
শ্যামনগর প্রতিনিধি: সুন্দরবন থেকে অপহরণের দুই দিন পর দাবিকৃত মুক্তিপণের টাকা পরিশোধ করে বাড়ি ফিরেছেন আট জেলে।
মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) দুপুরে তাঁরা লোকালয়ে ফেরেন। এর আগে সোমবার বিকাশের মাধ্যমে ২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দেওয়ার পর বনদস্যুরা তাঁদের মুক্তি দেয়।
ফিরে আসা জেলেরা হলেন, সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার দক্ষিণ কদমতলা গ্রামের আব্দুল আজিজ (৫০), আনারুল ইসলাম (২২), ইব্রাহিম হোসেন (৪৫), নাজমুল হোসেন (৩৪), আনোয়ার হোসেন (৩২) ও শামীম হোসেন (৩৬), আবুল কাশেম (৩৬) ও হরিনগরের জেলেপাড়ার মজিবুল ইসলাম (৩৫)।
এর আগে গত রোববার ভোরে সুন্দরবন সাতক্ষীরা রেঞ্জের মালঞ্চ নদীসংলগ্ন হাঁসখালী, চেলাকাটা ও হেতালবুনে খালে কাঁকড়া শিকার করার সময় বনদস্যু ডন বাহিনীর পরিচয়ে তিনটি নৌকায় ৯-১০ জন অস্ত্রধারী তাদেরকে ঘিরে ধরে। পরে প্রতি নৌকা থেকে একজন করে উঠিয়ে নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি জনপ্রতি ৪০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়।
ফিরে আসা জেলে দক্ষিণ কদমতলা গ্রামের আনারুল ইসলাম বলেন, গত ২ ডিসেম্বর কদমতলা বন অফিস থেকে পাস নিয়ে তাঁরা কাঁকড়া শিকার করতে সুন্দরবনে যান। রোববার ভোরে সুন্দরবন সাতক্ষীরা রেঞ্জের মালঞ্চ নদীসংলগ্ন হাঁসখালী খালে কাঁকড়া ধরার সময় সশস্ত্র একদল বনদস্যু তাকেসহ পাশে থাকা আরো দুইটি নৌকা থেকে কয়েকজনকে অপহরণ করে।
একই গ্রামের জেলে নাজমুল হোসেন জানান, অপহরণের পর তাঁদের পশ্চিম সুন্দরবনের শেষভাগের কুঞ্চির খাল এলাকায় একটি নৌকায় আটকে রাখা হয়। তিনি বলেন, প্রথমে মাথাপিছু ৪০ হাজার টাকা দাবি করে দস্যুরা। অনেক কাকুতি–মিনতির পর মাথাপিছু ২৫ হাজার টাকায় রাজি হয় তারা। সোমবার (৮ ডিসেম্বর) বিকাশে টাকা পাঠানোর পর রাতে তাঁদের একটি নৌকায় তুলে দেয়া হয়। মঙ্গলবার দুপুরে তাঁরা লোকালয়ে ফেরেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে অপহৃত জেলেদের কয়েকজন বলেন, নয় সদস্যের ওই দস্যু দল নিজেদের ‘ডন বাহিনী’ পরিচয় দেয়। তাদের কাছে আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র ছিল। তবে বাহিনী প্রধানের বাড়ি খুলনা হলেও তার দলে কয়েকজন সদস্য স্থানীয় বলে উল্লেখ করেন তারা। এরমধ্যে শ্যামনগর উপজেলার মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের আটিরউপর গ্রামের বেলায়েত মল্লিকের ছেলে শাহাজান মল্লিক ও একই গ্রামের মৃত আফাজ উদ্দিনের ছেলে শফিকুল ইসলাম ওরফে ভেটে শফিকুল রয়েছে।

মন্তব্য করুন