
কালিগঞ্জ প্রতিনিধি: নলতা কেন্দ্রীয় আহ্ছানিয়া মিশনের অধীনস্থ আহছানিয়া পাবলিক লাইব্রেরির বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
একই সঙ্গে পাঠ ও রচনা প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার ও সম্মাননা সনদ প্রদান করা হয়।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকাল ১০টায় নলতা কেন্দ্রীয় আহ্ছানিয়া মিশনের মিলনায়তনে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
আহছানিয়া পাবলিক লাইব্রেরির সম্পাদক ও শিক্ষক আবুল ফজলের সঞ্চালনায় এবং আহ্ছানিয়া মিশনের সহ-সভাপতি মো. সাইদুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কালিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানিয়া আক্তার।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মিশনের কর্মকর্তা আমজেদ চৌধুরী, মো. মালেকুজ্জামান, এনামুল হক, মো. রবিউল হক, মো. হাসানুজ্জামান, মো. এনায়েত, শিক্ষক মশিউর রহমান, শিক্ষক আব্দুল মুঈদ, শিক্ষক মো. আনোয়ারুল হক, শিক্ষক মো. মাহবুবুন্নবী খান, সাংবাদিক মো. রফিকুল ইসলাম, আবুল কালাম বিন আকবার, হাসানুজ্জামান দিপু, মনিরুজ্জামান প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানিয়া আক্তার বলেন, অনুষ্ঠানে আসার আগে আমি আহছানিয়া পাবলিক লাইব্রেরি পরিদর্শন করেছি। সেখানে দুর্লভ বইসহ বিভিন্ন সমৃদ্ধ সংগ্রহ দেখে আমি অভিভূত হয়েছি। বর্তমান সময়ের প্রয়োজনীয় বইয়ের পাশাপাশি অনেক পুরোনো ও মূল্যবান বইও সেখানে সংরক্ষিত রয়েছে। লাইব্রেরির প্রতিটি অংশ ঘুরে দেখেছি এবং এর জ্ঞানভিত্তিক পরিবেশ আমাকে মুগ্ধ করেছে।
তিনি আরও বলেন, একটি সমৃদ্ধ লাইব্রেরি একটি আলোকিত সমাজ গঠনের অন্যতম ভিত্তি। বর্তমান প্রজন্মকে মোবাইল ও প্রযুক্তিনির্ভরতা থেকে বইমুখী করতে এ ধরনের পাঠাগারের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আহছানিয়া পাবলিক লাইব্রেরির ঐতিহ্য ও বইয়ের সংগ্রহ সংরক্ষণের পাশাপাশি এর আধুনিকায়ন, পাঠকসেবা সম্প্রসারণ এবং শিশু-কিশোর ও শিক্ষার্থীদের জন্য নিয়মিত পাঠচর্চার পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষানুরাগী, সুধীজন ও সমাজের বিত্তবান ব্যক্তিদের এগিয়ে আসা উচিত। তিনি লাইব্রেরির উন্নয়ন ও সম্প্রসারণে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন এবং ভবিষ্যতে এ প্রতিষ্ঠানকে আরও সমৃদ্ধ ও প্রাণবন্ত পাঠকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
উল্লেখ্য, গত ১৫ আগস্ট সকালে আহছানিয়া পাবলিক লাইব্রেরির উদ্যোগে নলতায় শিক্ষার্থীদের নিয়ে বিশেষ পাঠ ও রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। এতে বিভিন্ন শ্রেণি ও স্তরের মোট ৭১ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। প্রতিযোগিতায় তিনটি স্তরের প্রত্যেকটিতে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি সকল অংশগ্রহণকারীর হাতে সম্মাননা সনদ ও পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।

মন্তব্য করুন