছিলেন। সেই প্রেরণা থেকেই ২০১১ সালে সেলিম ৫ বিঘা জমিতে গড়ে তোলেন নিজস্ব নার্সারি। সূর্য্য ডিম ও কাটিমন আম, লিচু, কাঁঠাল, মাল্টা, কলা, সিডলেস লেবুসহ শতাধিক জাতের ফলের চারা উৎপাদন করছেন তিনি। যা চলে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন জেলায়। ধীরে ধীরে শুধু অর্থনৈতিক সাফল্য নয়, তিনি হয়েছেন স্বাবলম্বী, হয়েছেন অন্য কৃষকদের অনুপ্রেরণার উৎস।

সম্প্রতি আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে তার বারোমাসি জামরুল। যা ঋতুর নিয়ম মানে না বছরজুড়েই ফল দেয়। গাছে ঝুলে থাকা উজ্জ্বল সবুজ-হালকা সাদাটে জামরুলে যেন প্রকৃতির মিষ্টি হাসি। এই ফল বাইরে থেকে যতটা টসটসে, ভেতরে তার স্বাদ ঠিক ততটাই চিনি মেশানো সরবতের মতো মিষ্টি। ফলটি খেয়ে অনেকেই অবাক! স্থানীয় বাসিন্দা হযরত আলী বলেন, জামরুল এত মিষ্টি হতে পারে, এটা তো জানতামই না!

মংগলকোট গ্রামের ভ্যানচালক ডবলু বলেন, একদিন চারা নিতে এসে জামরুলের প্রথমবার স্বাদ গ্রহণ করি। সেলিমের বারোমাসি জামরুল আসলে অনেক মিষ্টি। পরিতৃৃপ্তির হাসি ছড়িয়ে তিনি বলেন, আমি জীবনে এত মিষ্টি জামরুল খাইনি। মনে হলো যেন ফলের ভেতরে চিনি গলে আছে! শুধু আশপাশের মানুষ নয়, দূর-দূরান্ত থেকেও মানুষ ছুটে আসছেন এই ফল দেখতে, স্বাদ নিতে এবং সংগ্রহ করতে। প্রতি কেজি ২০০-২৫০ টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে তার জামরুল, তবুও চাহিদা এত বেশি যে অনেক সময় ফল না পাকায় অপেক্ষা করতে হয় ক্রেতাদের।

কেশবপুরের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা কিশোর কুমার দাস বলেন, সেলিম সরদারের এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। বারোমাসি ফলের উৎপাদন শুধু কৃষকের আয় বাড়ায় না, দেশে ফলের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতেও ভূমিকা রাখে। তার ক্ষেতে যে মানের জামরুল হচ্ছে, তা দেশের অন্যান্য জেলাতেও ছড়িয়ে দেওয়া গেলে কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।

তিনি আরও জানান, বিশেষভাবে পরিচর্যা ও নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে কলম করে তৈরি করা এই বারোমাসি জাতের ফলন নিয়মিত হয়। আবহাওয়া উপযোগী হলে একই গাছ থেকে বছরে তিন থেকে চারবারও ফল তোলা সম্ভব।

সেলিম সরদার বলেন, আমি শুধু নিজে গাছ লাগাই না, চাই অন্যরাও লাগাক। চারা দিয়ে দিলে ফল হবে, কিন্তু যতœ না নিলে ফল মিষ্টি হবে না। গাছকে নিজের সন্তানের মতো দেখলেই সে আপনাকে মিষ্টি ফল দিয়ে প্রতিদান দেবে।

সেলিম এখন শুধু একজন কৃষক নন, একজন পরামর্শদাতা এবং কৃষি-উদ্যোক্তা হিসেবেও পরিচিত।

সেলিম সরদারের বারোমাসি জামরুল এখন কেশবপুরের কৃৃষি-আলাপের কেন্দ্রে। এক যুগ আগে যে মানুষটি সামান্য জমি নিয়ে স্বপ্ন দেখেছিলেন, আজ তিনি দাঁড়িয়ে আছেন স্বনির্ভরতার এক জীবন্ত দৃষ্টান্ত হয়ে। নতুন প্রজন্মের কৃষকরা তাকে দেখেই শিখছেন। কৃষিকে ভালোবেসে, বিজ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে, সঠিক পরিকল্পনায় এগোলে গ্রামও হতে পারে সাফল্যের রাজধানী।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

একই জায়গায় আটকে থাকতে চাই না

চলন্ত স্লিপার বাসে আগুন, ঘুমের মধ্যেই পুড়ে মরল ৯ যাত্রী

বোয়িংয়ের সঙ্গে আরও ১১টি নতুন বিমান কেনার চুক্তি

এশিয়ান গেমসে শ্রীলঙ্কাকে ৫-১ গোলে উড়িয়ে দিল বাংলাদেশ

বিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ বিশ্ব গড়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

দুপুরের মধ্যে ১১ অঞ্চলে বজ্রবৃষ্টির আভাস

আশাশুনির নয়াবাদে স্বামীর নির্মম নির্যাতনে হাসপাতালে স্ত্রী

কালিগঞ্জ সিনিয়র সিটিজেন ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সভা

কালিগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ভূমি অফিস পরিদর্শনে এমপি রবিউল বাশার

ভারত থেকে ইলিশ আমদানি বন্ধ

১০

পাইকগাছায় কৃষকদলের বিক্ষোভ মিছিল

১১

কালিগঞ্জে যুবদলের আনন্দ মিছিল

১২

চাঁদা না পেয়ে নির্মাণাধীন বাড়ি ভাঙচুর ও মারপিটের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

১৩

সাতক্ষীরায় এবি পার্টির কমিটি গঠন: আহ্বায়ক শাকিল, সদস্য সচিব শাহীন

১৪

সাতক্ষীরা জেলা শহীদ জিয়া স্মৃতি সংসদের কমিটি গঠন: সভাপতি রাসেল, সম্পাদক গাজী বাবু

১৫

গাছের ডালে ঝুলছিল ১১ ফুটের অজগর, উদ্ধারের পর সুন্দরবনে অবমুক্ত

১৬

৬ লাখ মানুষের জলাবদ্ধতা নিরসনে টিআরএম চান সাতক্ষীরার যুবরা

১৭

দেশকে অস্থিতিশীল করার প্রতিবাদে সাতক্ষীরায় স্বেচ্ছাসেবক দলের বিক্ষোভ মিছিল

১৮

সাতক্ষীরায় মানবাধিকার সাংবাদিক নেটওয়ার্ক’র সভা

১৯

দেবহাটায় যুবদলের আনন্দ মিছিল

২০