
ডেস্ক রিপোর্ট: সাতক্ষীরার তালা উপজেলার ইসলামকাটি ইউনিয়ন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের নবম ও দশম শ্রেণীর ১৩ ছাত্রীর বাল্যবিবাহের ঘটনা ঘটেছে। অল্প সময়ের ব্যবধানে একই বিদ্যালয়ের এতো সংখ্যক ছাত্রীর বাল্যবিবাহের ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
বাল্যবিবাহের ঘটনার সত্যতা পেয়ে বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জান্নাতুল আফরোজ স্বর্ণার কার্যালয়ে তলব করা হয়।
সেখানে হাজির হয়ে অভিভাবকেরা অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের বিয়ের বিষয়টি স্বীকার করেন। পরে মুচলেকা দিয়ে শিক্ষার্থীদের পুনরায় স্কুলে ফেরত পাঠানো এবং ১৮ বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত তাদের বাবার বাড়িতে রাখার অঙ্গীকার করেন পরিবারগুলো।
এ বিষয়ে সাতক্ষীরা জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক নাজমুন নাহার জানান, ইসলামকাটি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর পাঁচজন এবং দশম শ্রেণীর ছয়জন ছাত্রীর বাল্যবিয়ে হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়। পরবর্তীতে তদন্তকালে একই বিদ্যালয়ের আরও দুই ছাত্রীর বিয়ের বিষয়টি জানা যায়। পরে সাতক্ষীরা জেলা বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ কমিটির সদস্য সাকিবুর রহমান বাবলার এক লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত পরিচালনা করে বাল্যবিবাহের শিকার কিশোরী এবং তাদের অভিভাবকদের উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে তলব করা হয়।
সাতক্ষীরা জেলা বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ কমিটির সদস্য সাকিবুর রহমান বাবলা জানান, গত ৩১ আগস্ট তিনি ওই বিদ্যালয়ে গিয়ে ১১ জন শিক্ষার্থীর বাল্যবিয়ের বিষয়টি জানতে পারেন। পরবর্তীতে শিক্ষকদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করে জেলা প্রশাসক ও মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেন তিনি।
তালা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) জান্নাতুল আফরোজ স্বর্ণা বলেন, অভিভাবকদের স্বীকারোক্তির পর শিক্ষার্থীদের পড়ালেখা চালিয়ে নেওয়া এবং প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার আগে বাবার বাড়িতে রাখার বিষয়ে মুচলেকা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি এই শিক্ষার্থীদের নিয়মিত খোঁজখবর ও তদারকির জন্য বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, অভিভাবকরা এই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে তাদের কঠোর আইনের আওতায় আনা হবে। এছাড়া, উপজেলার সকল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সচেতন থাকতে চিঠি পাঠানো হচ্ছে।
মন্তব্য করুন