
পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি: খুলনার পাইকগাছা উপজেলার খড়িয়া নবারুণ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দীপক চন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে দ্বৈত নাগরিকত্বসহ বিভিন্ন অভিযোগের তদন্ত নিয়ে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে ইতোমধ্যে পৃথক তিনটি সরকারি দপ্তরের তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে দুটি তদন্তে প্রধান শিক্ষকের ভারতীয় নাগরিকত্বের বিষয়ে প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে অভিযোগকারী পক্ষের দাবি। অপর তদন্তের ক্ষেত্রে ভারতীয় হাইকমিশনের কাছ থেকে তথ্য পাওয়ার পর বিষয়টি চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, খড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা প্রকাশ চন্দ্র সরকার প্রধান শিক্ষক দীপক চন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে দ্বৈত নাগরিকত্বসহ বিভিন্ন অভিযোগ এনে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে একাধিক পর্যায়ে তদন্ত শুরু হয়।
এর মধ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয় এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা, খুলনা অঞ্চলের ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালকের কার্যালয়ে তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে।
অভিযোগকারী পক্ষের দাবি, গত ১৬ আগস্ট অনুষ্ঠিত তদন্তে প্রধান শিক্ষকের ভারতীয় নাগরিকত্বের বিষয়ে তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়।
তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ না হওয়ায় দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা এখনো সরকারি পর্যায়ে নিশ্চিত হয়নি।
সর্বশেষ গত ৭ সেপ্টেম্বর মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মাধ্যমিক শাখার পরিচালক অধ্যাপক মো. সাখাওয়াত হোসেন খানের সভাপতিত্বে অভিযোগটির বিষয়ে আরেক দফা তদন্ত অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান শিক্ষক দীপক চন্দ্র সরকার, অভিযোগকারী প্রকাশ চন্দ্র সরকার এবং মাউশির বিভিন্ন শাখার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে। তদন্ত শেষে মাউশির উপপরিচালক মো. জাকির হোসেন বলেন, উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনেছি। প্রত্যেকেই নিজেদের পক্ষে বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি জানান, প্রধান শিক্ষকের নাগরিকত্বের বিষয়টি নিশ্চিত হতে ভারতীয় হাইকমিশনের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হবে। ওই তথ্য পাওয়ার পরই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
অভিযোগকারী প্রকাশ চন্দ্র সরকার বলেন, প্রধান শিক্ষক দীপক চন্দ্র সরকার অনিয়ম-দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত। তাঁর দাবি, নিয়োগ-বাণিজ্যের মাধ্যমে অর্জিত অর্থ দিয়ে প্রধান শিক্ষক ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার বড়শুল এলাকায় বাড়িঘর করেছেন। এসব অভিযোগের তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করেছেন বলে জানান।
অন্যদিকে, অভিযোগ অস্বীকার করে প্রধান শিক্ষক দীপক চন্দ্র সরকার বলেন, আমি ভারতের নাগরিক নই। তাঁর দাবি, অভিযোগকারী জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন নথি তৈরি করে এসব অভিযোগ করেছেন।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে তদন্তের পাশাপাশি নথিপত্র ও সংশ্লিষ্ট তথ্য পর্যালোচনা করা হচ্ছে। বিশেষ করে ভারতীয় নাগরিকত্বের অভিযোগের বিষয়ে ভারতীয় হাইকমিশনের কাছ থেকে তথ্য পাওয়ার পর বিষয়টি স্পষ্ট হবে। এরপর তদন্তে পাওয়া তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে প্রধান শিক্ষক দীপক চন্দ্র সরকারের নাগরিকত্বসহ অন্যান্য অভিযোগের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

মন্তব্য করুন