বাংলাদেশ, মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬
৩ ভাদ্র ১৪৩৩ | সময়:
The Editors
৩ মে ২০২৬, ৪:০৫ অপরাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ

কালবৈশাখীর ঝড়ে উপড়ে গেল মধুকবির স্মৃতিবিজড়িত আড়াইশ’ বছরের বটবৃক্ষ

 

জি. এম. মিন্টু, কেশবপুর (যশোর): কালবৈশাখী ঝড়ে যশোরের কেশবপুর উপজেলার সাগরদাঁড়িতে মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের স্মৃতিবিজড়িত প্রায় আড়াইশ’ বছরের প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী বটবৃক্ষটি উপড়ে পড়েছে।

শনিবার দুপুরে আকস্মিক ঝড়ো হাওয়ার তান্ডবে কপোতাক্ষ নদের তীরঘেঁষা জেলেপাড়ায় অবস্থিত ঐতিহাসিক এ বৃক্ষটির পতনে পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোক ও বিষাদের ছায়া।

স্থানীয়দের কাছে এটি শুধু একটি গাছ ছিল না, ছিল বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, সাগরদাঁড়ির ঐতিহ্য এবং মহাকবির শৈশবস্মৃতির এক জীবন্ত সাক্ষী।

স্থানীয় সূত্র জানায়, শনিবার দুপুরের দিকে হঠাৎ করে আকাশ কালো হয়ে প্রবল বেগে কালবৈশাখী ঝড় শুরু হয়। ঝড়ের তীব্রতা বাড়তে থাকলে একপর্যায়ে বিকট শব্দে উপড়ে পড়ে বিশালাকৃতির বটবৃক্ষটি। খবর ছড়িয়ে পড়লে শত শত মানুষ ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। অনেকেই গাছটির পতন দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

সাগরদাঁড়ি ইউনিয়নের প্রবীণ বাসিন্দা শ্যামল মন্ডল বলেন, ছোটবেলা থেকে এই গাছটিকে দেখে আসছি। আমাদের পূর্বপুরুষরাও এটিকে মহাকবির স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে দেখতেন। আজ গাছটি পড়ে যাওয়ায় মনে হচ্ছে ইতিহাসের একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটলো। স্থানীয় বাসিন্দা পূজা রানী দাস বলেন, এই বটগাছের নিচে প্রতিবছর পূজা-অর্চনা হতো। গ্রামের মানুষের কাছে এটি ছিল পবিত্র স্থান। গাছটি পড়ে যাওয়ায় আমরা খুবই মর্মাহত।

জানা যায়, মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের পৈতৃক ভিটা থেকে প্রায় ৫০০ মিটার পূর্বদিকে কপোতাক্ষ নদের তীরে প্রায় ২০ শতক জায়গাজুড়ে বিস্তৃত ছিল বটবৃক্ষটি। ধারণা করা হয়, বৃক্ষটির বয়স আড়াইশ’ বছরেরও বেশি। কবির শৈশবের নানা স্মৃতির সঙ্গে এই গাছটি জড়িয়ে ছিল।

সাহিত্যবোদ্ধাদের মতে, মধুসূদন দত্ত তাঁর বিখ্যাত ‘বটবৃক্ষ’ কবিতাটি এ গাছকে কেন্দ্র করেই রচনা করেছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে সাগরদাঁড়িতে আগত দর্শনার্থী ও পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ ছিল এই বটবৃক্ষ। কবির স্মৃতিবিজড়িত স্থান পরিদর্শনের পাশাপাশি অনেকে গাছটির ছায়াতলে বসে সময় কাটাতেন। এটি ছিল সাগরদাঁড়ির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

স্থানীয় শিক্ষক আব্দুল কাদের বলেন, এটি শুধু একটি গাছ নয়, আমাদের সাহিত্য-সংস্কৃতির উত্তরাধিকার। যথাযথ সংরক্ষণ উদ্যোগ থাকলে হয়তো এমন পরিণতি এড়ানো যেত। এখন প্রয়োজন এই স্থানটিকে স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে সংরক্ষণ করা। এ ঘটনায় এলাকাবাসী বটবৃক্ষটির অবশিষ্টাংশ সংরক্ষণ এবং সেখানে মহাকবির স্মৃতিফলক স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, উপড়ে পড়লেও এই বৃক্ষের ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিন্দুমাত্র কমেনি। বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে এর ইতিহাস তুলে ধরতে এখনই উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

মধুকবির স্মৃতিবিজড়িত এই প্রাচীন বটবৃক্ষের পতন যেন প্রকৃতির নির্মমতায় হারিয়ে যাওয়া এক জীবন্ত ইতিহাসের প্রতীক। সাগরদাঁড়ির আকাশে আজ তাই শুধু ঝড়ের ক্ষতচিহ্ন নয়, ভেসে বেড়াচ্ছে এক গভীর সাংস্কৃতিক শূন্যতার দীর্ঘশ্বাস।

 

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

পাল্টে যাচ্ছে দেশের অর্থবছর, কার্যকর ২০২৮-২৯ থেকে

নেপাল সেনাবাহিনীর সম্মানসূচক জেনারেল পদ পেলেন ভারতের সেনাপ্রধান

নারীদের নিরাপদ যাতায়াতে ‘পিংক বাস’ উদ্বোধন

রেড কার্পেটে অভিনেত্রীকে ভক্তের জোরপূর্বক চুমু

দুদকের নতুন চেয়ারম্যান বিচারপতি আসাদুজ্জামান, প্রজ্ঞাপন জারি

লিবিয়ায় বন্দি থাকা আরও ১৭৪ বাংলাদেশি দেশে ফিরলেন

বাংলাদেশ এখন যেকোনো দলকে হারাতে পারে: হাসান মাহমুদ

প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে স্পিকারের আসনের ঠিক পেছনের দেয়ালে কালেমা তাইয়্যেবা স্থাপন

শিবগঞ্জে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ২ যুবকের মৃত্যু

যে সব খাবার ও পানীয় হারাম

১০

৩ দিনেই ১০০ কোটির ক্লাবে ইমরান হাশমির ‘আওয়ারাপান টু’

১১

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় আজ বিকেল ৪টা

১২

দেশের সব মহাসড়কে ‘অটো ফাইন সিস্টেম’ চালুর ঘোষণা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

১৩

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য ‘অতীব জরুরি’ নির্দেশনা, স্কুল-কলেজে চিঠি

১৪

বিক্রি শেষ ম্যাকাই টেস্টের প্রথম দিনের সব টিকিট

১৫

চার দেশের বাংলাদেশি প্রবাসীদের জন্য সতর্কবার্তা

১৬

ইমরান খানের চোখের অবস্থা প্রায় স্বাভাবিক, আদালতকে জানাল কারা কর্তৃপক্ষ

১৭

প্রবাসীদের জন্য শিথিল হচ্ছে এনআইডি সংশোধনের নিয়ম

১৮

ঢাকাসহ ১৩ জেলায় ৬০ কিমি বেগে ঝড়ো হাওয়ার শঙ্কা

১৯

ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কোন্নয়নে গলার কাঁটা শেখ হাসিনা

২০
error: Content is protected !!