
পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি: খুলনার পাইকগাছা উপজেলায় ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় ফলাফল বিপর্যয় ঘটেছে।
উপজেলার কলেজগুলোর মধ্যে পাসের হারে এগিয়ে রয়েছে ফসিয়ার রহমান মহিলা কলেজ। অন্যদিকে সর্বনিম্ন পাসের হার সরদার আবু হোসেন কলেজের। প্রতিষ্ঠানটি থেকে মাত্র একজন শিক্ষার্থী পাস করেছে।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) প্রকাশিত ফলাফল বিশ্লেষণে এ চিত্র পাওয়া গেছে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ফসিয়ার রহমান মহিলা কলেজ থেকে এবার ১২৯ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ৭৪ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬ জন। পাসের হার ৫৭ দশমিক ৩৬ শতাংশ।
লক্ষীখোলা কলেজিয়েট স্কুল থেকে ১৪৭ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছে ৭৯ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৮ জন। পাসের হার ৫৩ দশমিক ৭৪ শতাংশ।
কপিলমুনি কলেজ থেকে ৩৪৪ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে ১৪২ জন। অনুত্তীর্ণ হয়েছে ২০২ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬ জন। পাসের হার ৪১ দশমিক ২৮ শতাংশ।
হরিঢালী-কপিলমুনি মহিলা কলেজ থেকে ৬৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ২৪ জন। ফেল করেছে ৪৩ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ জন। পাসের হার ৩৫ দশমিক ৮২ শতাংশ।
আর.কে.বি.কে হরিশচন্দ্র কলেজিয়েট স্কুল থেকে ৪৩৫ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছে ১২৮ জন। অনুত্তীর্ণ হয়েছে ৩০৭ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ জন। পাসের হার ২৯ দশমিক ৪৩ শতাংশ।
পাইকগাছা সরকারি কলেজ থেকে ৩০৯ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে ৮৯ জন। ফেল করেছে ২২০ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ জন। পাসের হার ২৮ দশমিক ৮০ শতাংশ।
এছাড়া কালিনগর কলেজ থেকে ৭৪ জনের মধ্যে ১৪ জন পাস করেছে। পাসের হার ১৮ দশমিক ৯২ শতাংশ।
চাঁদখালী কলেজ থেকে ৫৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে মাত্র ৮ জন। পাসের হার ১৩ দশমিক ৫৬ শতাংশ।
শহীদ আয়ুব ও মুছা মেমোরিয়াল ডিগ্রি কলেজ থেকে ২৬৬ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছে ৩৪ জন। অনুত্তীর্ণ হয়েছে ২৩২ জন। পাসের হার ১২ দশমিক ৭৮ শতাংশ।
অন্যদিকে, সরদার আবু হোসেন কলেজ থেকে ৩০ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছে মাত্র একজন। বাকি ২৯ জনই অনুত্তীর্ণ হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার মাত্র ৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সরদার আবু হোসেন কলেজে নিয়মিত শিক্ষার্থী নেই বললেই চলে। বছর শেষে ধার দেনা করে শিক্ষার্থী সংগ্রহ করে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করানো হয়। এ কারণে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার পরিবেশ ও মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সংশ্লিষ্ট ফলাফল পর্যালোচনায় দেখা যায়, উপজেলার অধিকাংশ কলেজেই পাসের হার আশাব্যঞ্জক নয়। বিশেষ করে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে পাসের হার ২০ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। এতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর পাঠদান কার্যক্রম, শিক্ষার পরিবেশ, শিক্ষকদের দায়িত্বশীলতা ও সার্বিক তদারকি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
সর্বোপরি, শিক্ষার মানোন্নয়নে এখনই কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা না হলে আগামী দিনগুলোতে এ পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

মন্তব্য করুন